করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখে নিজেই কল করলেন প্রবাসী

করোনাভাইরাসের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কুমিল্লার ৫৬ লাখ মানুষের জন্য জেলায় ১০০ শয্যার আইসোলেশনের প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আ’ক্রান্ত রো’গীদের সেবা দিতে ১৯ টি টিম গঠন করা হয়েছে।প্রতিটি টিমে ১জন সিনিয়র ডাক্তার (মেডিসিন), ১জন জুনিয়র ডাক্তার (মেডিসিন), ২জন নার্স, ১জন আয়া, ১জন ক্লিনার রয়েছে। এ বিষয়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জে’লা প্রশা’সন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। কুমিল্লা সী’মান্তবর্তী জে’লা হওয়ায় এটিও ঝুঁ’কিতে রয়েছে।

এছাড়াও এ জে’লার ১১ শতাংশ মানুষ প্রবাসী হওয়ায় ঝুঁ’কি আরো বেশী। এসব বিষয় মাথায় রাখছে প্রশা’সন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস আ’ক্রান্ত রো’গীদের চিকিৎসায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যা, কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যা, কুমিল্লার প্রতিটি উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ শয্যা করে আইসোলেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রবিবার দেশে করোনা রো’গী শ’নাক্তের পর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জে’লায়

১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করার নি’র্দেশনা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা।এদিকে কুমিল্লার চান্দিনায় সিঙ্গাপুর থেকে আসা প্রবাসীর মধ্যে করোনা ভাইরাসের ল’ক্ষণ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় আ’তঙ্কিত হয়ে পড়েছে ওই যুবকসহ এলাকাবাসী।প্রবাসী ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে ঢাকা থেকে ইতিমধ্যে রওয়ান দিয়েছে রো’গতত্ত্ব, রো’গ নি’য়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) টিমের সদস্যরা।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে প্রবাসী যুবক আবুল বাসার (৩২) আইইডিসিআর এর নির্ধারিত নম্বরে ফোন করে তার স’মস্যার কথা জানান। আইইডিসিআর থেকে জে’লা সিভিল সার্জনের কাছে ফোন আসে।জে’লা থেকে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খবর আসার পর তৎ’পর হয়ে উঠেন প্রশা’সন। আবুল বাসার চান্দিনা উপজে’লার কামারখোলা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।আবুল বাসার বলেন, ‘আমি ২০১০ সালে সিঙ্গাপুর যাই।

এরপর ২০১৯ সালের মে মাসে ছুটিতে এসে বিয়ে করে আবার আগস্ট মাসে সিঙ্গাপুর চলে যাই। চলতি মাসের ৬ তারিখ আমি সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে আসার পর বিমানবন্দরে আমাকে চেক করে একটি কার্ড দেয়। গত ৩ দিন যাবৎ আমার জ্বর, সর্দি ও গলা ব্য’থা থাকায় আমি আজ (বুধবার) সকালে ওই কার্ডে থাকা নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানাই।’চান্দিনা উপজে’লা স্বাস্থ্য কর্মক’র্তা মো. আহসানুল হক বলেন,

‘ওই ছেলেটির সাথে আমার কথা হয়েছে। তার যে সমস্যা তাতে ধারণা করা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের ল’ক্ষণ রয়েছে।তাকে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ঢাকা থেকে আইইডিসিআর টিম রওনা করেছে। ওই টিম এসে নমুনা সংগ্রহ করার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ এদিকে, সকাল থেকে এ ঘটনা শোনার পর এলাকায় বেশ আ’তঙ্ক সৃ’ষ্টি হয়েছে। প্রবাসী আবুল বাসারের বিষয়ে জানতে কামারখোলা গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে ওই বাড়িতে কেই যেতে রাজি হয়নি।

উপজে’লা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নেহাশীষ দা’শ জানান, এখনই আ’তঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যতক্ষণ না পর্যন্ত করোনা ভাইসার নিশ্চিত না হয়। এছাড়া প্রবাসী যুবক আবুল বাসারকে ঘরে রাখা থাকার নির্দেশ দিয়েছি।