আরব আমিরাত ১৭মার্চ হতে সকল ধরণের ভিসা দেওয়া ব’ন্ধ করে দিবে

সংযুক্ত আরব আমিরাত আগামী ১৭ মার্চ হতে কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের বাদে সমস্ত বিদেশিদের সব ধরণের ভিসা প্রদান স্থ’গিত করেছে । আজ প্রকাশিত এক বিবৃ’তিতে ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইসিএ) বলেছে: “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড ১৯- ম’হামারী মো’কাবেলায় প্রতিক্রিয়া হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃক গৃহীত সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসাবে এই পদক্ষেপ এসেছে ।

যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণের উপর উচ্চ ঝুঁ’কিকে প্রতিফলিত করে। ” পূর্বনির্ধারিত তারিখের আগে যাদের ভিসা ইতোমধ্যে জা’রি করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি প্রযোজ্য নয় । আইসিএ উল্লেখ করেছে এই করোনা ভাই’রাসের বিস্তার রোধে বিশ্বের সকল জাতির সাধারণ ভালোর জন্য গৃহীত অন্যান্য বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থার অংশ হিসাবে প্রস্থানকারী দেশগুলিতে চিকিত্সা বা পরীক্ষার ব্যবস্থা স্থাপন না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত স’তর্কতামূলক জারি বজায় থাকবে ।

বিবৃতিতে উপসংহারে বলা হয়েছে, “আইসিএ নিশ্চিত করেছে যে করোনভাইরাস মহামারী মোকাবেলা করতে এবং এই চলমান সংকট থেকে বাঁচতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গভীর দায়বদ্ধতা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির সহযোগিতায় আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এই চলমান সংকট থেকে বাঁচার জন্য এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক করোন ভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের এবং সংস্থাগুলির সংকট কাটিয়ে উঠতে,

খুচরা গ্রাহকদের এবং কর্পোরেশনগুলিকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য 100 বিলিয়ন দিরহামের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। লক্ষ্যবস্তু অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্পটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচালিত সমস্ত ব্যাংকের শূন্য খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল থেকে ৫০ বিলিয়ন এবং ব্যাংকের মূলধন বাফার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ৫০ বিলিয়ন তহবিল সমন্বিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড -১৯ ভাইরাসকে বিশ্বব্যাপী মহামারী হিসাবে ঘোষণা করেছে,

এই ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য খুচরা ও কর্পোরেট গ্রাহকদেরকে কঠিন সময়ে সহায়তা করা তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এতে বলা হয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমাণে মূলধনযুক্ত এবং ব্যাংকগুলি ন্যূনতম বিচক্ষণতার প্রয়োজনীয়তা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী মূলধন বাফার গুলি বজায় রাখে। লক্ষ্যবস্তু অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্পের সামগ্রিক আকার গণনা করার উদ্দেশ্যে সেই স্বেচ্ছাসেবী বাফারদের ড্রাউড বিবেচনা করা হয় না।

১৬ মার্চ সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, সামরিক ক্ষেত্র, পানি, বিদুৎ সুরক্ষা কেন্দ্র ছাড়া সকল সরকারি দপ্তরের কর্মস্হলে ১৬ দিনের জন্য উপস্থিতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। শিক্ষা খাতে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে চলবে শিক্ষা কার্যক্রম। ১৫ মার্চ রবিবার রাতে
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। অবশ্য সৌদি টেলিকম কোম্পানীসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রতিষ্ঠান এরইমধ্যে দপ্তর পরিচালনায়

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে। এতে করে তারা কর্মস্হলে উপস্হিত না হয়ে ঘরে বসে প্রযুক্তির সহায়তায় দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছে। এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সকল জনসমাবেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় শপিংমল এবং এর ভিতর ও বাইরে বিনোদনমূলক, খেলাধুলার জায়গাগুলো অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সরকার।

খোলা থাকবে ঔষধ, খাবার দোকানসহ সুপার সপ। সৌদি আরবে সকল রেস্টুরেন্ট, ক্যাফেটেরিয়া, কফি হাউজ, শিষা ঘর, এসকল খাবারের স্থানে বসে জমায়েত হয়ে খাওয়া যাবেনা। ১৫ মার্চ রবিবার রাতে অন্য একটি প্রেস ব্রিফিং এ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় সৌদি পৌর ও পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জমায়েত হয়ে বসে খাবারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও পার্সেল এর মাধ্যমে খাবার বিক্রি করতে পারবেন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানদারারা।

ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১শত ১৮ জন, সুস্হ্য হয়েছেন তিনজন এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে আছেন আরো অনেকে। এমতাবস্থায় করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে এই ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে। ইতোপূর্বেই সৌদি আরবে বাইরের দেশগুলো থেকে যেকোন ভিসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং দুই সপ্তাহের জন্য বাতিল করা হয়েছে আর্ন্তজাতিক সকল ফ্লাইট। করোনাভাইরাস ছড়ানো থামাতে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,

মসজিদে নববী ভ্রমণ ও উমরাহ হজ্ব। এছাড়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেকোন সভা, সমাবেশ ও জমায়েত, এমনকি কমিউনিটি সেন্টারেও কোনপ্রকার অনুষ্ঠান করা যাবে না। অন্যদিকে সৌদি ইমিগ্রশন কতৃপক্ষ জানায়, সৌদি আরবের আকামধারি যারা নিজ দেশে ছুটিতে রয়েছেন, তাদের ছুটির মেয়দ শেষ হলেও কপিল, মোয়াসসাসা, কোম্পানীর আবশির বা ইমিগ্রেশন অফিসের মাধ্যমে ছুটি নবায়ন করতে পারবেন।

