আড়াই বছর আগে ভাগ্য ফেরাতে বিদেশ গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ২ প্রবাসী ।

ভাগ্য ফেরাতে লেবাননে গিয়ে লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন হবিগঞ্জের আবদুল্লাহ মিয়া (৩৫) ও মোজাম্মেল মিয়া (২২)।মৃত্যুর ২৩ দিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ দুটি বিমানের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।মৃতরা হলেন- সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে আবদুল্লাহ মিয়া ও একই গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল মিয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত মোজাম্মেল মিয়ার বড়ভাই জাফর উদ্দিন বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে মরদেহ দুটি বিমানবন্দর থেকে আমরা গ্রহণ করি। মরদেহগুলো আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমার ভাইয়ের কফিল (মালিক) মরদেহ দু’টি পাঠানোর সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করেন।শনিবার দুপুরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে জীবিকার তাগিদে লেবানন যান হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে আবদুল্লাহ মিয়া। এরপর তিনি লেবাননের ‘শুর’ জেলার দুর্গম ‘হারিফ’ গ্রামের লায়লা ইব্রাহীমের বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ নেন।৬ মাস পর সেখানে যোগদেন একই গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল মিয়া (২২)। আবদুল্লাহ মিয়া ও মোজাম্মেল মিয়া সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হওয়ায় সেখানে একই রুমে থাকতেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে খাবার শেষে শীত নিবারণের জন্য দরজা-জানালা বন্ধ করে একটি স্টিলের বাটিতে কয়লা জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা।পরদিন বুধবার দুপুরে তাদের ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয় বাড়ির মালিকের। বিকালে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের দরজা ভেঙে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে অক্সিজেনের অভাব ও কয়লার কালো ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাদের।

মৃত প্রবাসী শ্রমিক আবদুল্লাহ মিয়া দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক এবং মোজাম্মেল মিয়া অবিবাহিত। মালয়েশিয়ায় কাজ করার সময় মাটিচাপায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নি’হত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তামেরলোহ জেলার মেনতাকাবে একটি নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় এ ঘ’টনা ঘটে। নি’হতরা হলেন- মো.শরীফুল (৪৩) ও জুলহাস রহমান (২৭)। মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তামেরলোহ জেলার পুলিশ প্রধান এসিপি মোহাম্মদ ইউসরি ওসমান এ বিষয়ে জানান,

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে তিন শ্রমিক পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ বসানোর জন্য ছয় মিটার গভীর খাদে কাজ করছিলেন। ওই সময় দুটি এক্সকাভেটর মাটি তুলে খাদের কিনারায় জমা করছিল। হঠাৎ মাটির বিশাল স্তুপ খাদের মধ্যে পড়ে দুর্ঘ’টনা ঘটে। এরপর খাদের ভেতর থেকে এক জন উদ্ধার হলেও অপর দুজনকে জী’বিত উদ্ধা’র করা যায়নি। পরে উ’দ্ধারকারীরা তাদের মৃ’তদেহ উ’দ্ধার করে।