মালয়েশিয়ায় করোনা ভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত ৫৬৬ জন, বুধবার থেকে চলাচলে বি’ধিনিষেধ

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা মালয়েশিয়াতেও বাড়ছে। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে দেশটিতে চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে এবং ৩১ মার্চ পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে। সোমবার রাতে এই ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। এর আগে সোমবার মালয়েশীয় রাজার ডিক্রি বলে শুক্রবারের জুমার নামাজ বাতিল করা হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার এখবর জানিয়েছে।

টেলিভিশনে দেওয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ মার্চ থেকে সরকার চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে তা কার্যকর থাকবে।মুহিউদ্দিন বলেন, আমি আশা করি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনারা ধৈর্য্য ধরবেন। আতঙ্কিত হবেন না, উদ্বিগ্ন হবেন না এবং শান্ত থাকুন। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ভাইরাসের বিস্তার মোকাবিলা করতে পারবে।

সবাইকে সরকারের এই নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। খাবার ও ওষুধসহ ফেস মাস্কের সরবরাহ যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে।এই নির্দেশের আওতায় ধর্মীয়, খেলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ সব ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবগুলো ধর্মীয় উপাসনালয় ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। খোলা থাকবে শুধু সুপারমার্কেট, মার্কেট, খুচরা বাজার ও মুদির দোকান।

পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, ডাক, পরিবহন, তেল ও গ্যাস, সম্প্রচার, ফিন্যান্স, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মেসি, দমকল, কারাগার, বন্দর, বিমানবন্দর, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও খাবার সরবরাহের মতো জরুরি সেবা বাদে সবগুলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া দেশটির কোনও নাগরিক বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। বিদেশ থেকে যারা ফিরবেন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বেচ্ছা-বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে ১৪ দিন।

বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সবগুলো স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।১৬ মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬৬ জন। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। করোনা আ’ক্রান্তদের নামাজ-জামাআতে অংশগ্রহণে সৌদি আলেমদের সিদ্ধান্ত>>>

সৌদি আরবে ক’রোনাভা’ইরাসেে আ’ক্রান্ত রো’গীদের নামাজের জামাআত ও জুমআর নামাজে অংশগ্রহণ নিয়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় আলেমরা বিশেষ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ২ মার্চ থেকে সাময়িকভাবে পবিত্র ওমরাহ পালনও বন্ধ রেখেছে দেশটি। সম্প্রতি ম’হামা’রি করোনার বিস্তার রোধে নামাজের জামাআত ও জুমআয় অংশগ্রহণে আ’ক্রান্তদের ব্যাপারে তিনটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে সৌদির শীর্ষস্থানীয় আলেমরা।

সৌদি আরবে ক’রোনাভা’ইরাসেে আ’ক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃ’দ্ধি পাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী রিয়াদের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ২৪তম বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে এ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো- ম’হামা’রি ক’রোনাভা’ইরাসেে আ’ক্রান্তদের জন্য শুক্রবার জুমআর নামাজ এবং অন্যান্য ওয়াক্ত মসজিদে গিয়ে জামাআতে অংশগ্রহণ নি’ষিদ্ধ। যদি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে

আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত দেয় তবে সে তা মেনে চলতে বা’ধ্য থাকবে। সে জামাআতে নামাজ ও জুমআর নামাজে অংশগ্রহণে মসজিদে যাবে না বরং নিজ বাড়িতে বা পৃথক কোনো জায়গায় নামাজ পড়বে। যদি কেউ আ’শঙ্কা করে যে তার দ্বারা অন্য কারও ক্ষ’তি হতে পারে কিংবা সে কারো দ্বারা ক্ষ’তিগ্রস্ত হতে পারে; তবে তার জন্য জুমআর নামাজসহ অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ জামাআতে পড়া থেকে বিরত থাকার সুযোগ রয়েছে।

ওলামা কাউন্সিলের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা করোনা আ’ক্রান্তদের জুমআর নামাজের পরিবর্তে চার রাকাআত জোহরের ফরজ আদায় করার রায় প্রদান করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অধিবেশনে ম’হামা’রি ও তার বিস্তাররোধ জুমআর নামাজের জামাআত ও অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজের জামাআতে অংশগ্রহণ সম্পর্কে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওলামাদের এ অধিবেশনে ইসলামি শরিয়তের বিধান, উদ্দেশ্য,

রীতিনীতি এবং এ বি’ষয়ে প্রজ্ঞাবান আলেমদের বক্তব্যের ও’পর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্তগুলো দেয়া হয়। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে সৃষ্ট ক’রোনাভা’ইরাসে বিশ্বের ১২৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ভ’য়াবহ ক’রোনাভা’ইরাসেকে ম’হামা’রি ঘোষণা করেছে। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত প্রা’ণ হা’রিয়েছে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রা’ণঘা’তী এই ভাইরাসের আ’ক্রমণকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুরো বিশ্ব।

ভাইরাস আ’তঙ্কে বিশ্বের অনেক মসজিদে জুমআসহ জামাআতে নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে। কাবা শরিফের মূল মাতআফে বন্ধ রয়েছে তাওয়াফ। মক্কা ও মদিনায় ১৫ মিনিট জুমআ আদা’য়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবার তিন নির্দেশনা জারি করল সৌদি আরবের শীর্ষ ওলামা কাউন্সিল। প্রা’ণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে খাবারের দোকান ও ফার্মেসি ছাড়া সব শপিং মল ব’ন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি সরকার।

রোববার (১৫ মার্চ) দেশটির সরকার এ নির্দেশ দেয়। তবে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতে খাবার পরিবেশন নিষিদ্ধ করলেও বাইরে খাবার সরবারহের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সৌদি আরবের বন্দরনগরী জেদ্দার অন্যতম শপিং সেন্টার খারেস সাওয়ারিখের বিভিন্ন মলের কর্তৃপক্ষের কাছে রোববার মাগরিবের পর থেকে নোটিশ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। সৌদি আরবে বিয়েসহ সকল জনসমাবেশ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য শপিং মলগুলোর ভেতর ও বাইরে বিনোদনমূলক এবং খেলাধুলার জায়গাগুলো অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৬৭ হাজারন ৫৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। এতে মৃ’ত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৪৫৫ জনের। এ পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এদিকে করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ২৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এতে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত্রে মৃ;ত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আরও ১৪ জনের মৃ;ত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে দেশটিতে করোনা সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেল ৩৫ জনের। আর এতে যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭২। চীনের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ইউরোপের দেশ ইতালিতে। সেখানে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার ৭৪৭ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর করোনায় মৃ;ত্যু হয়েছে। ১ হাজার ৮০৯ জনের। ইউরোপে করোনাভাইরাসে দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ স্পেন।

রোববার (১৫ মার্চ) পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৩ জন। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৫১৭ জন রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশটিতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৫৫ জনের মৃ;ত্যু হয়েছে। এ নিয়ে স্পেনে মৃ;তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯২ জনে।

স্পেনে করোনার প্রকোপ যেন বাড়তে না পারে সেজন্য ইতোমধ্যে লোকজনের চলাচলে বিধি- নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এদিকে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। এই জরুরি অবস্থা ১৫ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। খাবারের দোকান, ওষুধ, কর্মক্ষেত্র, হাসপাতাল বা জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না।সবাইকে বাড়িতেই অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।