বিসিবি সভাপতি হচ্ছেন মাশরাফি!

গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সিলেটে ম্যাচের পূর্ববর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানিয়েছেন তাঁর ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে বিদায়ের কথা। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডে দিয়েই জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পদ থেকে সড়ে যান তিনি।
তবে মাশরাফি অধিনায়কত্ব থেকে বিদায় নিলেও তাঁর জনপ্রিয়তার কমতি হবে না বলে মনে করেন ভক্তরা। শুধু তাই নয় তাকে ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যেতে দিবেন না বোর্ডের কর্মকর্তারাও।

মাশরাফি আর খেলতে না পারলেও তাকে যোগ্য মর্যাদার স্থানে বসানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জাহিদ আহসান রাসেল, এমপি। অধিনায়কত্ব থেকে বিদায়ের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘মাশরাফি দেশের ক্রিকেটারদের আইকন। আমরা তাকে সর্বোচ্চ জায়গায় দেওয়ার জন্যই অপেক্ষা করতেছি।

মাশরাফিকে আমরা তার যোগ্য মর্যাদার স্থানেই বসাবো’। বিসিবি এবং আইসিসি’র সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন, ‘মাশরাফি সবার আইকন। মাশরাফি তার জায়গাতে সব সময় সেরা। সেই অধিনায়কত্ব ছেড়েছে, এখন এমপি। তার সাথে আমাদের সবসময় যোগাযোগ ছিল, আছে। তাকে আমরা সর্বোচ্চ মর্যাদাই দেব।’ তবে মাশরাফি ভক্তদের অনেকেই মনে করছেন,

মাশরাফির সেই সর্বোচ্চ সম্মান হতে পারে বিসিবি সভাপতি। কারণ বিসিবির সর্বোচ্চ মর্যাদার জায়গা একমাত্র সভাপতি পদই।প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ফাঁ’সির আ’সামি মনির স্বামীর ‘আবেগঘন’ চিঠিদেশজুড়ে বহুল আলো’চিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আ’গুনে পু’ড়িয়ে হ’ত্যার ঘটনায় মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত কামরুন নাহার মনির স্বামী প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনার উদ্দেশে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মনির স্বামী রাশেদ খান রাজু ওই স্ট্যাটাস দেন। মুজিব বর্ষে একটি ন্যায় বিচারের মাধ্যমে স্ত্রী ও পাঁচ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
বিষয় : মুজিব বর্ষে একটি ন্যায় বিচারের মাধ্যমে আমার নির্দোষ স্ত্রী ও সন্তানকে ফেরত চাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মমতাময়ী মা

আসসালামু আলাইকুম, আজ এমন এক সময় আপনার কাছে লিখছি, যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে লালন করে বাংলাদেশ আপনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। জাতির জনকের হৃদয়ে আঁকা স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ খাঁটি সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছে আপনার হাত ধরে। আপনার হাতেই রয়েছে মমতার পরশ আর শাসন করার শক্তি। আপনিই যে অসহায়দের জন্য মানবতার উদাহরণ।

আর দুষ্টু লোকের জন্য হার না মানা এক ভয়ংকর প্রতীক। আপনার হাত ধরেই হয়েছে অসহায় জর্জ মিয়ার মুক্তি। মমতাময়ী মা, আমি মুক্তিযু’দ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী স্বাধীন বাংলাদেশের একজন অতি সাধারণ মানুষ। আমি এই দেশে প্রাণ ভরে নি’শ্বাস নিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচতে চাই। কিন্তু আমি তা পারছি না। আমি সত্যের কাছে আর ন্যায় বিচারের কাছে হেরে গেছি আপাতত মা।নুসরাত হ’ত্যা মাম’লায় আমার নির্দো’ষ স্ত্রী

আর ৫ মাসের দুধের ছোট্ট বাচ্চাসহ (রাথী) বিনাদো’ষে ফাঁ’সির দ’ণ্ড মাথায় নিয়ে কা’রাগারের অভ্যন্তরে মৃ’ত্যুর প্র’হর গুণছে। মমতাময়ী মা, জন্মের পর থেকে মাত্র ১টা দিন স্বল্প সময়ের জন্য আমার মেয়েটাকে কোলে নিতে পেরেছি। আমার মেয়েটার নরম গাল ছুঁয়ে আদর করতে পারিনি আজ প্রায় ৪ মাস। আমার মেয়েটা জানে না ও কোথায়, আর ওর বাবাই বা কোথায়।

মেয়েটা আমার এই নি’ষ্ঠুরতার কথা জানার আগেই এই দেশ সম্পর্কে খারাপ ধারণা নেওয়ার আগেই আপনি আমাদের সাহায্য করুন মা। ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ম’নিদের মতো অসহা’য়রা নি’র্ম’মতা থেকে বাঁচলে বেঁচে যাবে দেশের হাজার হাজার নি’র্যা’তিত নারী। জয় হবে নারীদের শ’ক্তির।মমতাময়ী মা, তাই আমরা পুরোপুরি শেষ আস্থাটুকু রাখতে চাই আপনার ওপর। আশা করি আপনি অন্তত আমাদের হ’তাশ করবেন না।

কারণ, আমি জানি আপনি অন্যায়কে কখনোই আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেন নাই। আপনি যাই করেন-তা এই দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য করেন। আপনার একটু দৃঢ় পদক্ষেপ এনে দিতে পারে ন্যায় বিচারের আরেকটি মাইলফলক। হবে হয়তো আরও একটি ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন। মমতাময়ী মা, আমি আমার কলিজার টুকরা রাথীকে জানাতে চাই, দেখাতে চাই একজন নিষ্ঠাবান ও মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই তোমরা ন্যায় বিচার পেয়েছ।

উনার হাত ধরেই নি’র্মমতা আর নি’ষ্ঠুরতার হাত থেকে রক্ষা হয়েছে তোমাদের। আপনিও একজন নারী ও একজন মা। আপনিই নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন আমাদের কষ্টগুলো। কারণ প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার কষ্ট আপনার চেয়ে কেউ বেশি জানার কথা নয় মা। জানি না আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের আবেদন আপনার পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা। কিন্তু আমার মতো অসহায় মানুষের যে-এর চেয়ে আর বড় চেষ্টা থাকতে পারে না।

মনি আর আমার ছোট্ট রাথি যদি অন্ধ আইনের বেড়াজা’লে পড়ে মিথ্যার কাছে হেরে যায়, তাহলে যে আমার নিজের দেখা সত্যটাই হারিয়ে যাবে। আর হারিয়ে যাবে চিরদিনের মতো আমার বিশ্বাস আর সত্যতা।জলন্ত প্রমাণের মশাল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে যদি ন্যায় বিচার না পাই, তাহলে জাতীয় পতাকা গায়ে মুড়িয়ে আত্মহ’ত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না মা।

মমতাময়ী মা, আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক, সুস্থ রাখুক। দিন রাত খেটে জনগণের যে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টায় আছেন-তা যেন পূরণ হয়। আপনার সকল চেষ্টা আর ইচ্ছে যেন পরিপূর্ণতা পায় সেই দোয়াই করি।সর্বশেষ বলবো, আমার ছোট্ট রাথীর জন্য ও নারীদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই মা। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শেষ করছি।
ইতি
মুজিব বর্ষের উপহার প্রত্যাশী
একজন অসহায় পিতা
রাশেদুল আলম খান
ফেনী থেকে।