বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন : আকাশে ‘১০০’ আঁকবে বিমান বাহিনী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আকাশে এক মনোজ্ঞ উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ১০০ সালাম প্রদর্শন করবে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ প্রদর্শনী করবে বিমান বাহিনী। বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামানের দিকনির্দেশনায় বিমান বাহিনীর বিভিন্ন উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানের আকাশে ১০০ তৈরি করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।

বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজগুলো আকাশে সারিবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের উপর এঁকে দেবে ‘১০০’। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কে-৮ডব্লিউ ও পিটি-৬ উড়োজাহাজের সমন্বয়ে এই মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীতে অংশ নেবে বিমান বাহিনী একাডেমির দক্ষ বৈমানিকরা। টুঙ্গিপাড়ার আকাশে ফরমেশন ফ্লাইংয়ের মাধ্যমে অনন্য দক্ষতায় ১০০ তৈরি করে সমগ্র জাতির উৎসব ও উচ্ছ্বাসের রঙে যোগ করবে এক নতুন মাত্রা।

জাতির পিতার সমাধিস্থলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণের পরমুহূর্তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এ প্রদর্শনী করবে। পরবর্তীতে ২২টি পিটি-৬ বিমানের সমন্বয়ে উড্ডয়ন শৈলীটি দুপুর দেড়াটা থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে খুলনা এলাকা এবং দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে যশোর এলাকা প্রদক্ষিণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেশের জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে।

এছাড়াও, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান, সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং হেলিকপ্টারের সমন্বয়ে একটি ফরমেশন ফ্লাইটের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর পেশাদার বৈমানিকরা চট্টগ্রাম এলাকায় বেলা ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে, কক্সবাজার এলাকায় বেলা সাড়ে ১০টা থেকে ১০টা ৪০ মিনিটের মধ্যে, বরিশাল এলাকায় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে, ময়মনসিংহ এলাকায় বিকেল ৪টা থেকে ৪টা ১০ মিনিটের মধ্যে

এবং সিলেট এলাকায় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ৪টা ২৫ মিনিটের মধ্যে উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শন করা হবে। সেই সঙ্গে দুপুর ২টা থেকে ২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিমান বাহিনীর সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ঢাকার আকাশে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা এবং কে-৮ডব্লিউ বিমানের মাধ্যমে স্মোক পাস করবে। এছাড়াও বুধবার (১৮ মার্চ) বগুড়া এলাকায় বেলা ১১টা থেকে ১১টা ১০ মিনিটের মধ্যে

এবং রংপুর এলাকায় বেলা ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ২৫ মিনিটের মধ্যে উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শন করা হবে। যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের সমন্বয়ে উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শনের নেতৃত্বে থাকবেন বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুর এয়ার অধিনায়ক, এয়ার ভাইস মার্শাল মো. সাঈদ হোসেন এবং ডেপুটি হিসেবে থাকবেন এয়ার কমডোর মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। অন্যদিকে,

পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমানের সমন্বয়ে উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শনের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট এয়ার কমডোর হায়দার আবদুল্লাহ এবং ডেপুটি হিসেবে থাকবেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম। এবার খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে মুজিববর্ষ নিয়ে যা বললেনঃ ফখরুল>>> বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে মুজিববর্ষ সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এসময় সঙ্গে ছিলেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা একটা প্রহসন। বেগম খালেদা জিয়া, যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ও লড়াই করেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কারাগারে বন্দি ছিলেন, তাকে গণতন্ত্রের জন্য ৯ বছর একটানা সংগ্রাম করতে হয়েছে, পরবর্তীকালেও সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং এখন জেলে আছেন, তাকে কারাগারে রেখে কোনও বর্ষই সফল হবে না।

আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গে বিএনপির কোনও বৈঠক হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনও আলোচনা হয়নি। মোদির আগমন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আগেই পরিষ্কার করে বলেছি, আজকে বাংলাদেশের যে অবস্থা, ভারতের এনআরসি নিয়ে দাঙ্গা হয়ে গেলো, সেটার যে প্রভাব এখানে পড়েছে,

তাতে তার (মোদীর) এখানে আসাটা কতটুকু সমীচীন, এটা তারাই বিচার করবেন। ‘বিএনপি সিরিয়াসলি নির্বাচনে অংশ নেয় না, তারা নির্বাচনে অংশ নেয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগতো কত কথাই বলবে। তারাতো জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া, ভোট ছাড়া ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। স্বাভাবিকভাবেই তারা এ ধরনের কথাবার্তা বলবে, যাতে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ হয়। কিন্তু সেটাতে তারা সফল হয়নি।

আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি কারণ, আমরা বিশ্বাস করি ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। আমরা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বলেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আগেও বলেছি এই নির্বাচনটা গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ। আমরা এই নির্বাচনে অত্যন্ত সিরিয়াস। প্রত্যেকটি নির্বাচনেই আমরা সিরিয়াসলি অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করেছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। এটাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীনতার দাবি উঠেছে, স্বাধীনতার সংগ্রাম হয়েছে। সুতরাং একজন ব্যক্তি বা একটা গোষ্ঠী-একটা দল স্বাধীনতার দাবিদার হতে পারে না। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ সুদীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছে। তারই ফলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি।

ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একজন নেতা। তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন, দীর্ঘকাল রাজনীতি করছেন। এলাকায় তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় নেতা। আমি বিশ্বাস করি তিনি মেধাবী ছেলে, নিজের মেধা প্রমাণ করে জনগণের ভোটে জয়ী হতে পারবেন।