হঠাৎ শ্ম’শানের নী’রবতা মতিঝিল ক্লাবপা’ড়ায়ঃ ৪০ বছর পর কি এমন ঘট’লো?

রাত সাড়ে ১০টা। মতিঝিলের দিলকুশা ক্লাবের সামনের রাস্তায় বেশ কিছু মানুষের জটলা। সবাই কথা বলছে ফিস ফিস করে নিচু স্বরে। পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তি এ সময় পাশে দাঁড়ানো কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন, ১০ বছর বয়স থেকে এ ক্লাবপাড়ায় ঘুরাঘুরি। বয়স তো কম হয় নাই। ক্লাবপাড়ায় রাত সাড়ে ১০টায় এমন জনশূন্য, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও সুনশান নীরবতা গত ৪০ বছরে দেখি নাই।

উপস্থিত সবাই বৃদ্ধের কথা সায় দেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ওই বৃদ্ধ বলেন, ক্লাবপাড়ায় যত রাত হয় তত মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম হয়। সারারাত অসংখ্য মানুষ দামি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্যাডেলচালিত রিকশা নিয়ে জুয়া খেলতে আসেন। এ এলাকার ছোটবড় হোটেলগুলোতে জমজমাট ভিড় ও খাবার বেচাকেনা হয়। কিন্তু আজ ব্যতিক্রম। জীবনে বহু বছর পর ক্লাবপাড়ায় রাতের আঁধার নেমেছে।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে মতিঝিলের ক্লাবপাড়ার ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ডে র‌্যাব অভিযান চালায়। অভিযানের আগেই চারদিক ঘিরে ফেলে তারা। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে ক্যাসিনোতে আগমনকারীরা আর এমুখী হননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই এলাকার রাস্তাঘাটের লাইট বন্ধ করে কঠোর নিরাপত্তা প্রহরায় র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে। অপরিচিত কাউকে চৌহদ্দিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। হোটেলগুলোতে খাবার সাজিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতার দেখা মেলেনি।

নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ের কারণে জন্ম নেয়া শিশু আক্রান্ত হচ্ছে সিস্টিক ফাইব্রোসিস নামে বিরল রোগে। শিশুদের জন্মগত জেনেটিক এ রোগে দীর্ঘমেয়াদী কাশি, বারবার নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা ডায়রিয়া হচ্ছে।এই রোগ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই চিকিৎসকদেরও। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও ধারাবাহিক চিকিৎসার অভাবে বেশিরভাগই শিকার হয় মৃ’ত্যুর। এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

১৩ বছরের শিশু বুশরা জন্মের ৬ বছর পর জানা যায়, সিস্টিক ফাইব্রোসিস নামক বিরল রোগে আক্রান্ত সে। মাসের ২৫ দিন জ্বর ও ঠাণ্ডা নিয়ে অসংখ্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও অবশেষে ঢাকা শিশুহাসপাতালে জানা যায় তার এই রোগের কথা। কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে ফুসফুসের কার্যক্রম নষ্ট হয়ে গিয়ে রোগী মা;রা যাবে।

সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা না গেলে অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্তদের ২ থেকে ৩ বছরের বেশী বাঁচানো সম্ভব হয় না।রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে রোববার দেশের ৩০ জন আক্রান্তকে নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকা শিশু হাসপাতালে। সিস্টিক ফাইব্রোসিসসহ শ্বাসকষ্টজনিত জটিল রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশে শিশু রেসপিরেটরি মেডিসিন সেন্টার নির্মাণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

শিশু বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এআরএম লুৎফর কবীর বলেন, বুকের এক্স-রে, সিটিস্ক্যান, ঘাম পরীক্ষা করে রোগটা ধরতে পারি। এ ঘাম কালেকশন করা একটু কঠিন ছিল। ঘাম কালেক্ট করার মেশিন থাকলে এই রোগ ধরা বেশি সহজ হয়ে যাবে।ঢাকা শিশু হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সরকার বলেন, বছরে আমাদের ১শ’ রোগী থাকার কথা। যেহেতু কাশিই এই রোগের লক্ষণ। আমরা তাই দীর্ঘমেয়াদী কাশি আর টিবির মধ্যে থাকি। আমাদের চিকিৎসকদের এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা না বাড়াতে হবে।এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ আক্রান্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে এই রোগের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছের বিশেষজ্ঞরা।