‘ক্রিকেটের চেয়ে সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

গেল জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে দিয়ে অধিনায়কত্বের ইতি টেনেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর মাশরাফির পর অধিনায়ক হিসেবে ওপেনার তামিম ইকবালকে দায়িত্ব দিয়েছে বিসিবি। ১০ বছরের অধিনায়কত্বের ক্যারিয়ারে ইনজুরি থেকে শুরু করে খারাপ ফর্ম সব কিছুই দেখতে হয়েছে তাঁকে। তবে ম্যাশ মনে করেন ক্রিকেট খেলার চেয়ে তাঁর সন্তানদের বড় করা, মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটাই বেশি চ্যালেঞ্জিং কাজ।

মাশরাফি বলেন, ‘প্রতিটা চ্যালেঞ্জই ভিন্ন কিন্তু আমার সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর হতে পারে না।’ অন্য সব অধিনায়কদের থেকে নিজেকে আলাদা উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘আমি অন্য অধিনায়কদের মত দুই তিন ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করি না। যদি আমি দেখি যে একটা বোলারের দ্বারা হচ্ছে না, আমি তাঁকে এক ওভার পরই বদলে দেই। এটা পরিকল্পনা মাফিক হয় না,

কখনো কখনো এমন পরিবর্তন আনতে হয়।’ অধিনায়কত্ব থেকে বিদায় নেবার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৮৮ ম্যাচে। এর ভেতর জয়ের দেখা পায় ৫০টি ম্যাচে। সবশেষ সফলতম অধিনায়ক হিসেবে অধিনায়কত্বকে বিদায় জানালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফির থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিৎ কিভাবে জীবন বাজি রেখে খেলতে হয়: ইমরান খান>>> টানা ৬ বছর দলকে নেতৃত্ব দিয়ে গতকাল অশ্রুসিক্ত নয়নে অধিনায়কত্ব থেকে বিদায় নিলেন মাশরাফি।

গত ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর টেস্টের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে আগমন ঘটে তাঁর। ২০০৯ সাল এসে প্রথম দায়িত্ব পান দলের অধিনায়কের আর ৬ মার্চ ২০২০ সালে এসে অধিনায়ক হিসেবে ৮৮ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশকে ৫০টি ম্যাচে জয় এনে দিয়ে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম ধ্রুবতারা মাশরাফি বিন মর্তুজা। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আজকের এই উচ্চ পর্যায়ে আনতে যে কয়জন ক্রিকেটার সামনে থেকে

নেতৃত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে মাশরাফি অন্যতম। বারবার ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও একের পর এক রেকর্ড গড়ে দলকে বহুবার জিতিয়েছেন তিনি। বুক উচিয়ে দলের সবাইকে এক করে লড়ে গেছেন আর সাহস যুগিয়ে গেছেন মাশরাফি। তাছাড়া তার এমন হার-না-মানা মানসিকতায় অনেকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মাশরাফিকে। সে তালিকায় যুক্ত পাকিস্তানের কিংবদন্তী ক্রিকেটার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

গত এশিয়া কাপে টাইগার অধিনায়ক মাশরাফির প্রশংসা করেছেন ইমরান খান। এ সময় তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ক্রিকেটের একজন সাহসী সৈনিক। সে ইঞ্জুরিকে জয় করে মাঠে ফিরে নিজেকে প্রমান করেছে অনেকবার। খেলার জন্য সে জীবন বাজি রেখেছে বহুবার। মাশরাফি থেকে তরুণ সকলকে শিক্ষা নেওয়া দরকার কিভাবে দলের প্রয়োজনে নিজের জীবন বাজি রেখে খেলে যায়।’ এদিকে মাশরাফি মোট ৩৬টি টেস্ট ম্যাচে নিয়েছেন ৭৮টি উইকেট। একই সঙ্গে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিসহ রান করেছেন ৭৯৭। টি-টুয়েন্টিতে ফরম্যাটে ৫৪ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪২টি উইকেট। সেই সঙ্গে ব্যাট হাতে করেছেন ৩৭৭ রান। আর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২০ ম্যাচে নিয়েছেন ২৭০ টি উইকেট।