দারাজ ডাকাতিঃ ৫০ টাকার মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ২২৫৫ টাকায়!

করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে দিনদিন মৃ’তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃ’ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ জনের। বিভিন্ন দেশে দেড় লক্ষ মানুষ এ ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৬৮৮ জন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এমতাবস্তায়, বাংলাদেশে মাস্কের দাম অনেক বেড়ে গেছে।

অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ ডটকমে ৫০ পিসের সার্জিক্যাল মাস্কের বক্স বিক্রি হচ্ছে ২২৫৫ টাকায়। অথচ পাইকারি বাজারে এই বক্সের দাম সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। র‌্যাবের অভিযানে এই চিত্র ধরা পড়ে। অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান, দারাজে অ্যান্টি পলিউশন সেফটি মাস্ক তিন পিস ৪৭০ টাকায়, অ্যান্টি ডাস্ট মাস্ক পাঁচ পিস ১২৫৫ টাকা, সাধারণ সার্জিকাল মাস্ক প্রতিটি ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে দারাজ ডটকম ডটবিডির অফিসে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে সবার জন্য মাস্কের মূল্য নির্ধারণ। তবে দারাজের ওয়েবসাইটে সরকার নির্ধারিত দাম থেকে অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। তাই এই অভিযান চলছে।

সার্জিক্যাল মাস্কের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে মাস্ক বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একই ডিস্ট্রিবিউটরকে একটি ইনভয়েসে ৫০০ পিসের বেশি মাস্ক সরবরাহ করতে পারবে না। বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিত করতে

এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, মেডিকেল ডিভাইস ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন, ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস উৎপাদনকারী এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নেয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- থ্রি লেয়ার (তিন স্তরের) সার্জিক্যাল মাস্কের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে প্রতি পিস ৩০ টাকা,

যা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে মাস্ক বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক একই ডিস্ট্রিবিউটরকে (সরবারহকারী) একটি ইনভয়েসে ৫০০ পিসের বেশি ফেস মাস্ক সরবরাহ করতে পারবে না। এছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে এর প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ৫০ এমএল সাইজে উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির নির্দেশনা দেয়া হয়।

দুই করোনারোগী সুস্থ : যে কোনো সময় রিলিজ পাবেন>>> দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগীর মধ্যে দুজন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের যেকোনো সময় হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। বুধবার দুপুরে আইইডিসিআরের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ সুখবর দেন।

তিনি বলেন, আজ আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ব্যাপারে সুখবর দেব। আমরা আগেও বলে এসেছি যে তিনজন রোগী করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন তারা কেউ তেমন অসুস্থ ছিলেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশনা অনুসারে তারা আক্রান্ত রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে আসছিলেন। নমুনা পরীক্ষায় পর পর দু’দিন করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া না গেলে তাদের সুস্থ বলে বিবেচনা করা হয়।

আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজনের নমুনা পরীক্ষায় পরপর দুদিন ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এ ব্যাপারে অবহিত করে শিগগিরই দুজন রোগীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।