এছাড়াও করোনা ভা’ইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ব’ন্ধ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব।রোববার দেশটির তেলসমৃদ্ধ কাতিফ প্রদেশে অ’চলাবস্থা ঘো’ষণা করা হয়। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া ১৫ জন করোনা ভাইরাস আ’ক্রান্তের বেশিরভাগই রয়েছেন এই প্রদেশে।মোট ১৫ জন করোনা ভাইরাস আ’ক্রান্তের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, যিনি ইতালি এবং ফিলিপাইন ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া সোমবার ৯টি দেশে ভ্রমণ নি’ষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব যার মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং মিশর।

শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত কাতিফ প্রদেশে চার জনের মধ্যে ক’রোনা ভা’ইরাস শনাক্ত হওয়ার কারণে সেখানে সকল ক’র্মকাণ্ড ব’ন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির দুটি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এতে তেল উৎপাদনের উপর কোন প্র’ভাব পড়বে না।কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কাতিফে এক ধরণের অ’সন্তোষ তৈরি করতে পারে। সুন্নি নিয়ন্ত্রিত সৌদি সরকারের সাথে শিয়া সংখ্যালঘুদের বি’বাদের অন্যতম অংশ কাতিফ, যেখানে স্থানীয়রা অ’ভিযোগ করেছেন যে,

তারা বৈ’ষম্যের শি’কার হচ্ছেন। তবে এই অ’ভিযোগ অ’স্বীকার করেছে সরকার। “ভা’ইরাসটির বিস্তার ছড়াতে সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কা’র্যক্রম স্থ’গিত করা হয়েছে,” এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শুধু নিরাপত্তা ও প্রাদেশিক ক’র্মকাণ্ড চলবে বলেও জানানো হয়।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কাতিফে চলাচল সী’মিত করা হলেও বাসিন্দারা ঘরে ফেরার এবং বাণিজ্যিক স’রবরাহ চালাতে পারবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে, কাতিফে সিমেন্টের তৈরি ব্লক দিয়ে রাস্তা ব’ন্ধ করা হয়েছে এবং কর্মকাণ্ড স্থ’গিত ঘোষণার পর মুদি দোকানে ব্যাপকহারে কেনাকাটা করেছে বাসিন্দারা। সৌদি কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল যে, আ’ক্রান্তরা হয় ইরান কিংবা ইরাক ভ্রমণ করেছে কিংবা যারা ওই দেশগুলো ভ্রমণের পর আ’ক্রান্ত হয়েছে তাদের সংস্পর্শে এসেছে।এদিকে কাতিফে অ’চলাবস্থা তৈরির জে’র ধরে সৌদি আরবের সাথে ই’রানের উ’ত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আ’শঙ্কা করা হচ্ছে।

ভা’ইরাসের প্রাদু’র্ভাবের সময় সৌদির নাগরিকদের প্রবেশ করতে দেয়ার কারণে তেহরানের নি’ন্দা জানিয়েছে রিয়াদ।সোমবার আ’ক্রান্তদের মধ্যে মার্কিন পর্যটককে রিয়াদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আ’ক্রান্ত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন এক সৌদি নাগরিক যিনি কাতিফে অন্য এক আক্রান্ত ব্যক্তির সং’স্পর্শে এসে আ’ক্রান্ত হন এবং বাহরাইনের দুই নারী যারা সম্প্রতি ইরাক থেকে ফিরেছেন। দেশটির বিনোদন কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভাই’রাসের কারণে সোমবার উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ড বন্ধ থাকবে।

এরইমধ্যে ইরানের সাথে ভ্রমণ নি’ষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। ইরানের ক’রোনা ভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে ১৯৪ জন মা’রা গেছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে তিন জন নারী সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে ইরান থেকে ফেরা এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কারণে আক্রান্ত হয়েছে। ওই ব্যক্তি ইরান ভ্রমণের তথ্য গো’পন করেছিল বলে জানানো হয়।রোববার নেয়া স’তর্কতার অংশ হিসেবে মসজিদে সব ধরণের কোরআন ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড ব’ন্ধ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম’কাণ্ড সোমবার থেকে ব’ন্ধ থাকবে। তবে দূর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।আল আরাবিয়া টিভি জানায়, ২৩ মার্চ দেশটির সবচেয়ে বড় খেলাধুলার অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।রোববার বাহরাইন, কুয়েত এবং আরব আমিরাতের সাথে স্থ’ল সী’মান্ত পা’রাপারও ব’ন্ধ করা হয়েছে। তিনটি বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহনও সীমিত করা হয়েছে। ১৪টি দেশের পর্যটকদের প্রবেশে নি’ষেধাজ্ঞা দিয়েছে কাতার। কুয়েতে রোববার আরো দুই ব্যক্তি নতুন করে আ’ক্রান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আ’ক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৪ জনে। ভা’ইরাসের বি’রুদ্ধে ল’ড়াইয়ে ১০ মিলিয়ন দিনার তহবিল ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিবিসি।