প্রবাসীদের বাংলাদেশে না ফেরার পরামর্শ আজহারীর

প্রাণ’ঘাতী করোনভাইরাসের তা’ন্ডবের মধ্যে প্রবাসীদের বাংলাদেশে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি এ পরামর্শ দেন। আজহারী বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। জীবিকা উপার্জনের জন্য দেশের বহু ভাইদের বিদেশে থাকতে হয়। তাই প্রিয় প্রবাসী ভাইদের বলব-আপনারা হুড়োহুড়ি করে তাড়াহুড়ো করে প্রবাস থেকে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন না।

আপনাদের জন্য আমার বিনীত পরামর্শ হচ্ছে-আপনাদের ইমার্জেন্সি কোনো কারণ না থাকলে যে যে দেশে আছেন সে সে দেশেই থাকুন। তিনি বলেন, ওইসব দেশের সরকার আপনাদের যে পরামর্শ দিচ্ছে সেগুলো মেনে চলুন। সেসব দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলুন। দেশে আসার জন্য হুড়োহুড়ি করবেন না। আজহারী আরও বলেন, আল্লাহ না করুক যদি আপনার মাঝে যদি এই ভাইরাস পাওয়াও যায়,

আশা করি অন্যান্য দেশে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। কাজেই যে দেশে আছেন সেখানে সাবধানে থাকুন, নিরাপদ স্থানে থাকুন। করোনাভাইরাসে মুমিন ব্যক্তির মৃ’ত্যু হলে তিনি শহীদের মর্যাদা পাবেন বলে জানিয়েছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। করোনা নিয়ে সচেতন করতে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন আজহারী। শহীদ হওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি একটি হাদিসকে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এসময় তিনি মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বলের একটি হাদিস পড়ে শোনান।

আজহারী বলেন, আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘কোনো বিশ্বাসী ব্যক্তি যদি মহামারিতে আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা তাহলে এটা সাধারণ মৃ’ত্যু নয়। এটা হবে শাহাদাতের মৃ’ত্যু। এই মহামারি হলো আমার উম্মতের জন্য শাহাদাতের মর্যাদা। এটা তাদের জন্য রহমত।’ তিনি বলেন, আমরা সুস্থ থাকার চেষ্টা করব। তবে এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে কেউ যদি মা’রাও যায় তাহলে মুমিনের জন্য এটা শাহাদাতের মৃ’ত্যু।

আলোচিত ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, এই করোনা হচ্ছে আল্লাহর সৈনিক। আল্লাহ সব সময় ধরে না। ধরলে আবার ছাড়ে না। জলে-স্থলে ভূমিকম্প, ভূমিধস, মহামারী– এগুলো যা হচ্ছে সব আমাদের হাতের কামাই। সম্প্রতি মালয়েশিয়াতে এক তাফসির মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। আজহারী বলেন, মাঝমধ্যে আল্লাহ ভাইরাস পাঠান। কিছু দিন আগে সার্সভাইরাস পাঠিয়েছিলেন।

সার্স যেতে না যেতেই এখন পাঠিয়েছে করোনা। কিছু দিন আগে বাংলাদেশে ছিল ডেঙ্গু। হঠাৎ করে দেখবেন আবার ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন। আল্লাহ এগুলো দিয়ে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন, ভালো হওয়ার জন্য। নাফরমানি ছেড়ে দেয়ার জন্য। এক আল্লাহর দাসত্ব ও ইবাদত করার জন্য। করোনার কারণে ইরানে বি’পর্যয় নেমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাউথ কোরিয়া ও ইতালিতেও বিপর্যয় নেমে এসেছে।

হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত। আলোচিত এ ইসলামী বক্তা আরও বলেন, আল্লাহ, তুমি করোনা থেকে বাঁচাও-এটা বলার জন্য কাবাঘরে গিয়ে চোখের পানি ছাড়ব; এটারও সুযোগ নেই। কাবাঘর বন্ধ। তাওয়াফের সুযোগ নেই। আমরা যদি নাফরমানি বন্ধ করে দিতাম, আল্লাহর গোলামের মতো গোলাম হতে পারতাম, তা হলে রহমত আর বরকতে গোটা বিশ্ব ভরিয়ে দিতেন আল্লাহ। মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের যে কাজে আজহারীর এক দিনে দুই মাহফিল>>>

