ক্যাসিনোতে ধরা পড়ে যা বললো ২ তরুণী ।

রাজধানীর ফকিরেরপুল এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ সময় ফ‌কি‌রাপুলে ক্লা‌বের ভেত‌রে ব‌সে দুই তরুণী তা‌দের পাহারায় থাকা এক নারীকে আটক করা হয়।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় ফ‌কি‌রাপুলে ক্লা‌বে এই অভিযান চালানো হয়। র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে ওই দুই তরুণী বলেন, স্যার, আমা‌দের থ্রি-পিসটা পর‌তে দেন। এখা‌নে পে‌টের তা‌গি‌দে চাক‌রি ক‌রি। ও‌য়েস্টার্ন ড্রেস না পর‌লে চাকরি থাক‌বে না। এখা‌নে সব জায়গায় সি‌সি ক্যা‌মেরা লাগা‌নো। খারাপ কা‌জের কোনো সু‌যোগ নেই। এখা‌নে জুয়ার বো‌র্ডে চাক‌রি করাটাই কি অপরাধ?

জানা যায়, দুই তরুণীর একজন নি‌জে‌কে রি‌সেপশনিস্ট ও আরেকজন জুয়ার বো‌র্ডের কার্ড সরবরাহকা‌রী পরিচয় দেন। রি‌সেপশনিস্টের বেতন ২১ হাজার আর কার্ড বিতরণকা‌রীর ১০ হাজার। দৈ‌নিক ১২ ঘণ্টা চাক‌রি। গত দেড় মাস যাবত চাক‌রি কর‌ছেন ব‌লে জানান।

তারা জানান, তারা মোট ৬ জন পালাক্র‌মে ডিউ‌ ট্কি‌রেন। তা‌দের স্বামী এখা‌নে চাক‌রির কথা জা‌নেন। তবে প‌রিবা‌রের অন্যরা জা‌নেন না। তারা বারবার‌ নি‌জে‌দের নিরপরাধ দা‌বি ক‌রেন।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ইয়ংমেন্স ক্লাবের নিষিদ্ধ জুয়ার ক্যাসিনোতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, অভিযানের সময় ভেতরে থাকা এবং ক্যাসিনোতে জুয়া খেলা অবস্থায় ১৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের কাছে অভিযোগ আছে, এই ক্লাবে আট মাস ধরে অবৈধ আসর বসছিল। এ সময় আমরা দেখি, ক্লাবের নিচতলায় যন্ত্রের মাধ্যমে জুয়া খেলা (ক্যাসিনো) চলছে। এছাড়া জুয়া খেলার ফাঁকে ফাঁকে মদ পান হচ্ছে।

তিনি জানান, যারা এই ক্লাবে এসেছেন তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আটক ব্যক্তিদের মদ পানের লাইসেন্স নেই। এমনকি ইয়াংমেন্স ক্লাবেরও মদ বিক্রির লাইসেন্স নেই। এ সময় জুয়া খেলার ২৪ লাখ টাকাও জব্দ করা হয়।

আরো পড়ুন… শুরু থেকেই আমি বলে আসছি, আমা’র মেয়েটা নি’র্দোষ। মিন্নি তার স্বামীর হ’ত্যাকা’ণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জ’ড়িত না। মেয়েটি আমা’র বারবার চি’ৎকার করে বলেছে যে, সে তার স্বামীর হ’ত্যার সঙ্গে জ’ড়িত না। সবাই দেখেছে, সারা দেশের মানুষ দেখেছে; মিন্নি রিফাতকে বাঁ’চানোর জন্য নিজের জীবনবাজি রেখে স’ন্ত্রাসীদের সঙ্গে ল’ড়াই করেছে। আজ আরেকটা ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। এবার সারা দেশের মানুষ দেখুক, আমা’র মেয়েটা নি’র্দোষ, সে কোনো অন্যায় করেনি।’

চা*ঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডের আরও একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। নতুন ভিডিওটি ধারণ হয় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায়। নতুন এ ভিডিও প্রসঙ্গে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এসব কথা বলেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন শিশির।

ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী’’ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি একাই রিকশায় করে হাসপাতালে যান। রিকশাটি দ্রুত চলছিল। মিন্নি তার স্বামী র’ক্তাক্ত রিফাতকে জড়িয়ে ধরে রিকশায় বসে আসেন। রিকশাটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থামলে তাকে দ্রুত হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মিন্নিকে খুবই বিচলিত এবং দুঃখী দুঃখী চেহায় দেখা যায়। এই ভিডিও গত ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে ওই সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, রিকশাটি ছিল ব্যাটারিচালিত। রিকশায় রিফাত র’ক্তাক্ত ও অচেতন ছিলেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়ানো এক যুবক রিফাতকে বহন করা রিকশার দিকে ছুটে আসেন। তিনি হাসপাতালের ভেতর থেকে একটি স্ট্রেচার এনে তাতে রিফাতকে তুলেন। এ সময় উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে আসেন। রিফাতকে হাসপাতালের ভেতরে নেওয়া হয়। এরপর মিন্নি হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের মুঠোফোন থেকে কল দিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি হাসপাতালের ভেতরে স্বামীর কাছে যান। এর কিছুক্ষণ পরই মিন্নির বাবা ও চাচা হাসপাতালে পৌঁছান।

বিধবা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আছেন বাবার বাড়িতে। তিনি তার স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার প্রধান সাক্ষী ও আ’সামি। এ মা’মলায় মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি। দুই শর্তে হাইকোর্টের রায়ে জামিন পেয়ে মিন্নি তার বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় রয়েছেন।

গত ২৬ জুন রিফাত শরীফকে কু’পিয়ে হ’ত্যা করা হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আ’সামি করে একটি মা’মলা করেন। এতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হ’ত্যায় পুত্রবধূর জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।