‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা

রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বাধ্যতামূলক ঘোষণা করলো হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন এ ঘোষণা দেন। রায়ে আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বস্তরের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলতে ও দিতে হবে।আদালত আরো বলেন, সামনে ১৬ ডিসেম্বর আছে বা পরবর্তী সময়ে যেসব জাতীয় দিবস আছে,

প্রতিটি দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ভাষণ বা বক্তব্যের শুরু ও শেষে জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে। ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। ঐ বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রিটের ওপর রুল জারি করে। রুলে ‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করা হবে না,

তা জানতে চাওয়া হয়। চলতি বছর ঐ রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার পক্ষে তাদের মত তুলে ধরেন। দেশের আরেক ‘পাপিয়া’ আশুলিয়ার মনিকা>>> নরসিংদীর আলোচিত পাপিয়ার মতো সাভারের আশুলিয়ায় অপ’রাধ রাজত্ব গড়ে তুলেছেন বহিষ্কৃত এক যুব মহিলা লীগ নেত্রী। তার অপক’র্মের শি’কার হয়ে অনেকেই বী’তশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছেন।

মা’দক ও নারী ব্যবসা, চাঁ’দাবাজি, দখল ছাড়াও মি’থ্যা নারী নি’র্যা’তন মাম’লায় অনেককেই ফাঁ’সিয়ে ব্ল্যা’কমেইল ক’রার অভি’যোগ উঠেছে তার বিরু’দ্ধে। মা’দক ও দে’হ ব্যবসার অভি’যোগে বহিষ্কৃ’ত হলেও মনিকা নিজেকে পরিচয় দেন কেন্দ্রীয় মহিলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বলে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে মনিকার কোনো সদস্য পদ নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

কিন্তু স্থানীয় নেতা ও যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রীসহ হাই প্রোফাইল ব্যক্তির সাথে সখ্যতার কারণে প্রভাব বিস্তার করেছেন নিজ এলাকায়। বেপরোয়া মনিকা যেনো হয়ে উঠেছেন আশুলিয়ার ‘পাপিয়া’।মা’দ’কদ্রব্য অধিদপ্তরের অভিযো’গপত্র সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়া থানা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী মনিকা হাসান ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্য মা’দক এবং দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত। এমনকি মনিকা তার নিজ বাড়িতেই এসব অ’নৈতিক কাজ পরিচালনা করেন।

মা’দক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘মনিকা হাসান ই’য়াবা ডিলার, তার দুলাভাই আফজাল হোসেন এবং মামাতো ভাই জাহিদ ইয়া’বা ও ফে’নসি’ডিল ব্যবসায়ী। এছাড়া মনিকার বড় খালা আয়শা বেগম, খালু রনি ও খালাতো বোন নার্গিস ইয়া’বা ব্যবসায়ী।
শুধু মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরই নয়; মনিকার মামা কাজল মিয়া, মামী নাজমুন নাহার, খালু শহীদ ভুঁইয়া, বোনজামাই জসিম উদ্দিন ও

খালাতো ভাই রাজু মিয়ার নামেও আশুলিয়া থানায় রয়েছে আরো চারটি মা’দক মামলা।অভি’যোগ রয়েছে, মনিকা হাসান মা’দকদ্রব্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মা’দক ব্যবসায়ী চিহ্নিত হওয়ার পর নিজেকে নির্দো’ষ দাবি করে তার এলাকার ধামসোনা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মঈনুল ইসলামের নিকট মি’থ্যা প্রত্যয়নপত্র চান। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় ওই ইউপি সদস্যের বিরু’দ্ধে নানা অ’পপ্রচার চালাতে থাকে মনিকা।

