খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিল আদালত

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিরূ’প মন্তব্যের অভিযোগে নড়াইলে করা মানহা’নি মা’মলায় বিএনপি চেয়ারপারসন কারাব’ন্দি খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে এ রায় দেয় আদালত।আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন,

ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, এহসানুর রহমান প্রমুখ। এ মামলায় গত ৫ আগস্ট নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। মা’মলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকায় মুক্তিযো’দ্ধাদের সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে স্বাধীনতা যু’দ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বি’রূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। একই সমাবেশে মুক্তিযু’দ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি,

যা পরদিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়। পরে নড়াইলের চাপাইল গ্রামের বাসিন্দা রায়হান ফারুকী ইমাম নামে এক ব্যক্তি এ-সংক্রান্ত খবর পড়ার পর সংক্ষু’ব্ধ হয়ে খালেদা জিয়ার বিরু’দ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে মানহা’নির মা’মলা করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন>>> কা’রাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ’ণ্ড ম’ওকুফ করে তাঁর কারামুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি

ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধামমন্ত্রী বরাবর এ আবেদনটি পাঠানো হয়। আবেদনের অনুলিপি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনা বলা হয়েছে সংবিধানের প্রস্তাবনা ১১, ৪৮ (৩) ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ী মানবিক কারণে দণ্ড মওকুফের পাশাপাশি কারামুক্তির আবেদন করছি।

ইউনুছ আলী আকন্দ গণমাধ্যমকে জানান, মুজিব শতবর্ষ পালনের দিন (১৭ মার্চ) উপলক্ষে খালেদা জিয়াকে যেকোনও শর্তে সব ধরনের দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনও ধরনের দণ্ড স্থগিত বা হ্রাসের আবেদন করছি। খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন বিষয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আরও বলেন, মানবিক কারণে জনস্বার্থে আমি এ আবেদনটি করেছি।

খালেদা জিয়া একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক এবং তিনি একজন বয়স্ক মহিলা। উল্লেখ্য, ইউনুস আলী আকন্দ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার একটি আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে অংশ নেন। এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে মুজিববর্ষ সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।