যাত্রীর চাপে ভাঙল শাহজালালের একমাত্র স্ক্যানার

যাত্রীদের চাপে ভেঙে গেছে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ (শরীরের তাপমাত্রা)
পরীক্ষার একমাত্র থার্মাল স্ক্যানারটি। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে বিদেশ ফেরত অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে স্ক্যানারটি ভেঙে যায় বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা জানান, এতদিন একটি স্ক্যানার দিয়েই যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হত। এতে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো।

রাতে যাত্রীরা অধৈর্য হয়ে স্ক্যানারটির উপর হুমড়ে পড়লে সেটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে সেটি অকেজো অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, সাধারণ যাত্রীদের স্ক্যানারটি ভাঙলেও ভিআইপি টার্মিনালের স্ক্যানারটি বর্তমানে সচল রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিমানবন্দরে লোকবল বাড়িয়ে খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করো হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

ক’রোনাভাইরাস স’ন্দেহে মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িই এখন কো’য়ারেন্টাইন>>> জ্বর ও কাশির উপসর্গ নিয়ে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তিকে তার বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়ার কথা জানালেও তার করোনাভাইরাস আ’ক্রান্ত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।অপরদিকে জামালপুরে এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত না হলেও জেলা প্রশাসন ও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ১০০ শয্যার একটি কোয়ারেন্টাইন ভবন প্রস্তুত রাখার জন্য চিহ্নিত করে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া ফেরত ওই ব্যক্তির নাম মো. আলতাফুর রহমান (৪৫)।মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের চিনিতোলা গ্রামের মৃ’ত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে তিনি। তিনি রোববার মালয়েশিয়া থেকে বিমানে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন বেলা ১১টার দিকে। এ সময় তার শরীরে জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা দেয়। রোববারই তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি মেলান্দহের বাড়িতে যান।

আলতাফুর রহমান সোমবার সকালে জ্বর ও কাশির চিকিৎসা নিতে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দিন তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন এবং বিদেশ ফেরত হিসেবে বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্যের সংস্পর্শ ছাড়াই অন্তত দুই সপ্তাহ আলাদা ঘরে থাকার পরামর্শ দেন। মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক বলেন,

স্বাস্থ্য সহকারী আবু হাসান মাসুদকে মালয়েশিয়া ফেরত আলতাফুর রহমানের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। তার শরীরে সামান্য জ্বর এবং কিছুক্ষণ পরপর কাশি হলেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার মতো কোনো উপসর্গ তার দেহে পাওয়া যায়নি। তারপরও তিনি যেহেতু বিদেশ ফেরত এবং তার শরীরে জ্বর ও কাশি রয়েছে, তাই তাকে আমাদের স্বাস্থ্য সহকারীর উপস্থিতিতে বাড়িতেই আলাদা একটি কক্ষে কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিদিন একজন করে স্বাস্থ্যকর্মী তার পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে আসা এই ব্যক্তির সম্পর্কে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ দিকে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জেলায় প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, জেলার মেলান্দহে মালয়েশিয়া ফেরত একজনকে তার বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়ে

বাড়িতেই তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার সামান্য জ্বর ও কাশি রয়েছে শুনেছি। তবে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা তাকে সার্বিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। এ ছাড়া এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে কাউকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়নি। জেলায় এখনও কোনো ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা যায়নি। সিভিল সার্জন আরও জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জামালপুর জেলায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায়

এবং জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও সিভিল সার্জনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে।রোববার দুপুরে কমিটির প্রথম বৈঠকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের একটি ভবনে ১০০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন ভবন খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সিভিল সার্জন জানান, ওই ভবনে এবং ইতিমধ্যে চালু করা জেলা সদর হাসপাতালে ৫ শয্যার ও জেলার ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে দুই শয্যার আইসোলেশন কক্ষের জন্য এবং রোগী, চিকিৎসক ও সব স্বাস্থ্যকর্মীদের লজিস্টিক সহায়তার জন্য ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআরে বার্তা পাঠানো হয়েছে।