করোনা ভাইরাসকে আর খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নাই: আইইডিসিআর পরিচালক

গত দুই দিনে করোনার রেড জোন খ্যাত দেশ ইতালি থেকে বাংলাদেশে বিমানযোগে প্রায় ৩০০ প্রবাসী দেশে প্রবেশ করেছেন। তাই এই ভাইরাসটিকে আর ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে এখন এ রোগ মহামা’রী আকার ধারণ করেছেন,

তাই এটিকে খাটো করে দেখার আর কোনো সুযোগ নেই। আমি বিদেশ ফেরত সবাইকে অনুরোধ করবো-আপনারা দয়াকরে ১৪ দিন বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।’ আজ রবিবার (১৫ মা’র্চ) দুপুরে মহাখালী আইইডিসিআর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন তিনি। সেব্রিনা আরও বলেন, ‘যারা বাইরে থেকে আসছেন, আম’রা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যদি করোনার সংক্রমণ না পাই,

তবে তাদের পু’লিশের সাহায্য নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে বাসায় পাঠিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু তাদের উচিৎ আমাদের দেয়া নির্দেশনা এই ১৪ দিন খুব ভালো’ভাবে মেনে চলা। এখানে এর আপোষ করার কোনো সুযোগ নেই। আপনারা দয়া করে দেশ ও আপনাদের পরিবারের মঙ্গলের জন্য আমাদের নির্দেশনাগুলো মেনে চলুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আম’রা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অনেক সাহায্য পাচ্ছি।

কেউ না মানলে প্রতিবেশীরা ফোন করে আমাদের অবহিত করছে, এটা ভালো দিক। আম’রা সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশের মানুষকে এ থেকে রক্ষা করতে পারবো।’ শেষে তিনি নিজের পরিবার, সন্তান ও বাবা-মা’র যত্ন নিয়ে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে কেউ পালছেন গরু কেউ ঘুরতে যাচ্ছেন শ্বশুরবাড়ি>>>

মানিকগঞ্জে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের নিজ নিজ বাসায় বিশেষ ব্যবস্থায় ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হলেও, তারা স্বাস্থ্য-বিভাগের নির্দেশনা না মেনে এলাকায় স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। এতে ঝুঁ’কিতে পড়ছেন অন্যান্যরা।জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে মঙ্গলবার থেকে শনিবার এই ৫ দিনে জেলায় মোট ২২১ জন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের শরীরে করোনার উপসর্গ না থাকলেও তাদের নিজ নিজ বাসায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

কোয়ারেন্টাইনে যারা আছেন তাদের কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা হল তারা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানছে না। শুক্রবার সকালে কথা হয় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাসলী গ্রামের মোহাম্মদ আসলাম ৩ বছর ধরে সৌদি আরব থাকেন। সাতদিন ধরে তিনি বাড়িতে ফিরেছেন। তাকে দেখা গেল বাড়ির সাংসারিক কাজ করতে। গোয়ালের গরুকে খাওয়ানো, ধান শুকানো ইত্যাদি কাজ করছেন তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যর সঙ্গে।

পাশের গ্রামের দুলাল হোসেন ১০ মার্চ দুবাই থেকে বাড়িতে ফিরেছেন। ১২ মার্চ বিকেলে তিনি তিনি তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ ৬ কিলোমিটার দূরে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেছেন বলে জানালেন তার বৃদ্ধ মা হাজিরন বেগম।সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, হোম কোয়ারেন্টোইনে থাকা ব্যক্তিরা স্বাভাবিক চলা ফেরা করছে-এমন তথ্য তার কাছে নেই জানিয়ে তিনি বলেন,

এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিক হিসেবে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগ একা এই কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। করোনাভাইরাস নিয়ে আ’তংক না ছড়িয়ে, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। করোনা মোকাবিলায় নিজের হোটেলগুলোকে হাসপাতাল বানাচ্ছেন রোনালদো>>>

নিজের দুইটি বিলাসবহুল হোটেলকে তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য…… ম’হামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অনন্য নজির স্থাপন করতে চলেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা, পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের দুটি বিলাসবহুল হোটেলকে তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য। স্পেনের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক মার্কার এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার থেকেই

পর্তুগালে রোনালদোর দুটি হোটেল ব্যবহৃত হবে হাসপাতাল হিসেবে। যাতে পর্তুগালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষরা সেখান থেকে বিনামূল্যে সেবা নিতে পারেন। খবরে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহ (ইউরোপিয়ান সপ্তাহ শুরু হয় সোমবার থেকে) থেকেই লিসবন এবং মাদেইরাতে রোনালদোর যে দুটি পেস্তানা হোটেল রয়েছে, সেগুলোকে অস্থায়ী হাসপাতালে পরিণত করা হবে। যেখানে রোগীদের বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হবে।

এ হাসপাতালের যাবতীয় খরচ বহন করবেন রোনালদো। অর্থাৎ হাসপাতালে রোগীদের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ ছাড়াও এখানে যারা কাজ করবেন তাদের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সুবিধাদির বিষয়ও রোনালদোই দেখবেন। বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে খেলেন রোনালদো। কিন্তু দেশটিতে করোনাভাইরাস অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত করা হয়েছে ঘরোয়া ফুটবলের লিগ সিরি আ।

রোনালদোর সতীর্থ ড্যানিয়েল রুগানি আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। ফলে নিজ জন্মস্থান মাদেইরাতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি। নিজে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে আছেন ঠিকই কিন্তু তার দেশের মানুষ ঠিক আছে তো?- এ চিন্তা থেকেই দুই হোটেলকে হাসপাতাল বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন রোনালদো। লিসবন এবং মাদেইরার এ হোটেল দুটি পর্তুগালের অন্যতম খরুচে ও বিলাসবহুল দুই হোটেল।

এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনার ব্যাপারে সতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছিলেন রোনালদো। ইন্সটাগ্রামে তিনি লিখেছিলেন, ‘বিশ্ব এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে আমাদের সকলের মনোযোগী এবং যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।’