বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, করোনাভাইরাস সম্পর্কে জাতীয় পর্যায়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মতামত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরিস্থিত এখনও তৈরি হয়নি। বিষেশজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ১৫৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক প্রফেসর আহাম্মেদ সাজ্জাদ রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন প্রমুখ। মন্ত্রী বলেন, মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে মানসম্মত শিক্ষক খুবই জরুরি।

শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত আপডেট থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্বে সবকিছু খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে আমরা পরিচিত হচ্ছি। তাই অনার্স, মাস্টার্স অথবা পিএচডি ডিগ্রি নিলেই সব শেষ হয়ে গেল তা নয়। আমাদের জীবনব্যাপী শিক্ষতে হবে। এর আগে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান,

করোনা আতঙ্কে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো পরিস্থিতিই তৈরি হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেয়া হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। করোনা আ’ক্রান্ত ৩ জনের সংস্পর্শে আসা ৪০ জন কোয়ারেন্টাইনে: স্বাস্থ্য সচিব>>> দেশে করোনা আক্রান্ত ৩ জনের সংস্পর্শে এসেছে এমন ৪০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব। সোমবার (০৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য সচিব মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম।স্বাস্থ্য সচিব বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো অবস্থা এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আপাতত বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলতে হবে।

সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করার মতো বিষয়সহ সার্বিক আরও সিদ্ধান্ত বিকেল ৪টার সভায় জানানো হবে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, দেশে নতুন করে কারও শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। গেল ২৪ ঘণ্টায় চারজনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তাদের কারও শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়নি।

কিন্তু এদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ২ ভাই করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত>>> বাংলাদেশে প্রথমবারের মত যে তিনজন করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে দুইজন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জবাসীকে কোন ধরনের আ’তংকিত না হওয়ার অ’নুরোধ করেছেন জে’লা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ।তিনি জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে আ’তংকিত হওয়ার কোন কারণ নাই। লোকজনদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে কোন ধরনের সমস্যা নাই। ৮ মা’র্চ রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে শহরব্যাপী আ’তঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে এদিন দুপুরে তিনজন করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন দুইজন। জানা গেছে, তিনজনের মধ্যে দুইজন নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। কিছুদিন পূর্বে ইতালী ফেরত দুই ভাই দেশে আসে। পরবর্তীতে জ্বর অনুভব করলে তারা একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করান।

সেখান থেকে চিকিৎসকরা রাজধানীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে অবহিত করেন।পরবর্তীতে দফায় দফায় তাদের দুইজন সহ পরিবার স্বজনদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। ওই ভবনের একজন বলেন, ইতালী ফেরত দুই ভাই কয়েকদিন আগে এসেছে।তাদের দুইজনকে করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তারা আ’ক্রান্ত নন। তিনি আরো বলেন, তাদের পরিবার এখানে ৫-৬ মাস যাবত ভাড়া থাকলেও বিদেশ থেকে ৫-৬ দিন আগে এসেছে।

মূলত ইতালী ও চীন ফেরত প্রবাসীরা দেশে ফিরলেই করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাদের দুজনকে আ’ক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়েছে।বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মহাখালীর আইইডিসিআর-এর কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তাদের কাছে থেকে একজন করোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। সেব্রিনা বলেন, আ’ক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং একজন নারী।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনের হুবাই প্রদেশের উহানে উৎপত্তি হয় করোনা ভাইরাসের। পরে চীনের অন্যান্য প্রদেশ এবং বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানেও করোনায় আ’ক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রোগী শ’নাক্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।আজ মীরজাদি সেব্রিনা বলেন, ‘ সারা বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ ব’ন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।’

তবে করোনা প্রতিরো’ধে প্রয়োজন না হলে জনসমাগমে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন সেব্রিনা। তিনি বলেন, করোনা প্র’তিরোধে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। আইসোলিশেন ইউনিট করেছিলাম।সেব্রিনা বলেন, আ’শঙ্কা করছি না আরও ছড়িয়ে পড়বে। প্রত্যেকের মাস্ক পড়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো দরকার নেই। চীনে মহামা’রী রূপ নেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে প্রা’ণঘা’তী করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বের ৯৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।এরই মধ্যে এক লাখ ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আ’ক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসে।

মৃ’ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৫৯৫ জন। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস।প্রা’ণঘা’তী করোনাভাইরাসে নারী ও শিশুদের তুলনায় পুরুষের মৃ’ত্যুর হার বেশি। চাইনিজ সেন্টারস অব ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য দিয়েছে বিবিসি। এক্ষেত্রে ৪৪ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এই রোগীদের যারা মা’রা গেছেন তাদের মধ্যে ২.৮ শতাংশ পুরুষ, নারী ১.৭ শতাংশ। বিপরীতে শিশু ০.২ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি মা’রা যাচ্ছে বয়স্ক মানুষ, প্রায় ১৫ শতাংশ।সাধারণ ফ্লু যখন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনও একই অবস্থা দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, লাইফস্টাইলের কারণে এই পার্থক্য।পুরুষেরা এমনিতে বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করেন, তার ওপর অনেকে আবার ধূ’মপান করেন। যার কারণে ফুসফুসের ক্ষ’তি তাদের বেশি হয়। আর এই ধরনের ভাইরাস ফুসফুসকেই আগে আ’ক্রমণ করে।চীনে বেশি পুরুষ মা’রা যাওয়ার কারণও এই ধূ’মপান।

দেশটির ৫২ শতাংশ পুরুষ ধূ’মপান করেন। সেখানে নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস আছে ৩ শতাংশের। এসবের পাশাপাশি নারীদের ইনফেকশন প্রতিরো’ধ-ব্যবস্থাও আলাদা। পূর্ব আঞ্জলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পল হান্টার বলেন, ‘ফ্লু প্রতিরো’ধে নারীদের শরীর ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ভালো অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে।শিশুদের কম আ’ক্রান্ত হওয়ার পেছনে কিংস কলেজ লন্ডনের ডাক্তার নাথালি ম্যাকডার্মটের যুক্তি, ‘ম’হামা’রি ছড়িয়ে পড়ার পর মা-বাবা সবার আগে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়। তাদের সু’স্থতার জন্য এটি একটি কারণ।