হঠাৎ হাঁচি দিতে দিতে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃ’ত্যু, প্রবাসীদের মধ্যে শো’কের ছায়া

কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে বসা অবস্থায় হাঁচি দিতে থাকেন বাংলাদেশি প্রবাসী। এরইমধ্যে গু’রুতর অসুস্থ হয়ে মুহূর্তেই মৃ’ত্যু হয় তার। ঘটনাটি ঘটেছে ইতালির জেনেভা শহরে রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। অ’জ্ঞাত কারণে হঠাৎ মা’রা যাওয়া ওই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম – সেন্টু খলিফা। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তিনি শরীয়তপুর জেলার ভুমখারা গ্রামের শাহজাহান খলিফার ছেলে। এ বিষয়ে সেন্টুর বন্ধু সেলিম দেয়ান বলেন,

‘আমি প্রতি সপ্তাহে তার দোকানে আসা-যাওয়া করতাম। রোববার রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরেন সেন্টু। এরপর বসা অবস্থায় হাঁচি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুরুতর অসুস্থ পড়েন। এরপর তাৎক্ষণিক পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স এসে পরীক্ষা করে দেখেন তিনি মা’রা গেছেন।’ জানা গেছে, কীভাবে সেন্টুর মৃ’ত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন জেনেভার চিকিৎসকরা।এ বিষয়ে সেলিম বলেন, ‘সেন্টুর শ্বা’সকষ্ট আগে থেকেই ছিল।

তার মৃ’ত্যুর লক্ষণ অনেকটা করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্তের মতো। তবে তিনি করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কিনা তা নিশ্চিত নই আমরা। তার মৃ’ত্যু রহস্য জানতে ম’রদেহ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।সেন্টু দীর্ঘ নয় বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। তার অকাল মৃ’ত্যুতে ইতালি প্রবাসীদের মধ্যে শো’কের ছায়া নেমে এসেছে। ওমানে বাংলাদেশিদের ঘরে থাকার পরামর্শ>>>

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়া- সর্বত্রই গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে প্রায় ১ কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। একদিকে প্রাণঘাতী রোগের ভয়ে পরিবার নিয়ে থাকতে হচ্ছে শঙ্কায়, অন্যদিকে আয়-রোজগার বন্ধের পথে। দিন বা সপ্তাহভিত্তিক চাকরি করা প্রবাসীরা পড়েছে মহাবিপদে। শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৪৩৬ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৮।

এমতাবস্থায় এ ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ওমানের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবধরনের প্রতিষ্ঠান এক মাসের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এক মাসের জন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

সরকারি এই ঘোষণার পরিপ্রক্ষিতে সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয় (এসকিউ) জানিয়েছে, তারা ১৫ মার্চ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসকিউ’র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য এবং এর প্রয়োজনীয়তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাধ্যমে অবহিত করা হবে। শনিবার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওমানে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ জন।

যাদের মধ্যে ১৯ জনই ইরান ও ইতালি থেকে দেশে ফিরে আসা বাসিন্দা। এর মধ্যে আক্রান্ত ৯ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে ওমানে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী এখনও মারা যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির রয়্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রয়্যাল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর মৃ,ত্যু হয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত খবর

মিথ্যা ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রোগীরা নিবিড় যত্নে আছেন, স্থিতিশীল এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। চীনের উহান থেকে যে নতুন করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে তা প্রাণঘাতী রূপ এখন সবচেয়ে ভয়াবহ ইউরোপের দেশ ইতালিতে। সেখানকার সরকার গোটা দেশ অবরুদ্ধ করে রাখলেও গতকাল শুক্রবার ইতালিতে ভাইরাসটির সংক্রমণে রেকর্ড সর্বোচ্চ ২৫০ জনের মুত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড আড়াইশ জনের প্রাণহানি ঘটায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখন এখন এক হাজার ২৬৬ জন। এছাড়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৬০। অ’বৈধ ভাবে গ্রীসে যাওয়ার পথে নি’হত কুমিল্লার যুবক>>> লেবানন থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রীসে যাওয়ার পথে শ্বাসরু’দ্ধ হয়ে মা’রা গেছেন কুমিল্লার এক হতভাগ্য যুবক।

তার নাম মোঃ আবু সাঈদ রাসেল। সে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজে’লার বড় বামিশার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।তুরস্ক সীমান্ত থেকে একটি প্রাইভেটকারে পেছনের ডিকিতে করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাসেল রওনা দেন। পথেই শ্বাসরু’দ্ধ হয়ে সে মা’রা যায়। তার সাথে একইভাবে মা’রা যান আরো ২জন। তাদের বাড়ি সিলেটে। পু’লিশের মাধ্যমে গ্রীস সী’মান্তের কাছে একটি জঙ্গল থেকে তাদের লা’শ উ’দ্ধার করে গ্রীস দূতাবাস ও স্থানীয় যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

১৩ মার্চ তাদের ম’রদেহ সংর’ক্ষণের জন্য নিয়ে সংগ্রহ করা হয়। পরে এই তিন হতভাগ্যের ম’রদেহ দেশে পাঠানো হবে। এ ঘটনা জানার পর কুমিল্লায় তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজে’লার বড় বামিশা গ্রামের আবু সাঈদ রাসেল গত ৪ বছর ধরে লেবানন থাকতেন। সেখান থেকে দা’লালের মাধ্যমে গ্রীসে পাড়ি জমানোর চে’ষ্টা করেন।

প্যারিসের এক প্রবাসী জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাসেল ও অন্যরা একটি প্রাইভেট কারে করে রওয়ানা দেন। রাসেল ও সিলেটের নি’হত ২ জনকে প্রাইভেটকার পেছনের ডিকিতে নেওয়া হয়। গ্রীস সীমান্তের ৭৬ কিলোমিটার কাছে আসার পর প্রাইভেটকারের পেছনে ডিকিতে থাকা তিনজন শ্বাসক’ষ্টে চিৎকার করতে থাকেন এবং গাড়ির সিটে ও বডিতে আ’ঘাত করতে থাকেন।

কিন্তু চালক গাড়ি না নামিয়ে চলতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা মা’রা যায়। পরে গাড়ি চালক গাড়ি নামিয়ে রাস্তার পাশে জঙ্গলে তিন জনের লা’শ ফেলে যায়। গাড়িতে থাকা অন্যরা গ্রীসে পৌঁছে যায়।পরে নানাভাবে খবর ছ’ড়িয়ে পড়লে ঐ গাড়ি চালকের কাছ থেকে ঘটনাস্থলের নাম জেনে গ্রীস দূতাবাসের মাধ্যমে ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে স্থানীয় পু’লিশ লা’শ উ’দ্ধার করে। গ্রীস যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান জানান,

দূতাবাসের মাধ্যমে লা’শগুলো উ’দ্ধার করা হয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থাকে লা’শগুলো গ্রীসে নিয়ে আসার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।১৫ মা’র্চ সোমবার নাগাদ লা’শগুলো আনা হতে পারে। তারপর দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি তিনি তদারকি করছেন। নি’হত মোঃ আবু সাঈদ রাসেলের ছোটভাই হাফেজ বাহার মিয়া জানান, তার ভাই রাসেল মা’দ্রাসায় পড়াশুনা করেছে। গত চার বছর ধরে সে লেবাননে ছিল। সেখান থেকে গ্রীসে যেতে চেয়েছিল। গ্রীস দূতাবাস থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।