মির্জা ফখরুলকে পড়াশোনা করতে বললেন হাছান মাহমুদ

করোনাভাইরাস নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পড়াশোনা করতে বলেছেন আওয়ামী লী‌গের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপ‌তির ধানম‌ন্ডির রাজ‌নৈ‌তিক কার্যালয়ের নতুন ভবনে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভায় সমসাময়িক রাজনীতি বিষয়ে আলোচনার শেষে এক প্রেস ব্রি‌ফিংয়ে তি‌নি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন,

বিএনপির কাজ হলো স’মালোচনা করা। সরকার কোথায় কি ভু’ল করলো না করলো, সেই ভু’ল খুঁজে বের করা। আমেরিকা, ফ্রান্সসহ বিশ্বে অনেক উন্নত দেশ আছে, তারা আমাদের চেয়ে সবদিক দিয়ে শক্তিশালী। সেসব দেশের মানুষ ক’রোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো ক’রোনা মোকাবিলায় হি’ম‌শিম খাচ্ছে। এই ভা’ইরাস সংক্রমিত হওয়ার ১৫ দিন পর শনাক্ত করা যায়। তার আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

এ বিষয় একটু লেখাপড়া করতে হবে ফখরুল সাহেবকে। ক’রোনাভাইরাস সম্পর্কে তাকে জানতে হবে। এ ভা’ইরাস একটা বৈশ্বিক দু’র্যোগ হয়ে গেছে। আমাদের সরকার যথেষ্ঠ চেষ্টা করছে, এ দু’র্যোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার। তিনি বলেন, পৃথিবীর সমস্ত উন্নত দেশে ক’রোনাভাইরাস নিয়ে আ’তঙ্ক চলছে। আমাদের দেশেও আ’তঙ্ক থেকে মুক্ত নয়। যেহেতু আমাদের দেশে তিনজনকে শনাক্ত করা গেছে,

সেহেতু আমাদেরকেও এ বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। সরকার বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং স্থলবন্দরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া জনগণকে সচেতন এবং স’তর্ক করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। অতীতের মতো যে কোনো দু’র্যোগের সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে থাকবে ।এ সময় সাংগঠ‌নিক সম্পাদক এস এম কাসাল হো‌সেন, আইসিটি প্র‌তিমন্ত্রী জোনা‌য়েদ আহ‌মেদ পলক,

উপদফতর সম্পাদক সা‌য়েম খান প্রমুখ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।এবার খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে মুজিববর্ষ নিয়ে যা বললেনঃ ফখরুল>>> বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে মুজিববর্ষ সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এসময় সঙ্গে ছিলেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা একটা প্রহসন। বেগম খালেদা জিয়া, যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ও লড়াই করেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কারাগারে বন্দি ছিলেন, তাকে গণতন্ত্রের জন্য ৯ বছর একটানা সংগ্রাম করতে হয়েছে, পরবর্তীকালেও সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং এখন জেলে আছেন, তাকে কারাগারে রেখে কোনও বর্ষই সফল হবে না।

আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গে বিএনপির কোনও বৈঠক হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনও আলোচনা হয়নি। মোদির আগমন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আগেই পরিষ্কার করে বলেছি, আজকে বাংলাদেশের যে অবস্থা, ভারতের এনআরসি নিয়ে দাঙ্গা হয়ে গেলো, সেটার যে প্রভাব এখানে পড়েছে,

তাতে তার (মোদীর) এখানে আসাটা কতটুকু সমীচীন, এটা তারাই বিচার করবেন। ‘বিএনপি সিরিয়াসলি নির্বাচনে অংশ নেয় না, তারা নির্বাচনে অংশ নেয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগতো কত কথাই বলবে। তারাতো জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া, ভোট ছাড়া ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। স্বাভাবিকভাবেই তারা এ ধরনের কথাবার্তা বলবে, যাতে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ হয়। কিন্তু সেটাতে তারা সফল হয়নি।

আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি কারণ, আমরা বিশ্বাস করি ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। আমরা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বলেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আগেও বলেছি এই নির্বাচনটা গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ। আমরা এই নির্বাচনে অত্যন্ত সিরিয়াস। প্রত্যেকটি নির্বাচনেই আমরা সিরিয়াসলি অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করেছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। এটাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীনতার দাবি উঠেছে, স্বাধীনতার সংগ্রাম হয়েছে। সুতরাং একজন ব্যক্তি বা একটা গোষ্ঠী-একটা দল স্বাধীনতার দাবিদার হতে পারে না। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ সুদীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছে। তারই ফলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি।

ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একজন নেতা। তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন, দীর্ঘকাল রাজনীতি করছেন। এলাকায় তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় নেতা। আমি বিশ্বাস করি তিনি মেধাবী ছেলে, নিজের মেধা প্রমাণ করে জনগণের ভোটে জয়ী হতে পারবেন। যে কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার মু’ক্তি চেয়েছিলেন ভিপি নুর >>> বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।

ঐ’তিহাসিক প’তাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জেএসডি আয়োজিত এ সভায় তিনি এ দাবি করেন।ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমি বিএনপি করি না। তারপরও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর শ্র’দ্ধা রেখে আমিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মু’ক্তি চাই। কারণ বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় আ’টক রাখা হয়েছে, সেটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রা’জনৈতিক প্র’তি’হিং’সা’মূ’লক মা’মলা।’

ভিপি নুর বলেন, আজকে পতাকা দিবস পালন করা হয়, অথচ আ স ম আব্দুর রবকে ডাকা হয় না। এর চাইতে দুঃ’খজনক কিছু হতে পারে না। দলীয় লে’জুড়বৃত্তির রা’জনীতি করার জন্য আসেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আ স ম রবের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে এই অনুষ্ঠানে এসেছি। আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক জনতা পার্টির সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।