পবিত্র কোরআন শিক্ষার সময় স্কুলে ভ*য়াবহ আগুন, নি*হত ২৭ ।

পশ্চিম আফ্রিকার লাইবেরিয়ার একটি স্কুলে ভয়াবহ অ*গ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৭ শিশুর মৃ*ত্যু হয়েছে। এদের বয়স ১০ বছরের মধ্যে। প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ইমাম এবং ২ শিশু। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। বুধবার পুলিশের তরফে একথা জানানো হয়েছে।

‘পড়ুয়ারা যখন পবিত্র কোরআন পড়ছিল সে সময় আগুন লাগে’ বলে পুলিশের মুখপাত্র মোসেস কার্টার জানিয়েছেন। এই অ*গ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে বৈদ্যুতিন শর্টসার্কিট থেকে এই আ*গুন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার বিশদ তদন্ত করছে পুলিশ।

লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জ উইয়া ট্যুইট করে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে রাজধানী মোনরোভিয়ার উপকণ্ঠে ওই স্কুলটিতে আ*গুন লাগে। আবাসিক ওই স্কুলটিতে মোট ২৯ জন পড়ুয়া পড়ত।

তিনি লিখেছেন, ‘গত রাতে পেনেসভিল্লে শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নি*হত শিশুদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। স্বজনহারা পরিবার এবং সমগ্র লাইবেরিয়ার ক্ষেত্রে এটি খুব কঠিন সময়।’

লাইবেরিয়ার বড় শহরগুলিতে বাড়ি ভেঙে পড়া বা ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ পরিবহন ব্যবস্থার কারণে আ*গুন লাগা কোনও নতুন ঘটনা নয়। তবে এই ধরনের ভয়ঙ্কর অ*গ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন… পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারার ৯৫ নম্বর সূরার প্রথম আয়াত وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ‘ওয়াত্তীনি ওয়াযাইতূনি। বর্ণিত সূরায় আল্লাহতায়ালা তীন গাছের নামে শপথ করেছেন। সূরার প্রথম শব্দ তীন অনুসারে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে- সূরা আত-তীন। তীনের বাংলা অর্থ আঞ্জীর বা ডুমুর।মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এ ফলের উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে করা হয়।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আফগানিস্তান থেকে পর্তূগাল পর্যন্ত এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্যে। তবে শখের বসে খুলনার মাটিতে একটি তীন গাছ মিসর থেকে এনে লাগানো হয়। বর্তমানে খুলনার মাটিতে বেড়ে উঠছে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সেই তীন গাছ। ধরছে ফলও।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজে’লার জলমা’র দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স পরিচালিত সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের আঙ্গিনায় ২০১১ সালে সোসাইটি অব সোস্যাল এন্ড টেকনোলজিক্যাল সার্পোট কুয়েতের প্রাক্তন মহাপরিচালক আবু মুহাম্ম’দ আসসাওয়াদফি আল ফিকাহ মিসর থেকে এই গাছটি আনেন। গাছটি রোপন করেন দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর পরিচালক সুফি সালাই’মান মাসদ।

দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর প্রশাসনিক কর্মক’র্তা সানোয়ার হুসাইন বলেন, খুলনার আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই গাছটি অন্যান্য গাছের মতোই বেড়ে উঠেছে। গাছটিতেও ফলও ধরেছে। গাছটির ফল আমি খেয়েছি। এটি অনেক সুস্বাদু। তার দাবী, এ গাছটি বাংলাদেশে এই একটিই আছে।

সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সূরা তীন যে গাছের নামে সেই তীন গাছ এ স্কুলে থাকায় অনেকে এটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে যখন ফল ধরে তখন শিক্ষার্থী ও অ’ভিভাবকদের আগ্রহ থাকে গাছটির প্রতি বেশি। এছাড়া অনেক দর্শনার্থী গাছটির খবর পেয়ে দেখতে আসেন।

জানা যায়, আঞ্জির হচ্ছে ডুমুর জাতীয় এক ধরনের ফল। এর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica । ফাইকাস গণভুক্ত প্রায় ৮০০ প্রজাতির মধ্যে আঞ্জির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। এই ফলের আকার কাকডুমুরের চেয়ে বড়; এটি একটি জনপ্রিয় মিষ্টি ও রসালো ফল।

হিন্দি, মা’রাঠি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় এই ফলকে আঞ্জির বলা হয় এবং আরবি ভাষায় এর নাম তীন। এ গাছ ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনে এই ফলকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত বা অনুগ্রহরূপে ব্যক্ত করা হয়েছে। বাইবেলেও এই ফলের কথা উল্লেখ রয়েছে।