পরে বিপাকে পড়ে ওই ইউপি মেম্বার থানায় একটি লিখিত অভি’যোগ করেন। এছাড়া আশুলিয়া থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমুন নাহার কাজল ও সাধারণ সম্পাদক সাবিনা আক্তার লাভলী অ’পপ্রচার, হয়রা’নি ও হু’মকি প্রদানের অভিযোগ এনে মনিকার বিরু’দ্ধে থানায় ডায়েরি করেন। এমনকি তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হা’মলা, মা’রধর ও ভা’ঙচুরের অভি’যোগে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেত্রী মনিকার বিরু’দ্ধে

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি মামলা চলমান রয়েছে।আশুলিয়া থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমুন নাহার কাজল অভি’যোগ করেন, মা’দক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মনিকাকে বহি’ষ্কার করা হলে সে আমার বিরু’দ্ধে নানা অ’পপ্রচার চালাতে থাকে। একপর্যায়ে আমার স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে মিথ্যা নারী নি’র্যা’তন মাম’লায় ফাঁ’সিয়ে কা’রাগারে পাঠায়।

আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আজাদ নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘মনিকা নামে ওই যুবলীগ নেত্রী এক নারীকে দিয়ে মিথ্যা ধ’র্ষণ মামলার মাধ্যমে তাকে ব্লা’কমেই’ল করেছে।’এদিকে আশুলিয়ার দক্ষিণ বাইপাইল এলাকার আব্দুল মজিদের মেয়ে যুবলীগ নেত্রী বেপরোয়া মনিকা হাসানের নানা অ’সামাজিক কর্মকা’ণ্ডে ভী’তস’ন্ত্রস্থ ও অতি’ষ্ঠ এলাকাবাসী। কিন্তু মিথ্যা নারী নি’র্যা’তন মা’মলায় ফাঁ’সার ভ’য়ে তার বিরু’দ্ধে মুখ খুলতে চায় না এই এলাকার কেউই।

এসব অ’স্বীকার করে মনিকা হাসান বলেন, ‘২০১৭ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হয়েছেন। তার ও পরিবারের বিরু’দ্ধে আনা মা’দকসহ অন্যান্য অভিযোগ মি’থ্যা। একটি রাজনৈতিক মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ফাঁ’সানোর চেষ্টা করছে।’ঢাকা জেলা মহিলা যুবলীগের আহ্বায়ক শিলারা ইসলাম জানান, ‘গত এক বছর আগে মনিকা আশুলিয়া থানা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক থাকাকালীন তাকে চিনতাম।

পরে মা’দক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। এখন তার বিরু’দ্ধে কোনো অভি’যোগ থাকলে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই ব্যবস্থা নেবেন।’ সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, ‘মনিকার বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভি’যোগ জানানো হবে। তারাই তদ’ন্ত করে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন।তবে তার সাথে ঘনিষ্ঠ ছবির প্রসঙ্গে ঢাকা-১৪ আসনের

সাবেক এমপি সাবরিনা আক্তার তুহিন বলেন, ‘আমার সাথে পাপিয়া ও আশুলিয়ার মনিকার কোনো সখ্যতা নেই। তবে মনিকার বিরু’দ্ধে মা’দকের অভি’যোগ থাকলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।’এ ব্যাপারে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল জানান, ‘যুব মহিলা লীগের অনেক নেত্রী কিংবা তাদের সাথে অনেক মেয়েই এসে আমার গলা ধরে ছবি তোলে। এতে আমি কি করবো?

তবে এখন থেকে সতর্ক হয়েছি। কাউকে না চিনলে এখন আর ছবি তুলবো না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আশুলিয়ার মনিকা হাসান নামে ওই নারী যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নয়। যদি সে এই পরিচয় দিয়ে অ’পকর্ম করে থাকে তাহলে তার বিরু’দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আশুলিয়ার যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত ওই নেত্রীর বিরু’দ্ধে মা’দক সংশ্লি’ষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া চাঁ’দাবাজি, দখল ও মি’থ্যা মা’মলা দিয়ে ব্লা’কমে’ইলের বিষয়ে কেউ অভি’যোগ করলে আমরা এ বিষয়ে তদ’ন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।