চাঁদপুরে ইতালি ফেরত একজন করোনা স’ন্দেহে হাসপাতালে

চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ইতালি ফেরত এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (০৯ মার্চ) রাত ১০টায় ওই বৃদ্ধের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন রোগতত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন টেকনোলজিস্ট। গত বৃহস্পতিবার ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফিরেন ৬০ বছরের ওই বৃদ্ধ। শনিবার জ্বর ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আলাদা একটি ভবনে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে করোনা প্রতিরোধ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইতালি ফেরত ওই বৃদ্ধকে সেখানেই রাখা হয়েছে। ডা. মিথেন আরো জানান, সোমবার ওই বৃদ্ধকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর রোগের কারণ নিশ্চিত হতে রোগতত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) জানানো হয়।

রাতে ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এসময় তিনি জ্বর ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত ওই রোগির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে এই বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ কর্মকর্তা। এক দিকে ইউরোপের ইতালি ফেরত অন্যদিকে দেশের বাড়িতে আসার দুই দিনের মধ্যে জ্বর ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন তিনি।

তাই করোনা ভাইরাস সন্দেহে তাকে স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ বছর ধরে ওই ব্যক্তি ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতেই দেশে ফিরেন তিনি। মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের বাড়ি ভাড়া গ্রামে তার বাড়ি। এদিকে চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, জেলায় করোনা ভাইরাসজনিত রোগীদের জন্য এক’শ শয্যার বিশেষ ইউনিট খোলা হয়েছে।

এরমধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩০টি, বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে ২১টি এবং সাতটি উপজেলায় আরো সাতটি করে মোট ৪৯টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের এখন থেকে আলাদা রাখার বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান জানান, মাস্ক ও সেনেটাইজেশন সামগ্রি যেনো কোনো অবস্থায় বাজার দরের

চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি না করে, সেই বিষয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এই জন্য প্রয়োজনীয় প্রচার ও প্রচারণারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের দেশে না আসার অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর>>> প্রবাসীদের দেশে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক। একই সঙ্গে খেলাধুলো, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি এ কমিটির সভাপতি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম হঠাৎ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা আমরা নেব। করোনা প্রিভেন্ট করার (প্রতিরোধ) বিষয়ে তিনি আরও বলেন,

বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে আসছেন, আমি বলব, এই মুহূর্তে আপনারা দেশে আসবেন না। নিজ নিজ স্থানে থাকুন। এটা আগেও আমরা বলেছি। অ্যাম্বাসেডরদেরও (রাষ্ট্রদূত) আমরা নির্দেশনা দিয়েছি- তাদের জন্য সেফ জোনের ব্যবস্থা করতে। মন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে তারা বেশি যাবেন, আমরা সেটাও চাই না। সবাইকে সেল্ফ-কোয়ারেন্টাইনে (স্বেচ্ছায়) থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে খবর দেয়া হয়েছে,

যারা আসবেন (বিদেশফেরত) সেল্ফ-কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। তার যারা প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন- বিষয়টি আমাদের জানাবেন। আমরা তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেব। ‘জনগণকে বলব, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটা হবে, আমরা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। আমরা যদি সকলে মিলে কাজ করি, প্রটেকটিভ মেজারগুলো মেনে চলি, পাবলিক গ্যাদারিং পরিহার করি- যেগুলো আমরা বলে আসছি,

আশা করি করোনাভাইরাস আমরা প্রতিরোধ করতে পারব’- যোগ করেন মন্ত্রী। উল্লেখ্য রোববার (৮ মার্চ) সরকারের আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ তিনজন ছাড়া আরও
দুজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সোমবার দুপুরের প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আরও চারজনের পরীক্ষা হয়েছে। তবে পরীক্ষায় কারোর মধ্যেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি । তার মানে এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিনজনই।