করোনা মোকাবিলায় নিজের হোটেলগুলোকে হাসপাতাল বানাচ্ছেন রোনালদো!

নিজের দুইটি বিলাসবহুল হোটেলকে তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য…… ম’হামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অনন্য নজির স্থাপন করতে চলেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা, পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের দুটি বিলাসবহুল হোটেলকে তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য। স্পেনের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক মার্কার এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার থেকেই

পর্তুগালে রোনালদোর দুটি হোটেল ব্যবহৃত হবে হাসপাতাল হিসেবে। যাতে পর্তুগালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষরা সেখান থেকে বিনামূল্যে সেবা নিতে পারেন। খবরে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহ (ইউরোপিয়ান সপ্তাহ শুরু হয় সোমবার থেকে) থেকেই লিসবন এবং মাদেইরাতে রোনালদোর যে দুটি পেস্তানা হোটেল রয়েছে, সেগুলোকে অস্থায়ী হাসপাতালে পরিণত করা হবে। যেখানে রোগীদের বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হবে।

এ হাসপাতালের যাবতীয় খরচ বহন করবেন রোনালদো। অর্থাৎ হাসপাতালে রোগীদের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ ছাড়াও এখানে যারা কাজ করবেন তাদের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সুবিধাদির বিষয়ও রোনালদোই দেখবেন। বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে খেলেন রোনালদো। কিন্তু দেশটিতে করোনাভাইরাস অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত করা হয়েছে ঘরোয়া ফুটবলের লিগ সিরি আ।

রোনালদোর সতীর্থ ড্যানিয়েল রুগানি আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। ফলে নিজ জন্মস্থান মাদেইরাতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি। নিজে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে আছেন ঠিকই কিন্তু তার দেশের মানুষ ঠিক আছে তো?- এ চিন্তা থেকেই দুই হোটেলকে হাসপাতাল বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন রোনালদো। লিসবন এবং মাদেইরার এ হোটেল দুটি পর্তুগালের অন্যতম খরুচে ও বিলাসবহুল দুই হোটেল।

এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনার ব্যাপারে সতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছিলেন রোনালদো। ইন্সটাগ্রামে তিনি লিখেছিলেন, ‘বিশ্ব এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে আমাদের সকলের মনোযোগী এবং যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।’ ‘মানুষ কেন ইঁদুর-বাদুড়-কুকুর-বিড়াল খাবে?’,

চীনাদের ধুয়ে দিলেন শোয়েব আখতার! করোনাভাইরাস আ’তঙ্কে ভূগছে সারা বিশ্ব। প্রতি মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মারণ এই ভাইরাসের শি’কার হচ্ছেন কোনো না কোনো ব্যক্তি। বিশ্বজুড়ে ১,৪৫,০০০-এর বেশি মানুষ করোনায় আ’ক্রান্ত। ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ডিসেম্বরে চীনেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি প্রথম ধরা পড়ে।

আর মরণ ভাইরাসের এপিসেন্টার হিসেবে প্রতিবেশী দেশকে রীতিমতো তুলোধনা করলেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিডস্টার শোয়েব আখতার।নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রতি এক ভিডিওবার্তায় নোভেল করোনা ভা’ইরাসের কারণ হিসেবে চিনকে রীতিমতো কাঠগড়ায় তুলেছেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। চীনা নাগরিকদের প্রতি ক্ষোভের সুরে শোয়েব বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারি না মানুষকে কেন বাদুড়ের মতো প্রাণীর রক্ত খেতে হয়?

এসব প্রাণীর রক্ত, মূত্র বিশ্বজুড়ে একাধিক ভাইরাসের জন্ম দেয়। চীনের মানুষরা পৃথিবীকে মৃ’ত্যুপুরী বানিয়ে তুলেছে। আমি সত্যিই বুঝতে পারি না কীভাবে তোমরা ইদুর, বাদুড়, কুকুর, বিড়াল খেতে পার? আমি চীনের মানুষের উপর ভীষণ ক্ষু’ব্ধ।’ তবে চীনের মানুষের বি’রুদ্ধে তিনি নন। বরং প্রাণীদের নিয়ে চীনের যে সকল আ’ইন রয়েছে তিনি তার বি’রুদ্ধে জানিয়েছেন শোয়েব। সাবেক স্পিডস্টারের কথায়,

‘আমি চীনের মানুষের বিপক্ষে নই কিন্তু প্রাণীদের নিয়ে তাদের যা আইন রয়েছে আমি তার ঘোর বি’রোধী। হতে পারে এটা আপনাদের সংস্কৃতি কিন্তু এই সংস্কৃতির কারণে আজ বিপন্ন মানবজাতি। আমি চাইনিজ বয়কট করতে বলছি না কিন্তু অবশ্যই সঠিক আ’ইন প্রণয়নের প্রয়োজন। আপনি চাইলেই সমস্ত জিনিস খেতে পারেন না।’ নোভেল করোনা ভা’ইরাসের দাপটে বিশ্বজুড়ে ব’ন্ধ প্রায় সমস্ত স্পোর্টস ইভেন্ট।

ভারতের মাটিতে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ আইপিএল। স্থগিত রাখা হয়েছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজ। এমন সময় ফাঁকা গ্যালারিতে পাকিস্তানে চলছে পিএসএলের দ্বিতীয় সংস্করণ। যা নিয়েও বেজায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রয়া জানিয়েছেন শোয়েব আখতার। উল্লেখ্য, চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহানের একটি সামুদ্রিক খাবার ও বন্যপ্রাণীর

বাজার থেকে উৎপত্তি হওয়া এই ভাইরাসটি এখন ইউরোপ ও আমেরিকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসটিতে চীনে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা কমতে থাকলেও এসব অঞ্চলে তা লাফিয়ে বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে গত পাঁচ দিনে দেড় সহস্রাধিক মানুষের মৃ,ত্যু হয়েছে। যার বেশিরভাগের প্রাণহানি ঘটেছে ইতালিতে।

দেশটির সরকার গোটা ইতালিতে অবরুদ্ধ করে রাখলেও প্রতিদিন নতুন করে সেখান থেকে শত শত মানুষের মৃ,ত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে চীনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমছেই। গতকাল শুক্রবার নতুন করে দেশটিতে ১১ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া মৃ,ত্যু হয়েছে ১৩ জনের। মোটে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের ঘটনা ৮০ হাজার ৮২৪টি। মৃ,ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৮৯ জনের। এছাড়া ৬৫ হাজার ৫৪৭ জন সুস্থ হয়েছেন।