স্বেচ্ছায় শরীরে করোনাভাইরাস নিলে ছয় লাখ টাকা পুরস্কার!

করোনার ভা’ইরাস শরীরে নিলে যিনি নিবেন তাকে দেয়া হবে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ লাখ টাকা। যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক খুঁজছেন এমন কিছু স্বেচ্ছাসেবী যারা নিজের ইচ্ছায় শরীরে করোনাভাইরাস নিলে এই পুরস্কার পেতে পারেন। বিজ্ঞানীরা যেহেতু এখনো পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক খুঁজে পাননি সেহেতু এই ভাইরাস নিয়ে এখন পরীক্ষা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদ সংস্থা নাইন নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এইচভিভো নামের লন্ডনভিত্তিক ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছাসেবী এই মানুষদের ৭ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। এতে বলা হয়, এই গবেষণায় অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু ঢুকিয়ে দুই সপ্তাহের জন্য একটি ল্যাবরেটরিতে অন্তরীণ (কোয়ারেন্টাইন) রাখা হবে।

এ সময়ে তাদের অন্য কোনো মানুষের সংস্পর্শেও যেতে দেওয়া হবে না। স্বেচ্ছাসেবীদের দেয়া হবে বিশেষ খাবার। এটিও পরীক্ষারই অংশ। তবে, সাবধানতার জায়গা থেকে এ গবেষণায় অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে বর্তমান বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী কভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের জীবাণু দেওয়া হবে না, বরং করোনা পরিবারেরই তুলনামূলক মধ্যম মাত্রার অন্য দুই ভাইরাস ০সি-৪৩ ও ২২৯ই-এর জীবাণু সংক্রমিত করা হবে।

কিন্তু এ দুই করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেই কভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।সুখবর! আমরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেয়ে গেছি>>> আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে সফল হলেন বিজ্ঞানীরা। করোনা আতঙ্কে সারা বিশ্বের মানুষের যখন ঘুম হারাম তখনই

এই সফলতার ঘোষণা দিলেন পেন্টাগনের অর্থায়নে পরিচালিত কানাডার একটি ওষুধ কম্পানির বিজ্ঞানীরা। মেডিকাগো নামের কানাডিয়ান ওই কম্পানিটির বিজ্ঞানীরা ‘অবশেষে আমরা প্রতিষেধক পেয়ে গেছি’ বলে উচ্ছ্বাসিত ঘোষণা দিয়েছেন। যদি তাদের উদ্ভাবিত এই প্রতিষেধক এফডিএ’র অনুমোদন পায় তাহলে প্রতি মাসে এক কোটি ডোজ প্রতিষেধক উৎপাদন ও বাজারজাত করণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে তারা।

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের জিনম সিকুয়েন্স পাওয়ার মাত্র ২০ দিন পরেই প্রতিষেধক আবিষ্কারে এই সফলতা দেখিয়েছে কম্পানিটি। প্রতিষেধক আবিষ্কারে তারা স্বতন্ত্র কিছু টেকনোলজি ব্যবহার করেছেন। শীঘ্রই তারা এটি এফডিএ অনুমোদনের জন্য জমা দেবেন। অনুমোদন পেলেই বাজারে ছাড়া হবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মেডিকাগোর সিইও ব্রুস ক্লার্ক বলেছেন যে, ‘তাঁর সংস্থা মাসে এক কোটি ডোজ পরিমাণ প্রতিষেধক উৎপাদন করতে পারে।

যদি নিয়ন্ত্রক বাঁধাগুলি দূর করা যায় তবে নভেম্বরে এই ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যাবে।এদিকে একই দিনে ইসরাইলের একটি গবেষণা ল্যাবও করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের দাবি করেছে। তবে ক্লার্ক বলছেন, তার কম্পানির আবিষ্কৃত প্রতিষেধক এরই মধ্যে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এটি আরও নির্ভরযোগ্য এবং সহজে উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আরও কয়েকজন আছেন যারা দাবি করছেন যে প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন।

এটা ভাল আমরা তাদেরও কোভিড-১৯’র জন্য ভ্যাকসিন বাজারজাত করতে বলব। তবে তারা ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এরমধ্যে কিছু আছে আরএনএ- বা ডিএনএ ভিত্তিক ভ্যাকসিন। এখনও এগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি। আশা করি তারা সফল হবেন। ক্লার্কের দল কিভাবে এত তাড়াতাড়ি প্রতিষেধক তৈরিতে সক্ষম হল? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা মুরগির ডিম নয়, ভ্যাকসিন তৈরিতে প্রোটিনের বায়োরিঅ্যাক্টর হিসাবে গাছ ব্যবহার করে সফল হয়েছি।

ক্লার্ক বলেছিলেন, সাধারণত ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেকগুলো ডিমের প্রয়োজন হয়। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীরা ডিমগুলিতে ভাইরাসটি ইনজেক্ট করে, যেখানে লালন করে। তবে ডিমের ব্যবহার ব্যয়বহুল, দীর্ঘ সময় নেয় এবং একেবারে নিখুঁত হয় না। অনেক সময় বিস্তৃত পরীক্ষায় ভ্যাকসিনগুলির লক্ষ্যের সঙ্গে মেলে না।সুতরাং, পরীক্ষার জন্য মেডিকাগো কোনও লাইভ ভাইরাস নিয়ে কাজ করেনি। পরিবর্তে এটি গাছপালা ব্যবহার করেছে।

এটা তুলনামূলকভাবে নতুন পদ্ধতি, যা গত দশকে অনেক অগ্রগতি দেখেছে। আমরা অ্যাগ্রোব্যাক্টেরিয়ামে একটি জিনগত ক্রম সন্নিবেশ নিয়ে কাজ করেছি, এটি একটি মাটির ব্যাকটোরিয়া, যা গাছপালা গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে তামাক জাতীয় গাছের ওপর ব্যাকটেরিয়াটি প্রয়োগ করার পর দেখা গেছে উদ্ভিদটি প্রোটিন উৎপাদন শুরু করেছে, যা পরে ভ্যাকসিন হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, এটিই আমাদের মধ্যে পার্থক্য এবং ডিম-ভিত্তিক পদ্ধতিগুলির থেকে আলাদা। আমরা ভাইরাসের চাষ না করেই সরাসরি ভ্যাকসিন বা অ্যান্টিবডি তৈরিতে চলে যাই। এটা অনেক সময় এবং অর্থ সাশ্রয়ী।