বাঙালি যুবকের হাত ধরে করোনামুক্তির স্বপ্ন দেখছে বিশ্ব!

বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এরই মধ্যে ছড়িয়েছে ১৩০টি দেশ ও অঞ্চলে।ভাইরাসটিকে ‘বৈশ্বিক মহামা’রি’ ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।সংক্রমণে মৃ’তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।প্রতিষেধক আবিষ্কারে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা। এই যখন পরিস্থিতি, তখন এক বাঙালি তরুণের হাত ধরে মহামা’রি করোনা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখছে বিশ্ব।

করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কানাডার এক দল গবেষক। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে একধাপ এগিয়েছে কানাডার এই গবেষকদের দল। যে দলে রয়েছেন অরিঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় নামে একজন বাঙালিও।করোনা রুখতে কতটা তৎপর তাঁরা কিংবা করোনাকে জ’ব্দ করতে তাঁদের প্রতিষেধক কী’? এ প্রসঙ্গে অরিঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তাঁরা কিছুটা হলেও এই ভাইরাসকে জ’ব্দ করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন।

যেটা দিয়ে বিশ্বজুড়ে রোখা যাবে এই মা’রণ ভাইরাসকে। সূত্রের খবর, কানাডার ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তাঁদের গবেষণা গোটা বিশ্বকে পথ দেখাবে। অরিঞ্জয় সম্প্রতি তাঁর গবেষকদলের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে জানিয়েছেন তাঁদের গবেষেণায় একধাপ সাফল্যের কথা।অরিঞ্জয়ের কথায়, ‘করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে যা হচ্ছে তা অ’ত্যন্ত দুঃখজনক।

তবে মহামা’রি রুখতে ভূমিকা নিতে পারছি, এটাও গর্বের।’ গবেষক অরিঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের দল ইতিমধ্যেই সার্স কোভিড-২ ভাইরাসকে আলাদা করতে পেরেছেন। এই সফলতার মহামূল্যবাণ সূত্র বাকি গবেষকদেরও দিতে চান তাঁরা। এতে সকলের মিলিত প্রয়াসে মা’রণ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করার কাজ আরও সহ’জ হবে বলে মনে করছেন তিনি।কে এই বাঙালি গবেষক অরিঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়?

ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তিনি। টরোন্টোর ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিভাগের গবেষক অরিঞ্জয়। যে বিভাগে করোনাভাইরাসের মতো মহামা’রি, যে কোনও রকম সংক্রামক রোগ এবং বাদুড় থেকে সংক্রামিত রোগ নিয়ে গবেষণা করা হয়। জানা গিয়েছে, এই গবেষকের দল কোভিড-১৯-এর চরিত্র বিশ্লেষণ করতে সম’র্থ হয়েছেন। ফলে, করোনাকে বাগে আনতে খুব দ্রুতই সম’র্থ হবেন এই গবেষকদের দল,

এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা। তাদের হাত ধরেই করোনার প্রতিষেধক তৈরি করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দু’জন রোগীর লালারস ও র’ক্তের নমুনা সংগ্রহ করে কিছুটা হলেও করোনাকে জ’ব্দ করার দাওয়াই খুঁজে পেয়েছেন কানাডার এই গবেষকদল। সুখবর! আমরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেয়ে গেছি! আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে সফল হলেন বিজ্ঞানীরা।

করোনা আতঙ্কে সারা বিশ্বের মানুষের যখন ঘুম হারাম তখনই এই সফলতার ঘোষণা দিলেন পেন্টাগনের অর্থায়নে পরিচালিত কানাডার একটি ওষুধ কম্পানির বিজ্ঞানীরা। মেডিকাগো নামের কানাডিয়ান ওই কম্পানিটির বিজ্ঞানীরা ‘অবশেষে আমরা প্রতিষেধক পেয়ে গেছি’ বলে উচ্ছ্বাসিত ঘোষণা দিয়েছেন। যদি তাদের উদ্ভাবিত এই প্রতিষেধক এফডিএ’র অনুমোদন পায় তাহলে

