ছে‌লের আশায় ৫ কন‌্যা‌ জন্ম নেয়ায় স্ত্রীকে ছাড়লেন স্বামী ।

ছেলে সন্তানের আশায় পর পর ৫ কন্যা সন্তান হওয়ায় স্ত্রী’কে ছেড়ে স্বামী নতুন এক নারীকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। এদিকে ৫ কন্যা সন্তান নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন স্ত্রী’। অভাবের সংসারে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ সদর উপজে’লার শিমুলিয়া বলিরঘাট দক্ষিণপাড়ায়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ রিভা বেগম জানান, বলিরঘাট দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় এক যুগ আগে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ছেলে সন্তানের আশায় স্বামীর ইচ্ছায় পর পর ৫ বার গর্ভে সন্তান ধারণ করেন তিনি। সন্তানগুলোর মধ্যে বড় মেয়ের বয়স প্রায় ১১ বছর। ছোট মেয়ের বয়স ২ বছর। পর পর মেয়ে সন্তান হওয়ায় হেলাল স্ত্রী’ রিভা’কে এড়িয়ে চলতে থাকে। সংসারের খরচ চালাতে টালবাহানা শুরু করে। মাঝে মধ্যেই অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে, নতুন সংসার করার হুমকি দিতো।

সম্প্রতি সংসারের খরচ বা ভরণ পোষণ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এমনকি স্ত্রী’ সন্তানদের খোঁজ খবর নেয়া বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় হেলাল। এমন পরিস্থিতে সংসার চালানোর জন্যে অন্যের বাড়িতে কাজ নেয় রিভা। খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের সংসার।তিনি অ’ভিযোগ করে আরো জানান, পর পর ৫টি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় স্বামী হেলাল রিভাকে অন্যায় ভাবে ভৎসনা দেয়।

একইসঙ্গে রিভার অনুমতি ছাড়াই গো’পনে অন্য আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে উধাও হয় হেলাল। মাস ছয়েক ধরে কোন প্রকার যোগাযোগ কিম্বা সাংসারিক খরচ না দিয়েই আত্মগো’পনে আছে হেলাল। এমন পরিস্থিতিতে গৃহবধূ স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন আইন সহায়তা কেন্দ্রে লিখিত অ’ভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে আইন সহায়তা কেন্দ্রের পরিচালক শফিকুল ইস’লাম জানান, রিভা স্বামীর বি’রুদ্ধে লিখিত অ’ভিযোগ করার পর দুই পক্ষকে ডেকে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু বিবাদী হেলাল আপস বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় তার বি’রুদ্ধে একটি অ’ভিযোগ গঠন করে জে’লা লিগ্যাল এইড কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অন্যায় ভাবে ভর্ৎসনা দিয়ে স্ত্রী’কে সমাজে হেয় করেছেন অ’ভিযুক্ত হেলাল। এছাড়া স্ত্রী’-সন্তানের ভরণ পোষণ না দিয়ে ও একইসঙ্গে প্রথম স্ত্রী’র অনুমতি ছাড়াই অন্য কারো সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় প্রচলিত আইন ভঙ্গ করেছে।

একসঙ্গে ১১ জনকে বিয়ে করলেন এই সুন্দরী >>> বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন। যেখানে মনেরও মিল থাকা জরুরি। তবে একজনকেই জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন নারী কিংবা পুরুষ। যদিও অনেক পুরুষদেরই একাধিক বিয়ে করতে দেখা যায়। তবে নারীদের নয়। গল্পে কিংবা সিনেমায়ও কখনো একসঙ্গে বহুবিবাহ করতে দেখা যায় না। আগের দিনে রাজাদের অনেক রানি ছিল তা ঠিক। তবে এখন এমন একজনের গল্প বলবো, যার বাস্তব জীবন হার মানায় বলিউড সিনেমাকেও।

ভারতের নয়ডা’য় বসবাসরত ২৮ বছরের মেঘা ভার্গব। সোনম কাপুর অভিনীত হিন্দি ছবি ‘ডলি কে ডোলি’র গল্পই যেন উঠে এসেছে মেঘা ভার্গবের জীবনে। একের পর এক ১১ জনকে বিয়ে করে মেঘা। আর প্রতি ক্ষেত্রেই বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই স্বামীর সোনা-দানা, টাকা-পয়সা নিয়ে চম্পট দেয় সে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে ভারতে নয়ডা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে মেঘা।

পুরনো দিনের বাংলা সিনেমায় সন্ধ্যা রায় অভিনীত ‘ঠগীনি’ ছবির গল্পও মনে করাবে মেঘা ভার্গবের কীর্তি। লোরেন জাস্টিন নামে ভারতের কোচির এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান যে, তার নববিবাহিত স্ত্রী ১৫ লাখ টাকার গয়না নিয়ে পালিয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে একা লোরেন নয়, এরকমই কোনো এক রহস্যময়ীর ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে ১১ জন ব্যক্তি।

মাস দুয়েক ধরে তদন্ত চালিয়ে শেষ পর্যন্ত নয়ডার ১২০ নম্বর সেক্টরের আম্রপালি জোডিয়াক সোসাইটি থেকে কোচি ও নয়ডা পুলিশের মিলিত অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মেঘা ভার্গবকে। মেঘার সঙ্গে এই জালিয়াতির খেলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বোন প্রাচী এবং বোনজামাই দেবেন্দ্র শর্মাকেও। খবরের কাগজ ও মেট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইট থেকে খুঁজে খুঁজে এমন পাত্র পছন্দ করত মেঘা,

যারা ধনী অথচ বিয়ের বাজারে খুব একটা কদর নেই। যেমন ডিভোর্সি বা শারীরিক ত্রুটিসম্পন্ন বা চেহারা সুন্দর নয়। মেঘা নিজে যথেষ্ট সুন্দরী হওয়ায় এসব পাত্রদের নিজের প্রেমে ফেলতে তার মোটেও সময় লাগত না। এরপর বিয়ে। বিয়ের পর সুযোগ বুঝে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে টাকা-পয়সা, গয়নাগাটি নিয়ে চম্পট দিত সে। এরপর নতুন শিকারের সন্ধান শুরু হত। পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর মেঘার অবশ্য দাবি, যে সে স্বামীদের ছেড়ে পালাতো না। বরং সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেলে দু-পক্ষের বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়েই সে বেরিয়ে আসত।