করোনায় আটকে গেছেন শাবনূর

শাবনূররের সাবেক স্বামী অনিকের দাবি, এক চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছেন। এর উত্তরে শাবনূর বলেন,‘যদি তা-ই হতো তাহলে অনিককে কেন বিয়ে করব? অনিক যার দিকে আ’ঙুল তুলছে, সে তো যেকোনো দিক থেকে অনিকের চেয়ে ভালো। অনিক একটা বাজে ছেলে, নে’শাগ্রস্ত। মোহে পড়ে তাকে বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের পরে অনেক কিছুই জানতে পারি। সিনেমায় আসার আগেই একটা বিয়ে করেছিল সে।

সারা রাত নে’শা করে দিনে ঘুমায়। ভেবেছিলাম তাকে শুধরে নিতে পারব, অনেক চেষ্টার পরও পারিনি।’ অনিক বলেছেন, তাঁর নতুন বিয়ের প্রমাণ দিতে না পারলে আপনাকে মাফ চাইতে হবে। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,‘নিশ্চয়ই! আর আমি যদি বিয়ের প্রমাণ দিতে পারি তাহলে কি সে মাফ চাইবে? সে নতুন বউকে নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছে। সেসব ছবি আছে আমার কাছে। সবচেয়ে বড় কথা,

অনিকের নতুন পাসপোর্টের কপিও আমার কাছে। সেখানে স্ত্রী হিসেবে আমি নই, আছে আয়েশা আক্তারের নাম। বিয়ে না করলে তার নাম ব্যবহার করল কেন? যেসব হোটেলে তারা ছিল, সেখানকার সব রকম তথ্য সংগ্রহ করে তারপর তার বিয়ের কথা ফাঁ’স করেছি। আমি শাবনূর, আর দশটা সাধারণ মানুষ নই। ফালতু অভিযোগ তোলা আমাকে মানায় না।’ তিনি জানান,‘চেয়েছিলাম দেশে ফিরতে, কিন্তু করোনাভাইরাসের জন্য যেতে পারছি না।

উকিলের সঙ্গে কথা হচ্ছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশে যাব। এরপর নতুন আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেব। ভেবেছিলাম অনিকের সামর্থ্য নেই, শুধু শুধু আইজানের ভরণ-পোষণের টাকা দাবি করব না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তাকে মাফ করা ঠিক হবে না।’এবার শাবনূরের একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেনঃ অনিক >>> শাবনূর দাবি করেছেন তার স্বামী ম’দ্যপ, তাকে মা’রধর করে।

কিন্তু স্বামী অনীকের দাবি, তিনিই শাবনূরকে ম’দ্যপ অবস্থায় পেয়েছেন।বললেন, ‘একজন মানুষ ও স্বামী হিসেবে এসব তো মেনে নেওয়া যায় না। তাই দূরে থেকেছি। শাবনূরকে বাংলাদেশে স্বনামধন্য, জনপ্রিয় এবং অ’ত্যন্ত ভালো মানের অ’ভিনয়শিল্পী হিসেবে শ্রদ্ধা করি। সেভাবেই তাঁর সঙ্গে আমা’র পরিচয়। আমা’র সন্তানের মা হিসেবে, আমা’র সাবেক স্ত্রী’ হিসেবেও তিনি সম্মানের দাবিদার। কিন্তু তাই বলে আমা’র স’ম্পর্কে যা খুশি তা-ই মিডিয়াকে বলবে-এটা তো মানা যায় না!’

অনীক বলেন, ‘আমাকে মা’দকাসক্ত বলা হলো। সবার উদ্দেশে বলতে চাই, আমি প্রতিদিন সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠি। এরপর দুই-তিন ঘণ্টা জিমে ওয়ার্কআউট করি। অনেক বেশি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ। আমি অনেক বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবেও থাকি। একজন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ কী’ভাবে মা’দকাসক্ত, সেটা সবার কাছে জানতে চাই। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আমা’র র’ক্ত পরীক্ষা করা হোক।

যদি মা’দকাসক্তের কোনো নমুনা পাওয়া যায়, তাহলে যা শা’স্তি প্রাপ্য তা–ই মেনে নেব। শাবনূরের র’ক্তও পরীক্ষা করা হোক। আমি আসলে এসব মেনে নিতে পারছি না। আমা’র হাতে কোনো নোটিশ এল না, টেলিভিশন আর পত্রিকায় দেখছি, সন্তানের ভরণপোষণও দিই না! সবার কাছে প্রশ্ন রাখছি, সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়ার হিসাব কি আমাকে রাখতে হবে? আমা’র ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকুক কিংবা বাংলাদেশে থাকুক—সব সময় বাবা হিসেবে যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছি।

কিন্তু আফসোস, দেড় বছর ধরে সন্তানকে দেখার সুযোগ থেকেও আমি বঞ্চিত। অনীক বলেন, ‘আড়াই বছর আগে একবার হঠাৎ করে কোনো কথা নেই বার্তা নেই, শরীফ নামের একজন লোকের সঙ্গে মালয়েশিয়া চলে যায়। একজন চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছেন শাবনূর এমন অ’ভিযোগও করেন তিনি। অনিক বলেন, আরো অনেক কা’ণ্ড আছে তার। এসব নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাচ্ছি না।

কখনই ​আর দেশে ফিরবেন না শাবনূর >>> চিত্রনায়ক সালমান শাহর আ’ত্মহ’ত্যার সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের সংশ্লিষ্টতার খবরের রেশ না কাটতেই আবার খবরের শিরোনাম হলেন ঢাকাই ছবির এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এবার স্বামী অনিককে তালাক দেওয়ার খবরের শিরোনাম হলেন তিনি। এর আগেও মিডিয়ায় তার সংসার ভা’ঙার খবর প্রচার হয়েছিল, কিন্তু তা অ’স্বীকার করেছিলেন শাবনূর।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হ্যাঁ অ’স্বীকার করেছিলাম কারণ আমি কয়েকবার তাকে তালাক দিতে চাইলেও বাচ্চার কথা চিন্তা করে এবং আমার পরিবারের অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলাম। কিন্তু পরে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবার তালাকের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম আমি। গত ২৬ জানুয়ারি নিজের সই করা তালাকের একটি নোটিস উকিলের মাধ্যমে স্বামী অনিককে পাঠিয়েছেন শাবনূর।

এদিকে ব্যাথিত মনে সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক বি’বৃতিতে শাবনূর বলেন, ‘আমি আর কখনই দেশে ফিরব না।’ এর কারণ ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে ফেরার মতো মান’সিকতা আমার আর নেই। কারণ একদিকে সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারলাম না। অন্যদিকে সম্প্রতি সালমানের অপমৃত্যুর সঙ্গে অ’নাকাক্সিক্ষত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে জড়ানো হয়েছে। তাই দেশে ফিরে আর কী করব।শাবনূর জানালেন, ছেলে আইজানকে এখানে একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। তা ছাড়া সেদেশে বেশকিছু ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আছেন এই নায়িকা। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশে আর ফিরব না তিনি।