পাওনাদারের অ’ণ্ডকোষে লাথি মারেন পাপিয়া, রি’মান্ডে বেরিয়ে আসল আরেক গোপন তথ্য

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউয়ের নি’র্যাত’নের শি’কার বেশ কয়েকজন ভু’ক্তভো’গী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া যাদের নাম প্রকাশ করেছেন সেগুলো তালিকা করে ব্যাপক অনুস’ন্ধান চালাচ্ছে তদ’ন্ত সংস্থাগুলো। দেখা হচ্ছে, পাপিয়া কাউকে ফাঁ’সিয়ে দিচ্ছেন কি না তাও। ২০১২ সালের অক্টোবরে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় নিজ বাসার সামনে তার স্বামী সুমন চৌধুরীর ওপর স’ন্ত্রা’সীরা হামলা চালালে পাপিয়া এগিয়ে যান এবং গু’লিবি’দ্ধ হন।

তারপর থেকে দুজনই বদলে যান। পাপিয়ার কোনো কাজেই বাধা দিতেন না সুমন। জেলার একজন রাজনৈতিক নেতা হয়ে রাজধানী ঢাকায় পাপিয়া কীভাবে বিলাসী জীবনযাপন করতেন সে রহ’স্য উদঘা’টনের চেষ্টা চলছে। তার স্বজনদের কী অবস্থা তারও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে কার কার সখ্য ও কারা কারা তার ‘পার্টিতে’ যেতেন তাও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অনেক ভু’ক্তভো’গী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা যোগযোগ করছেন। আবার কেউ কেউ মাম’লা করারও উদ্যোগ নিচ্ছেন।

পাপিয়ার নি’র্যাত’নের শি’কার ভু’ক্তভো’গী স্বপন মিয়া জানান, ২০১৮ সালের জুন মাসে পাপিয়া ও সুমনের সঙ্গে তার পরিচয়। ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন তারা। স্বপন মিয়া বলেন, ‘ওই টাকা দাবি করলে গত বছরের ডিসেম্বরে আমাকে গুলশান নিয়ে যায়। পরে একটি রুমে একটি মেয়েকে দিয়ে খারাপ আ’চরণ করায়। পরে ভিডিও করে আমাকে ব্ল্যা’কমে’ইল করার চেষ্টা চালায়। গ্রে’প্তারের কিছুদিন আগে পাপিয়া ও সুমন আমাকে জানায়, আপনার সঙ্গে খারা’প আচরণ করা ঠিক হয়নি।

আমরা নরসিংদী আসছি। আপনি আসেন। পরে তাদের বাসায় গেলে আবারও নি’র্যা’তন শুরু করে। একটি রুমে দুদিন আ’টকে রাখে। টাকার কথা বললে অ’ণ্ডকো’ষে লা’থি মা’রেন পাপিয়া। রাতে সুযোগ পেয়ে তার আস্তানা থেকে পা’লিয়ে আসি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থাকে বলেছি। তারা মা’মলা করতে বলেছে। নি’র্যাত’নের কথা মনে পড়লে ঘুম আসে না।’ ক্ষু’দ্র ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর বয়স প্রায় ৭০ বছর; গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়।

নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার মাধ্যমে আলোচিত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। ব্যবসায় পার্টনারশিপের কথা বলে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন পাপিয়া। কিন্তু তাকে পার্টনারশিপ দেওয়ার পরিবর্তে টাকা নেওয়ার কথাই অ’স্বীকার করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে কৌশলে আটকে রাখেন ‘ট’র্চার সে’লে’। পাপিয়ার নির্দেশে সেখানে তার লোকজন তাকে নি’র্যাত’ন চালাত। পরে তিনি অ’ন্ধ সেজে পা’লিয়ে আসেন। সে নি’র্যাত’নের কথা ভুলতে পারেননি আইয়ুব আলী,

মনে পড়লে আজও আঁ’তকে ওঠেন। স্বপন মিয়া ও আইয়ুব আলীর মতোই অনেক ভু’ক্তভো’গী পাপিয়ার ট’র্চার সেলে নি’র্যাত’নের শি’কার হয়েছেন; যারা পাপিয়া গ্রে’প্তার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভি’যোগ দিচ্ছেন। তাদের সেব অভি’যোগ আমলে নিয়ে চলছে তদ’ন্ত।সংশ্লিষ্টরা জানান, যুবলীগ মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী ‘যৌ’নসেবার নামে ব্ল্যা’কমেই’লের’ মাধ্যমে কখনো ফ্ল্যাট, কখনোবা মোটা অ’ঙ্কের টাকা দাবি করতেন ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে।

এভাবে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফায়’দা লু’টেছেন তারা। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, অভিজাত হোটেলে তরুণীদের দিয়ে অ’নৈতিক দেহ ব্যব’সার কাজে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কিছু পাহাড়ি তরুণীদেরও ব্যবহার করতেন পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন। বিভিন্ন প্রলোভনে তাদের ঢাকায় এনে এ অ’সামাজিক কাজে জড়ান তারা। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া স্বীকার করেছেন, নারী ব্যবসার আড়ালে মুদ্রা পাচা’র ছিল তার অন্যতম বাণিজ্য। বেশ কয়েকটি দেশের অ্যাকাউন্টে তার অর্থ রয়েছে। তবে তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

অর্থ পাচা’র ও অ’বৈধ সম্পদ নিয়ে পাপিয়ার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পাপিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য জানতে ইতিমধ্যেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্য পুরো তথ্য হাতে পাওয়া যাবে। সেসব তথ্য হাতে পাওয়ার পর মানি লন্ডা’রিংয়ে যদি পাপিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণিত হয় তবে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নরসিংদীর একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা পাপিয়া মা’ফিয়া ড’নের মতো আচরণ করতেন। দ্রুতই কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিজাত হোটেলে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে পার্টির আয়োজন ছাড়াও মা’দ’কবাণিজ্য ও জাল টাকার কারবার করতেন। প্রভাবশালীদের মাধ্যমে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ-অ’বৈধ গ্যাস সংযোগ এবং লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়ে আসছিলেন তিনি। নিজে নিয়মিত মা’দক সেব’ন করতেন।

প্র’তারণার ফাঁ’দ পেতে টাকা আদায়ে অনেককে নি’র্যাত’নও করতেন তিনি। দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গত ২২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিন সহযো’গীসহ গ্রে’প্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন পাপিয়ার স্বামী ও তার অ’বৈধ আয়ের হিসাবরক্ষক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। জাল টাকা উ’দ্ধার, অ’স্ত্র ও মা’দকের পৃথক তিন মাম’লায় পাপিয়ার ১৫ দিনের রি’মান্ড ম’ঞ্জুর করেছে আদালত। তার স্বামী মফিজুর রহমানেরও ১৫ দিনের রিমা’ন্ড মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া মামলার অন্য দুই আ’সামি পাপিয়ার সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকেও রি’মান্ডে নেওয়া হয়।