প্রতি মাসে এক কোটি ডোজ প্রতিষেধক উৎপাদন ও বাজারজাত করণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে তারা। কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের জিনম সিকুয়েন্স পাওয়ার মাত্র ২০ দিন পরেই প্রতিষেধক আবিষ্কারে এই সফলতা দেখিয়েছে কম্পানিটি। প্রতিষেধক আবিষ্কারে তারা স্বতন্ত্র কিছু টেকনোলজি ব্যবহার করেছেন। শীঘ্রই তারা এটি এফডিএ অনুমোদনের জন্য জমা দেবেন। অনুমোদন পেলেই বাজারে ছাড়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মেডিকাগোর সিইও ব্রুস ক্লার্ক বলেছেন যে, ‘তাঁর সংস্থা মাসে এক কোটি ডোজ পরিমাণ প্রতিষেধক উৎপাদন করতে পারে। যদি নিয়ন্ত্রক বাঁধাগুলি দূর করা যায় তবে নভেম্বরে এই ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যাবে।এদিকে একই দিনে ইসরাইলের একটি গবেষণা ল্যাবও করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের দাবি করেছে। তবে ক্লার্ক বলছেন, তার কম্পানির আবিষ্কৃত প্রতিষেধক এরই মধ্যে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

এটি আরও নির্ভরযোগ্য এবং সহজে উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আরও কয়েকজন আছেন যারা দাবি করছেন যে প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন। এটা ভাল আমরা তাদেরও কোভিড-১৯’র জন্য ভ্যাকসিন বাজারজাত করতে বলব। তবে তারা ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এরমধ্যে কিছু আছে আরএনএ- বা ডিএনএ ভিত্তিক ভ্যাকসিন। এখনও এগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি। আশা করি তারা সফল হবেন।

ক্লার্কের দল কিভাবে এত তাড়াতাড়ি প্রতিষেধক তৈরিতে সক্ষম হল? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা মুরগির ডিম নয়, ভ্যাকসিন তৈরিতে প্রোটিনের বায়োরিঅ্যাক্টর হিসাবে গাছ ব্যবহার করে সফল হয়েছি। ক্লার্ক বলেছিলেন, সাধারণত ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেকগুলো ডিমের প্রয়োজন হয়। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীরা ডিমগুলিতে ভাইরাসটি ইনজেক্ট করে, যেখানে লালন করে। তবে ডিমের ব্যবহার ব্যয়বহুল, দীর্ঘ সময় নেয় এবং একেবারে নিখুঁত হয় না।

অনেক সময় বিস্তৃত পরীক্ষায় ভ্যাকসিনগুলির লক্ষ্যের সঙ্গে মেলে না।সুতরাং, পরীক্ষার জন্য মেডিকাগো কোনও লাইভ ভাইরাস নিয়ে কাজ করেনি। পরিবর্তে এটি গাছপালা ব্যবহার করেছে। এটা তুলনামূলকভাবে নতুন পদ্ধতি, যা গত দশকে অনেক অগ্রগতি দেখেছে। আমরা অ্যাগ্রোব্যাক্টেরিয়ামে একটি জিনগত ক্রম সন্নিবেশ নিয়ে কাজ করেছি, এটি একটি মাটির ব্যাকটোরিয়া, যা গাছপালা গ্রহণ করে।

এ ক্ষেত্রে তামাক জাতীয় গাছের ওপর ব্যাকটেরিয়াটি প্রয়োগ করার পর দেখা গেছে উদ্ভিদটি প্রোটিন উৎপাদন শুরু করেছে, যা পরে ভ্যাকসিন হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, এটিই আমাদের মধ্যে পার্থক্য এবং ডিম-ভিত্তিক পদ্ধতিগুলির থেকে আলাদা। আমরা ভাইরাসের চাষ না করেই সরাসরি ভ্যাকসিন বা অ্যান্টিবডি তৈরিতে চলে যাই। এটা অনেক সময় এবং অর্থ সাশ্রয়ী।