তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেই কমবে করোনার সং’ক্রমণের গতি

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার নিয়েছে করোনাভাইরাস। আক্রান্ত ও মৃ’তের সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার ৫৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মা’রা গেছেন তিন হাজার আটশ ২৮ জন। অপরদিকে করোনায় আক্রান্ত ৬২ হাজার ২৭৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সারা বিশ্বের ১০৯টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনাভাইরাসে

আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৩৫ এবং মৃ’ত্যু হয়েছে তিন হাজার একশ ১৯ জনের। চীনের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ৩৮২ এবং মৃ’ত্যু হয়েছে ৫১ জনের। এই ভাইরাস হানা দিয়েছে ভারতেও। তবে এই মা’রণ ভাইরাসের করাল থাবার থেকে ভারতকে আড়াল করে ঢালের মতো রয়েছে আবহাওয়া। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. অরিন্দম বিশ্বাসের।

চিকিৎসক ড. অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ভারতের মানুষদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, ভারতের আবহাওয়া করোনাভাইরাসের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। তাই আতঙ্কিত হওয়ার থেকে সতর্ক হওয়া বেশি জরুরি। আসলে শীতকাল সব ধরনের ভাইরাসের বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত সময়। তাই পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই কমে আসবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের গতি। গণহারে মাস্ক নয়, বাড়তে পারে ঝুঁ’কি>>>

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে বাঁচতে গণহারে মাস্ক ব্যবহার করার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া -এর ‘কলেজ অব মেডিসিন’ এর ঔষধ ও মহামারী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এলি পেরেনসেভিচ। বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস সম্প্রতি অধ্যাপক এলি পেরেনসেভিচের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। সেখানে নিজের এ মতামত ব্যক্ত করেছেন এলি পেরেনসেভিচ। তিনি বলেছেন,

সুস্থ্য মানুষের জন্য মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কারণ করোনা ভাইরাস বাতাসের সঙ্গে ছড়ায় না, যে বাতাসে ভেসে নাকে বা মুখে প্রবেশ করবে। ভাইরাসটি শরীরের স্পর্শে ছড়ায়। বা হাচি-কাশির মাধ্যমে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। এই ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান উপায় হচ্ছে, হাতের মাধ্যমে নাকে বা মুখে প্রবেশ করা। বিশেষত যখন হাত নাকে বা মুখে নেয়া হয়। তার মতে, একজন সুস্থ্য মানুষ যদি বারবার নাকে না মুখে হাত দেন

তাহলে তার হাত থেকেই করোনা ভাইরাস ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এক্ষেত্রে সুস্থ্য মানুষ মাস্ক ব্যবহার করতে গিয়ে বারবার হাত নাকে বা মুখের কাছে নেয়ায় তার হাতে ভাইরাস থাকলে সেটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু যদি হাত পেছনে রাখা হয় তাহলে সেই আশঙ্কা নেই। তাই মাস্ক ব্যবহার করতে গিয়েও করোনা সংক্রমণ হতে পারে। এলি পেরেনসেভিচ মনে করেন,

যদি হাতকে সব সময় নাক ও মুখ থেকে দূরে রাখা যায় এবং হাত নিয়মিত পরিস্কার রাখা যায় তাহলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। তবে যদি আপনি অসুস্থ্য হন বা হাচি-কাশি হয় তাহলে আপনাকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরিবার বা কাছাকাছির মানুষদের সুরক্ষা দেয়া। যাতে আপনার থেকে ভাইরাসটি অন্যকে সংক্রমিত করতে না পারে।