নি’ষেধাজ্ঞার পরও ইউরোপ থেকে ঢাকায় যাত্রী আনছে কাতার এয়ারওয়েজ

যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্য কোনও দেশ থেকে যাত্রী আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনেই ইউরোপ থেকে ৯৬ যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশে আসছে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট। এয়ারলাইন্সটির কিউআর-৬৩৪ ফ্লাইটটি ইতালির ৬৮জনসহ জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের ৯৬ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসছে। ফ্লাইটটি আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

বিমানবন্দরের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।এর আগে রবিবার (১৫ মার্চ) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিল, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লন্ডন বাদে ইউরোপ থেকে যাত্রী আনতে পারবে না কোনও এয়ারলাইন্স। যদি কোনও এয়ারলাইন্স এরপরও যাত্রী নিয়ে আসে তবে তাদের খরচেই ফেরত পাঠানো হবে।

এই ফ্লাইটের যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হবে কিনা জানতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ইউরোপ থেকে যাত্রী আনতে নিষেধ করেছিলাম। এই ফ্লাইটটি যাত্রী নিয়ে আসার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চায়, মন্ত্রণালয় অনুমতি দিয়েছে। সিভিল এভিয়েশন থেকে কাতার এয়ারওয়েজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

তাদের দেশের সিভিল এভিয়েশনকেও এ ব্যাপারে অসন্তোষের কথা জানাবো। এরপর আর কোনও ফ্লাইটকে কোনোভাবেই নামতে দেওয়া হবে না। এদিকে এই ফ্লাইটের ইউরোপীয় যাত্রীদের হজ ক্যাম্পে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। তিনি বলেন, তাদের হজ ক্যাম্পে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। তাদের উপসর্গ না থাকলে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

প্রা’ণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সোমবার দুপুরের পর থেকে ইউরোপের কোনো যাত্রীকে (যুক্তরাজ্য বাদে) বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বেবিচক জানিয়েছে, সোমবার দুপুরের পর ইউরোপের কোনো যাত্রী এলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন,

সোমবার দুপুর ১২টা থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্য কোনো দেশ থেকে কোনো যাত্রী বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলো যদি এসব দেশের যাত্রী নিয়ে আসেন, তাহলে তারা নিজ খরচে আবার ফেরত নেবেন। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে এক ঘোষণায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানান, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ইউরোপ ও করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে কেউ আসতে পারবেন না।

এছাড়া বাংলাদেশ সব ধরনের অন-অ্যারাইভাল ভি’সা ব’ন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ইউরোপ এবং সেসব এলাকায় করোনা আ’ক্রান্ত বেশি সেসব দেশের লোকদের দেশে আসা ব’ন্ধ, একমাত্র ইংল্যান্ড ছাড়া। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনই বর্তমানে সুস্থ। দুজন বাড়ি ফিরে গেছেন।

বিশ্বের শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটির সংক্রমণে কোভিড-১৯ রোগে আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুর সংখ্যা এখন ছয় হাজার ৩৬। আ’ক্রান্তের ঘটনা এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৮১। তবে আ’ক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ হাজার ৯৩৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহরে উহানের একটি সামুদ্রিক খাবার ও বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে উৎপত্তি হওয়া এ ভাইরাস এখন ইউরোপ ও আমেরিকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটিতে চীনে আক্রান্ত ও মৃ;;ত মানুষের হার কমতে থাকলেও এসব অঞ্চলে তা লাফিয়ে বাড়ছে। চীনের উহান থেকে যে নতুন করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে তা প্রা;ণঘাতী রূপ এখন সবচেয়ে ভ;য়াবহ ইউরোপের দেশ ইতালিতে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃ;;ত্যুর সংখ্যা এখন এখন এক হাজার ৪৪১ জন। আরব আমিরাত ১৭মার্চ হতে সকল ধরণের ভিসা দেওয়া ব’ন্ধ করে দিবে>>>

সংযুক্ত আরব আমিরাত আগামী ১৭ মার্চ হতে কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের বাদে সমস্ত বিদেশিদের সব ধরণের ভিসা প্রদান স্থ’গিত করেছে । আজ প্রকাশিত এক বিবৃ’তিতে ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইসিএ) বলেছে: “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড ১৯- ম’হামারী মো’কাবেলায় প্রতিক্রিয়া হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃক গৃহীত সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসাবে এই পদক্ষেপ এসেছে ।

যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণের উপর উচ্চ ঝুঁ’কিকে প্রতিফলিত করে। ” পূর্বনির্ধারিত তারিখের আগে যাদের ভিসা ইতোমধ্যে জা’রি করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি প্রযোজ্য নয় । আইসিএ উল্লেখ করেছে এই করোনা ভাই’রাসের বিস্তার রোধে বিশ্বের সকল জাতির সাধারণ ভালোর জন্য গৃহীত অন্যান্য বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থার অংশ হিসাবে প্রস্থানকারী দেশগুলিতে চিকিত্সা বা পরীক্ষার ব্যবস্থা স্থাপন না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত স’তর্কতামূলক জারি বজায় থাকবে ।

বিবৃতিতে উপসংহারে বলা হয়েছে, “আইসিএ নিশ্চিত করেছে যে করোনভাইরাস মহামারী মোকাবেলা করতে এবং এই চলমান সংকট থেকে বাঁচতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গভীর দায়বদ্ধতা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির সহযোগিতায় আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এই চলমান সংকট থেকে বাঁচার জন্য এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক করোন ভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের এবং সংস্থাগুলির সংকট কাটিয়ে উঠতে,

খুচরা গ্রাহকদের এবং কর্পোরেশনগুলিকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য 100 বিলিয়ন দিরহামের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। লক্ষ্যবস্তু অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্পটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচালিত সমস্ত ব্যাংকের শূন্য খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল থেকে ৫০ বিলিয়ন এবং ব্যাংকের মূলধন বাফার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ৫০ বিলিয়ন তহবিল সমন্বিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড -১৯ ভাইরাসকে বিশ্বব্যাপী মহামারী হিসাবে ঘোষণা করেছে,

এই ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য খুচরা ও কর্পোরেট গ্রাহকদেরকে কঠিন সময়ে সহায়তা করা তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এতে বলা হয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমাণে মূলধনযুক্ত এবং ব্যাংকগুলি ন্যূনতম বিচক্ষণতার প্রয়োজনীয়তা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী মূলধন বাফার গুলি বজায় রাখে। লক্ষ্যবস্তু অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্পের সামগ্রিক আকার গণনা করার উদ্দেশ্যে সেই স্বেচ্ছাসেবী বাফারদের ড্রাউড বিবেচনা করা হয় না।

১৬ মার্চ সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, সামরিক ক্ষেত্র, পানি, বিদুৎ সুরক্ষা কেন্দ্র ছাড়া সকল সরকারি দপ্তরের কর্মস্হলে ১৬ দিনের জন্য উপস্থিতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। শিক্ষা খাতে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে চলবে শিক্ষা কার্যক্রম। ১৫ মার্চ রবিবার রাতে
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। অবশ্য সৌদি টেলিকম কোম্পানীসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রতিষ্ঠান এরইমধ্যে দপ্তর পরিচালনায়

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে। এতে করে তারা কর্মস্হলে উপস্হিত না হয়ে ঘরে বসে প্রযুক্তির সহায়তায় দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছে। এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সকল জনসমাবেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় শপিংমল এবং এর ভিতর ও বাইরে বিনোদনমূলক, খেলাধুলার জায়গাগুলো অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সরকার।

খোলা থাকবে ঔষধ, খাবার দোকানসহ সুপার সপ। সৌদি আরবে সকল রেস্টুরেন্ট, ক্যাফেটেরিয়া, কফি হাউজ, শিষা ঘর, এসকল খাবারের স্থানে বসে জমায়েত হয়ে খাওয়া যাবেনা। ১৫ মার্চ রবিবার রাতে অন্য একটি প্রেস ব্রিফিং এ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় সৌদি পৌর ও পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জমায়েত হয়ে বসে খাবারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও পার্সেল এর মাধ্যমে খাবার বিক্রি করতে পারবেন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানদারারা।

ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১শত ১৮ জন, সুস্হ্য হয়েছেন তিনজন এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে আছেন আরো অনেকে। এমতাবস্থায় করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে এই ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে। ইতোপূর্বেই সৌদি আরবে বাইরের দেশগুলো থেকে যেকোন ভিসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং দুই সপ্তাহের জন্য বাতিল করা হয়েছে আর্ন্তজাতিক সকল ফ্লাইট। করোনাভাইরাস ছড়ানো থামাতে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,

মসজিদে নববী ভ্রমণ ও উমরাহ হজ্ব। এছাড়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেকোন সভা, সমাবেশ ও জমায়েত, এমনকি কমিউনিটি সেন্টারেও কোনপ্রকার অনুষ্ঠান করা যাবে না। অন্যদিকে সৌদি ইমিগ্রশন কতৃপক্ষ জানায়, সৌদি আরবের আকামধারি যারা নিজ দেশে ছুটিতে রয়েছেন, তাদের ছুটির মেয়দ শেষ হলেও কপিল, মোয়াসসাসা, কোম্পানীর আবশির বা ইমিগ্রেশন অফিসের মাধ্যমে ছুটি নবায়ন করতে পারবেন।