ছাত্রদের বলতেন মা’দক সে’বন খারাপ, শিক্ষিকা নিজেই করতেন ই’য়াবা ব্যবসা!

শিক্ষার্থীদের বলতেন মা’দক সেবন খা’রাপ। মা’দকের কুফল সম্পর্কে শেখাতেন তিনি। কিন্তু আড়ালে তিনি নিজেই ছিলেন মা’দক ব্যবসায়ী। শিক্ষকতা পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে করছিলেন ইয়াবার ব্যবসা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গত ১ মার্চ মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) হাতে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রে’প্তার হন ফাতেমা বেগম ওরফে রুপা (৩৭) নামের ওই শিক্ষিকা। সেইসঙ্গে নীলিমা নাসরিন নামের তার এক সহযোগীকেও গ্রে’প্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার ডিএনসির মতিঝিল সার্কেলের পরিদর্শক মো. সুমনুর রহমান বলেন,

রাজধানীর খিলগাঁও তালতলার বিএফসি রেস্টুরেন্টের সামনে অ’ভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রে’প্তার করা হয়। ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ছাড়াও তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট ও ভ্যানিটি ব্যাগ উ’দ্ধার করা হয়েছে। সুমনুর জানান, দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা রূপা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ২০০৫ সালে জিয়োগ্রাফী বি’ষয়ে ¯œাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পাশাপাশি স্কাউটের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। ভ্রমণ করেছেন অস্ট্রেলিয়া,

চিন জাপানসহ বিভিন্ন দেশ। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর তাকে সবুজ থানা পুলিশ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ গ্রে’প্তার করে কাগারে পাঠায়। এজন্য তার স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে বহিস্কার করে। কিন্তু ৬ মাস পর জা’মিনে বের হয়ে আবারও একই কাজ শুরু করেন রূপা। এজন্য কৌশল অবলম্বন করতেন তিনি। বেছে নেন স্বামী পরিত্যাক্তা প্রতিবেশি নীলিমাকে। ইয়াবা বিক্রির জন্য মা’দক ব্যবসায়ী বা সেকনকারীদের কাছ থেকে অর্ডার ও টাকা নিলেও তিনি মা’দক হস্তান্তর করাতেন নীলিমাকে দিয়ে। কোনো সময় ফোনে বলতেন আবার কোনো সময় অদুরে দাড়িয়ে নীলিমাকে দেখিয়ে দিতেন। রূপা স্বামী পরিত্যাক্তা।

রূপার সহযোগী নীলিমা রাজধানীর শাহজাহানপুরের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। নীলিমা জি’জ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, তিনি একসময় বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন। এছাড়া একটি বেস’রকারি টেলিভিশেনে কিছুদিন কাজ করার কথাও জানিয়েছেন। মা’দক ব্যবসায় সহযোগীতার জন্য রূপার কাছ থেকে পাওয়া টাকায় তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ডিএনসির কর্মকর্তা সুমনুর রহমান জানান, কৌশল অবলম্বন করে তাদের গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তাদের বি’রুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মা’দক আইনে মা’মলা হয়েছে।