পর্যাপ্ত টাকা যোগাড় করতে না পেরে নিজের লি’ভার দিয়ে মেয়েকে বাঁ’চালেন মা ।

সন্তানের জন্য মায়ের অবর্ণনীয় ক’ষ্টের কথা সবারই জানা। সন্তানের জন্য নিজের জীবন বি’প’ন্ন করতেও পিছপা হন না মায়েরা। এবার তারই দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন এই মা।

জানা গেছে, মাত্র সাড়ে তিন মাস বয়সেই মেয়ের শরীরে ক্যা’ন্সা’র ধ’রা পড়ে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, লিভার পরিবর্তন করলে মেয়ে সেরে উঠবে। সে কারণে মেয়েকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেন ওই নারী।

২৫ বছর বয়সী সোফি বার একবারও নিজের কথা চিন্তা করেননি। তারবার ভেবেছেন মেয়েকে সারিয়ে তোলার ব্যাপারে। যদিও শুরুর দিকে তিনি ডোনার খুঁজেছেন। তবে কোনো রকম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না দেখে নিজেই লিভার দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে যান।

তার মেয়ে প্যাট্রিসিয়া গত বুধবার নিজের প্রথম জন্মদিন পালন করেছে। জানা গেছে, বেশ হাসিখুশি আছে মেয়েটা। আর সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব ক’ষ্ট ভুলে থাকছেন সোফি।

সোফি বলেন, মেয়ের ক্যা’ন্সা’রের বিষয়টি জানার পর একেবারে ভেঙে পড়ি। তারপর যুক্তরাজ্যে যারা লিভার দিতে ইচ্ছুক, তাদের তালিকাও সংগ্রহ করি। কিন্তু লিভারের জন্য পর্যাপ্ত টাকা যোগাড় করাটা আমাদের জন্য ক’ষ্টকর। সে কারণে ওতোটা না ভেবে নিজেই লিভার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গহণ করি। এখন মেয়েটা আমার অনেক ভালো আছে। ওর দিকে দেখলে সবকিছু ভুলে থাকতে পারি।

আরো পড়ুন… স্বামীর দু’টি কিডনি অকেজো হওয়ার পর মৃ**ত্যু যখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে তখনই জীবন বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিলেন জীবন সঙ্গীনী। হ্যাঁ, এরই নাম ভালোবাসা! সেটা করে দেখালেন পতিব্রতা স্ত্রী। পরিবারের অন্য সদস্যরা যখন নিরব তখন শুধু হাতই নয় নিজের একটি কিডনিই দিয়ে দিলেন তার স্ত্রী। এই ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়।

ওই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মৃ**ত হোসেন মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছর পূর্বে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নের আমজাদ আলীর মেয়ে লিজা আক্তারের বিয়ে হয়। সম্প্রতি স্বামী মিজানুর রহমান হটাৎ করেই গু**রতর অ*সুস্থ হয়ে যায়। এর কারণে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো হয়। সেখানে ডাক্তার বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা নীরিক্ষার করার পরামর্শ দেন।

পরে ডাক্তার পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখে জানায়, মিজানুর রহমানের দু’টি কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। তাই তাকে বাঁচাতে হলে কমপক্ষে একটি কিডনির ব্যবস্থা করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শে তারা বিভিন্ন কিডনি ব্যাংকে যোগাযোগ করেও কিডনি সংগ্রহ করতে পারেননি। পরে পরিবারের সবার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় কি করা হবে। কিন্তু সবাই নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আসলে কেউ কিডনি দিতে রাজি হয়নি। পরে মিজানুর রহমানের স্ত্রী লিজা আক্তার রাজি হন কিডনি দিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ঢাকা শ্যমলী সিকেডি কিডনি হসপাতালে দুই জনেরই একসাথে অপারেশন হয়। অপারেশন করে স্বামীর অকেজো দুইটি কিডনি ফেলে দিয়ে স্ত্রীর দেওয়া একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অপারেশন সফল হয়েছে, রোগীকে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ হসপাতালে থাকতে হবে।