আগামী ১৫ই মার্চ একই দিনে ২টি মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়া প্রবাসীদের চাহিদা ও আজহারীর প্রতি প্রবল ভালোবাসা ও আজহারী ইসলামিক বয়ানের তুমুল জনপ্রিয়তার কারণেই তিনি নিজের কাজে ব্যস্ত থাকা সত্বেও এসব মাহফিলে যোগ দিচ্ছেন। হযরত মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর প্রথম মাহফিল টি অনুষ্ঠিত হবে মাসজিদ জামেক সুলতান আব্দুল আজিজ প্রাঙ্গণে।

মালয়েশিয়া প্রবাসীরা কিভাবে সরাসরি গ্রাব কারে যেতে হলে Masjid jamek sultan abdul aziz লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন কাংখিত ঠিকানা। অথবা যারা অন্যান্য উপায়ে যেতে চান তার নিম্নের ঠিকানা Lorong 3/69G, &, Jalan Templer, Seksyen 3, 46000 Petaling Jaya, Selangor, Malaysia অনুসরণ করে পৌছে যেতে পারেন মাহফিল অনুষ্ঠানে। মসজিদ জামেক সুলতান আব্দুল আজিজ এর

এই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হবে বাদ আসর বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত চলবে। এই মাহফিল শেষ করার সাথে সাথে তিনি ছুটে যাবেন ২য় তাফসিরে মাহফিল অনুষ্ঠানে যা মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের কাজাং এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। কাজাং বুকিত আংকাত জামে মসজিদে বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হবে। এই মাহফিলে যোগ দিতে হলে কুয়ালালামপুর এম আর টি অথবা কে টি এম ট্রেনে উঠে কাজাং স্টেশনে নেমে গ্রাব অথবা ট্যাক্সি নিয়ে যেতে পারবেন।

কাজাং স্টেশনে সব সময় গ্রাব কার ও ট্যাক্সী পাওয়া যায়। গত রবিবার ৮ই মার্চ কুয়ালালামপুরের উইজমা কনভেনশন হলে মিজানুর রহমান আজহারীর তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভবনের সামনে সকাল থেকে প্রবাসীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই টোকেন পেয়েও প্রবেশ করতে পারেন নি। স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে শত শত প্রবাসী ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

তাদেরকে উদ্দেশ্য করে আজহারী বলেছেন আগামী মালয়েশিয়ায় মাহফিল আরও করবেন যাতে কেউ নিরাশ না হতে পারে। সম্প্রতি প্রবাসী ও তরুন তরূণীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী। বাংলাদেশে তাফসীর মাহফিলের মৌসুমে একের পর এক মাহফিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দেন সারাদেশে।

লক্ষ লক্ষ মুসলিম জনতার উপস্থিতি একরকম হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল সারাদেশে। প্রতিটি মাহফিলে তিল ধারনের জায়গা টুকুও ফাঁকা ছিলনা। তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে নির্দিষ্ট একটি সমাজের হিংসার কারণে দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় ফেরত যেতে বাধ্য হন তিনি। মালয়েশিয়া যাওয়ার পর বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সংবর্ধনায় তিনি সিক্ত হয়েছেন। মালয়েশিয়ার যাওয়ার পরও অন্যের গাড়ি নিয়ে ছবি প্রকাশ করার কারণে আবারও সমালোচনার শিকার হন তিনি। মালয়েশিয়ায় নিজের পিএইচডি গবেষণার পাশাপাশি একের পর মাহফিলে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের বেশিরভাগ অংশই তাকে বক্তা হিসেবে খুবই পছন্দ করেন সেটা গত সপ্তাহের মাহফিল অনুষ্ঠানেই লক্ষ্য করা গেছে।