প্রবাস জীবনে কুরআনকে আমরা ব’ন্ধু বানাতে চাই: প্রবাসীদের উদ্দেশে আজহারী

গতকাল মালেয়শিয়ায় প্রবাসী কমিউনিটির আয়োজনে কুয়ালালামপুরে মাহফিল করেছে জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। প্রবাসীদের শুদ্ধ জীবন গঠনের লক্ষ্যে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আজহারী। ভিউয়ার বিডির পাঠকদের জন্য আজহারীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো: ‘আলহামদুলিল্লাহ! মালয়েশিয়া প্রবাসী কমিউনিটির আয়োজনে গতকাল কুয়ালালামপুরের উইসমা

এম. সি. এ. কনভেনশন হলে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের নিয়ে আমরা কুরআনুল কারীম থেকে তাফসির শুনেছি। প্রবাসে শুদ্ধ জীবন গঠনের লক্ষ্যে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল গুলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। পরিবার পরিজনহীন এ প্রবাস জীবনে কুরআনকে আমরা বন্ধু বানাতে চাই, নিত্যসঙ্গী করে কাছে রাখতে চাই, কুরআনের প্রকৃত শিক্ষাকে ধারণ করতে চাই এবং কুরআনময় করে রাখতে চাই আমাদের কমিউনিটির সকল তৎপরতা।

ওয়া বিল্লাহিত্তাওফিক ওয়াল ইতমাম।দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যারা এ প্রোগ্রামটি সার্থক করেছেন তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। ম্যানেজমেন্ট, সিকিউরিটি ও ডিসিপ্লিন টীমের সবার জন্য রইল আন্তরিক দুয়া ও ভালোবাসা। হল রুমের ধারন ক্ষমতার কয়েক গুন বেশী শ্রোতা চলে আসায়, সবাইকে একমোডেট করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক ভাইদেরকে ফিরে চলে যেতে হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকেও উত্তম বিনিময় দান করুক।

প্রবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক কুরআনের আলো। সুখী সমৃদ্ধ ও আলোকিত জীবনের অধিকারী হোক আমাদের প্রতিটি রেমিটেন্স ফাইটারের সংগ্রামী জীবন।’ করোনাভাইরাস থেকে বাঁ‘চতে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে বললেন শাইখ সুদাইস>>> বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে করোনা ভাইরাস। দিনদিন এই ভাইরাসে মৃ’;;তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃ’ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ জনের।

বিভিন্ন দেশে ৯৫ হাজার ৪৮১ জন এ ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৬৮৮ জন। এমতাবস্তায়, পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামে সাপ্তাহিক পাঠদানে মক্কা ও মদিনাবিষয়ক অধিদফতরের প্রধান এবং মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইস এ বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা,

মাল ও জানের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ।’ (সূরা বাকারা: ১৫৫) আল্লাহ মানুষকে নানা মুসিবত দিয়ে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় ফেলেন। এটি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের বিপরীত কিছু নয়। অন্যত্র আল্লাহর ইরশাদ হয়েছে, (হে নবী) আপনি বলুন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছবে না। কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছেন; তিনি আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর ওপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।

(সূরা তওবা: ৫১) একজন মুসলিম সদা আল্লাহর সিদ্ধান্ত এবং ফয়সালার প্রতি ঈমান রাখে। ভয়াবহ এই করোনাভাইরাস ব্যাধিতে মানুষ আজ তিন ভাগে বিভক্ত। দুই পক্ষ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির দু’প্রান্তে। তৃতীয় একটি পক্ষ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। একপক্ষ শুধু ভরসা করে কিন্তু বাহ্যিক কোনো উপায় অবলম্বন করে না। আরেক পক্ষ নানাপন্থা অবলম্বন করলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে না। (যা সম্পূর্ণ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি)।

অপরদিকে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের বৈশিষ্ট্য হল, তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার পাশাপাশি সুরক্ষার নিমিত্তে পূর্ণ সতর্কতা নিয়ে নানা উপায় অবলম্বন করে। এ ব্যাধিটি ছড়িয়ে না পড়তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনে সৌদি রাষ্ট্রের পরিচালিত বাস্তবসম্মত নীতি এটিই। যদি করোনার এই ভাইরাস প্রতিরক্ষায় জগৎবাসী যদি একত্রিত হয়ে যায়, তো আল্লাহর আদেশ, সিদ্ধান্ত ও ফায়সালা ছাড়া কোনোরূপেই তা হতে বাঁচা সম্ভব নয়। তাই বান্দাহর জন্য অবশ্য করণীয় হল আল্লাহর সমীপে ধাবিত হওয়া এবং একমাত্র তাঁর প্রতি ভরসা রাখা।