হকের আওয়াজ কওমি ছাড়া আর কেউ তুলতে পারেনি: হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী

কুয়াকাটার আলোচিত ইসলামি বক্তা মাওলানা হাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেছেন, বাতিল আর মুশরিক ও কাফেরের বিরু’দ্ধে ইসলাম বিদ্বে’ষীদের বিরু’দ্ধে রাসুলের দুশমনের বিরু’দ্ধে গোটা পৃথিবীতে একমাত্র হকের (সত্য ও ন্যয়ের) আওয়াজ কওমি ছাড়া আর কেউ তুলতে পারেনি। রোববার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে সাদ মুসা সিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ওয়াজ মাহফিলে তিনি এ দাবি করেন।কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে এই বক্তা বলেন, ভালো করে ইতিহাস তালাশ করুন। অন্যরা যদি আওয়াজ তুলে থাকে, আমরা পরিপূর্ণ নিষেধ করি না। তবে কওমিওয়ালাদের ভূমিকা সর্বোচ্চ শিখরে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের অবস্থা দেখেন, যুগে যুগে কওমিদের অবস্থান বাতিলের বিরুদ্ধে। হ্যাঁ, আমরা একটু চুপচাপ থাকি, এজন্য অনেকেই দুর্বল মনে করেন। চুপ থাকা দুর্বলতার পরিচয় নয়। বরং চুপ থাকা অনেক সময় পরিচয় হয় এরা আদবওয়ালা মুসলমান। কথা বললেই জেতা যায় না। অতএব কওমি মাদ্রাসার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা দরকার। ‘শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, আলিয়া, কওমি মাদ্রাসাসহ সবগুলো জন্য দোয়া করা উচিৎ। যাতে রাসূলের আদর্শে যেন তারা চলতে পারে।

’ইসলাম ও রাসূল (স.) এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে কওমিরা শীর্ষে রয়েছে বলে দাবি করে মাওলানা হাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, এরা যাকাত ফেতরার টাকা খেয়ে লেখাপড়া করছে তো, এদের দিল আর কত পরিষ্কার। তিনি বলেন, ১০ বছর কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে বোঝাইতে যে কষ্ট হতো, এখন তো কওমির পরিচয় দিতে সেই কষ্ট নাই। একজন শিশুও বোঝে কওমি মাদ্রাসা সৃষ্টির মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান।হাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, তুলনামূলক গরিব ছাত্ররাই কওমি মাদ্রাসায় পড়ে।

তাহলে যাকাত কি ধনী খাবে নাকি গরিব। তাহলে ওই সমস্ত বাতেলের গোষ্ঠী কী বোঝাতে চায়। তিনি বলেন, যাকাতের অংশ গরিবরাই প্রাপ্য। আর আমরা তো হামলা করি না। অপকৌশল করি না। মানুষ দিলভাঙ্গা দরদ নিয়ে মানুষ দান, ছদকা দিয়ে যায়। না নিলে তারা কষ্ট পায়। আমরা রশিদ দিলেও নিতে চায় না। তারা বলে এটা আমরা আল্লাহর মহব্বতে দিয়ে দিয়েছি। কাজেই এ নিয়ে যারা কথা বলবে তারা মোটামুটি আল্লাহর দুশমন বললেই চলে।

হাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, কওমি মাদ্রাসাকে বোঝানোর জন্য এখন আর বয়ান লাগে না। পৃথিবীর মানুষ বোঝে। গোটা পৃথিবীতে আজ কওমি মাদ্রাসার এক সুবাতাস ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে। এমন কোনো রাষ্ট্র নাই যেখানে কওমির ঘ্রাণ নাই। কারণ এখানে স’ন্ত্রা’সী নাই , চাঁ’দাবাজি নাই, চু’রি নাই, ডা’কাতি নাই। এ কারণে সবার চোখ গরম হয়ে আছে কওমির ওপরে। হালের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীসহ বেশ কয়েকজন আলেমের নাম উল্লেখ না করে তাদের তী’ব্র সমালোচনা করে মাওলানা হাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, আমাদের তাহাজ্জুদ নামাজ মিস হয় না। কিন্তু আমাদের বিরু’দ্ধে যারা কথা বলে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও জামায়াতে পড়ে না।তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার মতো পবিত্র জায়গাকে কীভাবে অপবিত্র বানানো যায় তার অপকৌশল আঁকার জন্য দুষ্কৃ’তিকারী বিধ’র্মীদের দালালরা পাগলপ্রায় হয়ে আছে।