ভিসির একদিনের চায়ের বিল ৪০ হাজার টাকা ।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফেসবুকে লেখার জেরে ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বশেমুরবিপ্রবির ক্যাম্পাস।

ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি, বাজেটের অর্থ আত্মসাৎসহ বিশ্বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গ্রামবাসীর সঙ্গে ছাত্রদের এক বিরোধের সময় ছয়-সাতজনকে চা আপ্যায়ন বাবদ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন ভিসি!

শনিবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীদের ফোরাম। ওই সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সম্রাট বিশ্বাস অভিযোগ করেন, বশেমুরবিপ্রবির ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিন দুর্নীতিবাজ ও বিভিন্ন লুটপাটসহ নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত।

তার এসব দুর্নীতি নিয়ে যে শিক্ষার্থীই মুখ খুলেছেন তাকেই বহিষ্কার করেছেন ভিসি। ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে এ ম্যুরাল এখনো তৈরিই হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো ম্যুরালের অস্তিত্ব নেই।

সম্রাট বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন, গ্রামবাসীর সঙ্গে ছাত্রদের বিরোধের সময় ছয়-সাতজনকে চা আপ্যায়ন বাবদ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। একইভাবে ছাত্রকল্যাণ ফান্ড থেকে এক লাখ টাকা অ্যাপায়ন বিল দেখানো হয়েছে।

ভারতের হায়দরাবাদ থেকে গাছ আনার কথা বলে ভিসি যশোর থেকে এনেছেন বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদ সম্মেলনে। কোনো শিক্ষার্থী এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়েই খুলনার মেধাবী ছাত্র অর্ঘ্য আত্মহত্যা করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে সম্রাট বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন, ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিন নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বণিজ্য, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাট, ভিসি কোটা চালু, নারী কেলেঙ্কারি ও ভিসির বাসায় বিউটি পার্লার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত।

আরো পড়ুন… সারোয়ার আলম। র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব এর সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিনি। বিভিন্ন অনিয়ম খাদ্য, ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের গুণগত মান ও ভেজাল এবং মেয়াদ, হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, অতিরিক্ত ফি নেয়াসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দেশের মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ঢাকার ফকিরাপুলে একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানোর পর নায়ক বনে যান সারোয়ার। এ অভিযানের জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ সব জায়গায়ই প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

বুধবার ওই ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে ১৪২ জনকে আটক করে র‍্যাব। এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সারোয়ার আলম। ওইদিনই ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। খালেদ ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এদিকে, আজ শুক্রবারও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দেয়া জি কে শামীমের নিকেতনের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। এ অভিযানের নেতৃত্বেও ছিলেন সারোয়ার আলম।

শামীমের বাসা থেকে থেকে ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআরের নথি, নগদ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, অস্ত্র, বিদেশি মুদ্রা, মদ, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক জব্দ করা হয়। এদিকে, জি কে শামীমকেও আটক করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আট বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ গবাদি পশুর বিভিন্ন ভ্যাকসিন, এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরণের ওষুধ রিপ্যাক করে বিক্রয় করায় সম্প্রতি রাজধানীর ফকিরাপুলে এডভান্স এনিম্যাল সায়েন্স কোং লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয় জনকে ২ বছর করে কারাদণ্ড ও ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাব-২, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহযোগিতায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এছাড়া ১০ কোটি টাকা মূল্যের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও জব্দ করা হয়। এ অভিযানেও ছিলেন সারোয়ার আলম। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর কোনো না কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা কিংবা খাবারের দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন সারোয়ার আলম। একই সঙ্গে কিশোরদের মাদকসেবন থেকে শুরু করে রাজধানীতে ঘটা নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সমানতালে অভিযান চালাচ্ছেন তিনি।

এদিকে, সারোয়ার আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। অনেকে এ পোস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে সারোয়ার আলমের প্রশংসা করছেন।

ভাইরাল হওয়া পোষ্ট- র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম, আপনি এই শতাব্দির শ্রেষ্ঠ জীবিত কিংবদন্তী। আপনি ভীনগ্রহে থেকে ছুটে আসা দুর্নীতিতে ডুবে যাওয়া সুড়ঙ্গের শেষ আলো। গ্রীক বীর হারকিউলিসের চেয়েও শক্তিশালী ও সাহসী। আপনি রুপকথার শেষ যুবরাজ।

প্রতিটি দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নেপথ্যের নায়ককে খুঁজতে গেলেই আপনার নাম দেখি, আপনি ওয়ান ম্যান আর্মি। ক্যাসিনো ধরার মত সাহসীকে খুঁজতে গিয়েও দেখি আপনি।

স্যার, আপনাকে শ্রদ্ধা জানানোর ভাষা আমি শিখিনি। আপনি অন্ততপক্ষে ১০০ বছর বেঁচে থাকুন। কাউকে আয়ু ধার দেয়ার বিধান থাকলে আপনাকে আমার এই মধ্য বয়স থেকেও কিছুদিনের আয়ু ধার দিতাম। আপনি বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে। আপনার প্রতি স্নেহ, প্রীতি, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। ভালোবাসা অবিরাম স্যার।