মৃ’ত্যুর আগে ছেলেটাকে একবার দেখার আকুতি করেছিলেন জান্নাতুল

রুশদী কোথায়? আমাকে একবার দেখাও, নয়তো আমাকে নিয়ে চলো তার কাছে। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মুমূর্ষু জান্নাতুল ফেরদৌস এভাবেই তাঁর একমাত্র সন্তানকে দেখার আকুতি জানাচ্ছিলেন। তিনি জানতেন না আ’গুন তাঁর প্রিয় সন্তানকে আগেই কেড়ে নিয়েছে। ছেলের মুখ দেখার ইচ্ছা অ’পূর্ণ রেখেই গতকাল রবিবার মৃ’ত্যুর কাছে হার মানলেন মা জান্নাতুল।
রাজধানীর দিলু রোডে অ’গ্নিকা’ণ্ডে সংকটাপন্ন অবস্থা নিয়েই চিকিৎসাধীন ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৭)। শ`রীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর। শ্বা’সক’ষ্টসহ যন্ত্র’ণায় ছটফট করছিলেন তিনি।

স্বজনরা জানায়, আইসিইউয়ে তাদের দেখতে পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায়ও বারবার আকুতি জানচ্ছিলেন রুশদীকে দেখার। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃ’ত্যুবরণ করেন। জান্নাতুলের স্বামী শহীদ কিরমানী রনি (৪০) এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন। গত বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর দিলু রোডে পাঁচতলা ভবনে অ’গ্নিকা’ণ্ডের ঘটনায় নি’হতের সংখ্যা বেড়ে চার হলো। জান্নাতুলের ননদ শেখ রেশমা বলেন, ‘ঘটনার পর হা*সপা*তালে ভাইয়া-ভাবিকে যন্ত্র’ণায় ছটফট করতে দেখেছি। তখন শ্বা’সক’ষ্ট অবস্থায় ভাবি বারবার বলছিলেন

রুশদী কোথায়? তাকে আমি একটু দেখতে চাই। তাঁকে বলা হয়নি যে অ’গ্নিকা’ণ্ডে ঘটনাস্থলেই মা’রা গেছে রুশদী। পরে ভাবিকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম রুশদী ভালো আছে। হা*সপা*তালে তাকে আনতে চাই না। পরে ভাবি অনেক ক’ষ্টে অস্ফুট কণ্ঠে বলছিলেন, তাহলে আমাকে নিয়ে চলো রুশদীর কাছে। এখন তিনি একেবারেই রুশদীর কাছে চলে গেলেন।’ গত বুধবার রাত ৩টায় দিলু রোডের ৪১/এ নম্বর বাসার অ’গ্নিকা’ণ্ডে ঘটনাস্থলেই কে কে এম রুশদী (৫), আফরিন জান্নাত জুথি (১৭) ও আব্দুল কাদের লিটন (৪৫) নামে তিনজনের মৃ’ত্যু হয়।

গতকাল হা*সপা*তালে গিয়ে দেখা যায়, জান্নাতুলের মৃ’ত্যুর পর বার্ন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে। এ সময় হা*সপা*তালে আসে তাঁর শিক্ষাজীবনের বন্ধু, কর্মস্থলের সহকর্মী এবং আত্মীয়রা। সবাই এমন মৃ’ত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আফসানা হক নামে তাঁর এক বান্ধবী বলেন, ‘এত মিশুক মেয়ে আমি জীবনে দেখিনি। কখনো কারো সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলায় জড়াত না। শিক্ষাজীবনে সে ছিল বন্ধুদের জন্য উদাহরণ। বন্ধুকে (শহীদ) ভালোবেসে বিয়ে করে কত সুন্দর জীবন যাপন করছিল। হঠাৎ ঝড় সব শেষ করে দিল।’

লা’শ বের করার আগে আইসিইউয়ের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন জান্নাতুলের বাবা আব্দুস শহীদ (৫৫)। এমন দৃশ্যে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘আমা’র মেয়েটা মৃ’ত্যুর আগেও জানত না তার সন্তান রুশদী আর নেই। এখন হয়তো তার কাছেই চলে গেল। একটা সুখের সংসার এক নিমিষেই ধ্বংস হয়ে গেল। সন্তানের মৃ’ত্যু দেখার চেয়ে আমিই ম’রে যেতাম, তা-ই ভালো ছিল।’

পারিবারিক সূত্র জানায়, জান্নাতুল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে চাকরি করতেন। তাঁর কর্মস্থল ও নিজের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজে’লার আসাদনগরে জানাজা শেষে গত রাতেই শিবপুরে স্বামীর বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়। একই কবরস্থানে রুশদীকেও দাফন করা হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘জান্নাতুলের শ`রীরের ৯৫ শতাংশ আ’গুনে পুড়ে গিয়েছিল। আম’রা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু পারলাম না।