গণহারে মাস্ক নয়, বাড়তে পারে ঝুঁ’কি

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে বাঁচতে গণহারে মাস্ক ব্যবহার করার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া -এর ‘কলেজ অব মেডিসিন’ এর ঔষধ ও মহামারী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এলি পেরেনসেভিচ। বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস সম্প্রতি অধ্যাপক এলি পেরেনসেভিচের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। সেখানে নিজের এ মতামত ব্যক্ত করেছেন এলি পেরেনসেভিচ। তিনি বলেছেন,

সুস্থ্য মানুষের জন্য মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কারণ করোনা ভাইরাস বাতাসের সঙ্গে ছড়ায় না, যে বাতাসে ভেসে নাকে বা মুখে প্রবেশ করবে। ভাইরাসটি শরীরের স্পর্শে ছড়ায়। বা হাচি-কাশির মাধ্যমে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। এই ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান উপায় হচ্ছে, হাতের মাধ্যমে নাকে বা মুখে প্রবেশ করা। বিশেষত যখন হাত নাকে বা মুখে নেয়া হয়। তার মতে, একজন সুস্থ্য মানুষ যদি বারবার নাকে না মুখে হাত দেন

তাহলে তার হাত থেকেই করোনা ভাইরাস ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এক্ষেত্রে সুস্থ্য মানুষ মাস্ক ব্যবহার করতে গিয়ে বারবার হাত নাকে বা মুখের কাছে নেয়ায় তার হাতে ভাইরাস থাকলে সেটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু যদি হাত পেছনে রাখা হয় তাহলে সেই আশঙ্কা নেই। তাই মাস্ক ব্যবহার করতে গিয়েও করোনা সংক্রমণ হতে পারে। এলি পেরেনসেভিচ মনে করেন, যদি হাতকে সব সময় নাক ও মুখ থেকে দূরে রাখা যায়

এবং হাত নিয়মিত পরিস্কার রাখা যায় তাহলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। তবে যদি আপনি অসুস্থ্য হন বা হাচি-কাশি হয় তাহলে আপনাকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরিবার বা কাছাকাছির মানুষদের সুরক্ষা দেয়া। যাতে আপনার থেকে ভাইরাসটি অন্যকে সংক্রমিত করতে না পারে। সাবধান! করোনা ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ধূমপায়ীরা: দাবি চিকিৎসকদের>>>

চীনে ম’হামা’রী রূ’প নেওয়ার পর বিশ্বব্যা’পী ছ’ড়িয়ে পড়ছে প্রা’ণঘা’তী করোনা ভা’ই’রাস। এরই মধ্যে বিশ্বের ৯৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছ’ড়িয়ে পড়েছে এই ভাই’রাস।এরই মধ্যে এক লাখ ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রা’ন্ত হয়েছে এই ভাই’রাসে। মৃ’ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৫৯৫ জন। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাই’রাস। প্রা’ণঘা’তী করোনা ভাই’রাসে নারী ও শি’শুদের তুলনায় পুরুষের মৃ’ত্যুর হার বেশি। চাইনিজ সে’ন্টার’স অব ডি’জি’জ ক’ন্ট্রো’লের পরিসং’খ্যান বিশ্লে’ষণ করে এ ত’থ্য দিয়েছে বিবিসি।

এক্ষেত্রে ৪৪ হাজার রোগীর ত’থ্য বিশ্লে’ষণ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এই রোগীদের যারা মা’রা গেছেন তাদের মধ্যে ২.৮ শতাংশ পুরুষ, নারী ১.৭ শতাংশ। বিপরীতে শি’শু ০.২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মা’রা যাচ্ছে বয়স্ক মানুষ, প্রায় ১৫ শতাংশ। সাধারণ ফ্লু’ যখন ছ’ড়িয়ে পড়েছিল, তখনও একই অবস্থা দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, লাই’ফস্টা’ইলের কারণে এই পার্থক্য। পুরুষেরা এমনিতে বাইরে বেশি ঘো’রাফে’রা করেন, তার ওপর অনেকে আবার ধূম’পান করেন।

যার কারণে ফু’সফু’সের ক্ষ’তি তাদের বেশি হয়। আর এই ধরনের ভাই’রাস ফু’সফু’সকেই আগে আ’ক্র’মণ করে।চীনে বেশি পুরুষ মা’রা যাওয়ার কারণও এই ধূমপান। দেশটির ৫২ শতাংশ পুরুষ ধূ’মপান করেন। সেখানে নারীদের মধ্যে এই অ’ভ্যাস আছে ৩ শতাংশের।এসবের পাশাপাশি নারীদের ই’নফে’কশন প্র’তিরো’ধ-ব্যবস্থাও আলাদা। পূর্ব আঞ্জলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পল হান্টার বলেন, ‘ফ্লু’ প্র’তিরো’ধে নারীদের শরীর ভ্যা’কসি’নের ক্ষেত্রে ভালো অ্যা’ন্টিব’ডি উৎ’পন্ন করে।’ শি’শুদের কম আ’ক্রা’ন্ত হওয়ার পেছনে কিং’স কলেজ লন্ডনের ডাক্তার নাথালি ম্যাকডার্মটের যু’ক্তি, ”ম’হামা’রি ছ’ড়িয়ে পড়ার পর মা-বাবা সবার আগে শি’শুদের বাড়তি য’ত্ন নেয়। তাদের সু’স্থতার জন্য এটি একটি কারণ।”