জার্মানির ৭০ শতাংশ লোক ক’রোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হতে পারেন

বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে জার্মানির ৭০ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন, এমন আ’শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার না হওয়ায় বিস্তার ঠেকানোর দিকেই দেশটির সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১১ মার্চ) বার্লিনে বার্লিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পানের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এ ধারণা প্রকাশ করেন।

অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, এই ম’হামারী থেকে নিস্তার পেতে যা করার দরকার, আমরা সেটিই করব। বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়, সেটাই দেয়া হবে। বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে। ব্যাপক ঝুঁ’কির কথা স্বীকার করে মার্কেল বলেন, কীভাবে এই সং’কট তৈরি হয়েছে, তা আমার জানা নেই। যখন এখানে এই ভা’ইরাস আসে, তখন তার প্রতিষেধক, টিকা কিংবা চিকিৎসাও আমাদের কাছে নেই।

যে কারণে ৬০-৭০ শতাংশ লোক এই ভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হতে পারেন। জার্মান এই চ্যান্সেলর বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ভা’ইরাসটির বিস্তারকে ধীরগতির করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপ না দেয়ার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে…এটিই জয়ী হওয়ার সময়। দেশটির জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত দৈনিক ডেইলি বিল্ড করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চ্যান্সেলর মেরকেলের তীব্র স’মালোচনা করার পর বুধবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

একদিন আগে জার্মানির এই দৈনিক এক প্র’তিবেদনে সরকারের সমালোচনা করে লেখে, এই স’ঙ্কটে ক্ষ’মতাসীন নেতৃত্বের দেখা নেই, বক্তব্য নেই, এমনকি কোনও নেতৃত্বও নেই। দেশটিতে ক’রোনাভাইরাসে আ’ক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ২৯৬ জনে পৌঁছেছে। তবে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলকে। বুধবার প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন করে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তবে মেরকেলের বক্তব্যের কড়া স’মালোচনা করেছেন চেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে মানুষের মধ্যে আ’তঙ্কা বেড়ে যাবে। দেশটির রাজনৈতিক দল লিবারেল ফ্রি ডেমোক্র্যাটস বলছে, তাদের এক আইনপ্রণেতা করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। উল্লেখ্য গতকাল বুধবার (১১ মার্চ) রাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনা ভা’ইরাসকে ম’হামারি ঘোষণা করেছে।

সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস জানান, গত দুই সপ্তাহে ভা’ইরাসটি চীনের বাইরে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিষ্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, দুর্বল স্বাস্থ্য সেবার দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিশ্বের অন্তত ১১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃ’ত্যু হয়েছে ৪৬০১ জনের। আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। যা নিয়ে বর্তমানে ১ লাখ প্রায় ২৩ হাজার মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত।