জাবিতে তিলক দিয়ে নবীনবরণ, রক্ষা পায়নি হিজাবধারীরাও

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীনদের বরণ করে নিতে কপালে জোরপূর্বক তিলক দিয়েছে ইন্সটিটিউশনের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ ব্যাচের স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়। সেদিন বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটে নবীনরা ক্লাস করতে গেলে সিনিয়ররা লাইন ধরিয়ে সকলের কপালে আ’গুন নাড়িয়ে নাড়িয়ে তিলক দেয়।

এসময় তারা বোরকা ও হিজাবধারী মেয়েদেরকেও ছাড় দেয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নাম প্রকাশ করতে চায়নি। ঘটানাটি অভিভাবকদেরও ক্ষুদ্ধ করেছে। মঙ্গলবার রাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভাগে প্রবেশের সময় আমাদের জোর করে তিলক লাগিয়ে দেন সিনিয়ররা। তিলক লাগানোর সময় আগুন নাড়িয়ে নাড়িয়ে হিন্দুরীতিতে বরণ করে তারা। আমরা নিষেধ করলেও তারা আমাদের কথা শোনেনি।’

এ ব্যাপারে একজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ‘আমরা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছি। কিন্তু পড়ালেখা করতে গিয়ে যদি নিজ ধর্মমতের বিরুদ্ধে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে সেটা নিশ্চয়ই মঙ্গল বয়ে আনবে না। তিলক লাগিয়ে এই নবীনবরণ একজন মেয়ের বাবা হিসেবে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। এককথায় এটাকে আমি ধর্মীয় আগ্রাসন বলতে চাই।’

বিষয়টি অস্বীকার করে ইনাস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক সহকারী অধ্যাপক রেজাউল বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় এবারও নবীনদের বরণ করা হয়েছে। তবে কোন ধর্মের রীতি অনুসরণ করা হয়নি।’এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের ইমিডিয়েট সিনিয়র ৪৮ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা কারো কপালে জোরপূর্বক তিলক দেয়নি। আর এভাবে বরণ করে নেওয়া আমাদের ইনস্টিটিউটের একটি রীতি।

আমরা কোন ধর্মমত আঘাত করিনি বা করতেও চাই না। এটা শুধু একটা সংস্কৃতি।’ উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়াতে কপালে তিলক দেওয়াকে হিন্দু সংস্কৃতি বলে আখ্যা দেওয়া হলেও বাঙালির সংস্কৃতি বলা হয়নি। বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, তিলক ধারণ করা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তগণের বিশেষ চিহ্ন, বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নয়। মির্জা ফখরুলকে পড়াশোনা করতে বললেন হাছান মাহমুদ>>>

করোনাভাইরাস নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পড়াশোনা করতে বলেছেন আওয়ামী লী‌গের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপ‌তির ধানম‌ন্ডির রাজ‌নৈ‌তিক কার্যালয়ের নতুন ভবনে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভায় সমসাময়িক রাজনীতি বিষয়ে আলোচনার শেষে এক প্রেস ব্রি‌ফিংয়ে তি‌নি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন,

বিএনপির কাজ হলো সমালোচনা করা। সরকার কোথায় কি ভুল করলো না করলো, সেই ভুল খুঁজে বের করা। আমেরিকা, ফ্রান্সসহ বিশ্বে অনেক উন্নত দেশ আছে, তারা আমাদের চেয়ে সবদিক দিয়ে শক্তিশালী। সেসব দেশের মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো করোনা মোকাবিলায় হিম‌শিম খাচ্ছে। এই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ১৫ দিন পর শনাক্ত করা যায়। তার আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

এ বিষয় একটু লেখাপড়া করতে হবে ফখরুল সাহেবকে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাকে জানতে হবে। এ ভাইরাস একটা বৈশ্বিক দুর্যোগ হয়ে গেছে। আমাদের সরকার যথেষ্ঠ চেষ্টা করছে, এ দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার। তিনি বলেন, পৃথিবীর সমস্ত উন্নত দেশে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক চলছে। আমাদের দেশেও আতঙ্ক থেকে মুক্ত নয়। যেহেতু আমাদের দেশে তিনজনকে শনাক্ত করা গেছে,

সেহেতু আমাদেরকেও এ বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। সরকার বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং স্থলবন্দরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া জনগণকে সচেতন এবং সতর্ক করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। অতীতের মতো যে কোনো দুর্যোগের সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে থাকবে ।এ সময় সাংগঠ‌নিক সম্পাদক এস এম কাসাল হো‌সেন, আইসিটি প্র‌তিমন্ত্রী জোনা‌য়েদ আহ‌মেদ পলক, উপদফতর সম্পাদক সা‌য়েম খান প্রমুখ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।