পাঁচ বছরের প্রেম, যৌ’তুকের কাছে নিঃ’স্ব!

জয়া চৌধুরী ও জহিরুল ইসলাম সম্পর্কে আপন খালাতো ভাই-বোন। উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রায় ৫ বছর। ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তারা। ওই বছরের মার্চ মাসে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা থানার সেল বর্ষ গ্রামের মুক্তিযো’দ্ধা সাইদুর রহমানের মেয়ে জয়া চৌধুরী পালিয়ে বিয়ে করে একই এলাকার মো. আলাউদ্দিনের পুত্র জহিরুল ইসলামকে।

তবে ওই বিয়ের কোনো কাবিন করা হয়নি। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে মোটা অংকের যৌ’তুক দাবি করে আসছিল স্বামী জহিরুল। যখনই তাকে (জহিরুল) বিয়ের কাবিন করার কথা বলা হয় তখনি সে ১০ লাখ টাকা যৌ’তুকের জন্য চা’প দিতে শুরু করে। টাকা দিতে অ’স্বীকার করলে সে জয়াকে বেধড়ক মা’রপিট করে।এভাবে প্রায় ৩ বছর বহু কষ্টে যৌতুকলোভী স্বামীর শারী’রিক ও মা’নসিক নি’র্যাতন সহ্য করে।

সোমবার রাতে জহিরুল তাকে শরীরে আগুন দিয়ে পু’ড়িয়ে মা’রতে চেয়েছিল বলে অভি’যোগ করে স্ত্রী জয়া চৌধুরী। চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের মেডিকেল গেট এলাকার পূর্ব পার্শ্বে নূর মঞ্জিল সংলগ্ন আজিমের ভাড়া বাসায় এ ঘটনাটি ঘটে। মাত্র দুই মাস আগে এরা উক্ত বাসাটি ভাড়া নেয়। এর আগে তারা চট্টগ্রাম শহরেও বাসা ভাড়ায় থাকত। এ ঘটনায় থানা পুলিশ স্বামী জহিরুল ইসলামকে আ’টক করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়।

হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের এসআই মো. হেলাল খান জানান, সোমবার রাতে যৌতু’কের দা’বি করে জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী জয়া চৌধুরীর শরীরে আগুন দিয়ে হ’ত্যার চে’ষ্টা চালায়। এ সময় জয়া চৌধুরীর চিৎকার শুনে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে এবং আহত অবস্থায় তাকে উ’দ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে (জয়া)

প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তার দুই হাত, পে’ট ও পি’টের বেশ কিছু অংশ আ’গুনে পু’ড়ে গেছে। এ দিকে এ ঘটনায় থানায় জয়া চৌধুরী নিজে বাদী হয়ে একটি যৌ’তুক ও নি’র্যাতন মা’মলা দায়ের করে। ওই মামলায় তার স্বামী জহিরুল হককে আ’সামি করা হয়। জহিরুল পেশায় একজন অটো’রিকশাচালক।