বাংলাদেশি স্বামীর রাগ একটু বেশি, কিন্তু জামাই ভালো: মালয়েশিয়ান মেয়ে

বাংলাদেশ থেকে কাজের সন্ধানে প্রতি বছর অংখ্য লোক বিদেশে পারি জমান। তবে বিদেশে যেয়ে অনেকে ভালো থাকে আবার অনেকে ভালো থাকে না। এরপরও দেশে পরিবারের কথা ভেবে ক’ষ্ট ও কঠোর পরিশ্রম করে বিদেশে থেকে যান। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বিদেশে স্থায়ি ভাবে থাকার চেষ্টা করে থাকেন অনেক প্রবাসি। বিশ্বের অনেক দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন। সে দেশে বাংলাদেশিরা অনেক সুনামের সাথে থাকছেন।

অনেকে মনে করেন, মালয়েশিয়ার মেয়েরা বাংলাদেশি ছেলেদের খুব পছন্দ করে। যার কারণে বাংলাদেশে ছেলেদের বিয়ে করতে আগ্রহী হয়। অনেকে যুবক মালেশিয়ার মেয়েদের বিয়ে করে সে দেশে থেকে যান। এছাড়া মালয় বধূর নানা গুণে মুগ্ধ বাংলাদেশের জামাইরা। বাংলাদেশিদের বিবেচনায়, মালয় মেয়েরা ভালো গৃহিণী, নিরলস পরিশ্রমী, জামাইকে জামাই আদরে রাখতে জানে। বরের বাড়তি বিষয়ে নাক গ*লায় কম।

তারা পরিশ্রমী স্বামীকে সম্মান করে। জাত-ক‍ুল নিয়ে মাথা ঘামায় না মোটেও।তাই ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী আর ছাত্র থেকে শুরু করে শ্রমিক স্বামীও আছে মালয়েশিয়ার মেয়েদের। সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমৃদ্ধ এই দেশটিতে জামাই তকমা গায়ে সেঁটেছেন ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি। প্রতিবছরই এ সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই ছেলে মেয়ে আর নাতি-নাতনি নিয়ে সুখের জীবন কা’টাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়।

দেশটিতে বিয়ে করলে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের, এমনকি স্থায়ী হওয়ার পথ যেমন সুগম হয়, তেমনি বেড়ে যায় সামাজিক সম্মানও। বিপরীতে মালয় মেয়েরাও বুঁদ হয়ে আছে বাংলাদেশি স্বামীর সান্নিধ্যে। এই যেমন সিঙ্গাপুর সীমান্তের শহর জোহর বাহরুর মালয় মেয়ে নূরে লিজা’র কাছে বাংলাদেশি স্বামীরা কেমন জানতে চাইলে স্মিত হেসে জানান, রাগ একটু বেশি। কিন্তু জামাই ভালো। বাংলাদেশের মানুষ ভালো।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী স্বামীর সঙ্গে ১৪ বছর ঘর করে বাংলা ভাষাটা মোটামুটি ভালোই রপ্ত করেছেন লিজা। তাই হুট করে তাকে বাংলাদেশি বলে ভ্রমও হতে পারে। তার মতো অধিকাংশ মালয় বধূই স্বামীর দেশের ভাষাটাকে রপ্ত করেছেন বেশ। আর ছেলেমেয়েগুলোর কাছে তো মাতৃভাষা মালয়ের পাশাপাশি বাংলাও।কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী চাঁদপুর সমিতির সভাপতি সেলিম নুরুল ইস’লামও বিয়ে করেছেন মালয় মেয়েকে।

মালয় বধূ স’ম্পর্কে তার সোজাসাপটা বক্তব্য, এরা সংসারটা ভালো বোঝে। আমা’র কোথায় কোন ব্যবসা, কোন ব্যাংকে কতো টাকা তা নিয়ে বউ কখনো আগ্রহ দেখায় না। বাড়িটাকে পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখে। আমা’র সংসারটা তো সেই সামলায়। আর এক মালয় জামাই সীমান্ত শহর জোহর বাহরুর বাংলাদেশ কমিউনিটি সেক্রেটারি এমজে আলমের ভাষায়, বাংলাদেশ থেকে যারা এখানে আসে তারা তো কেউ রাজপুত্র নয়।

আসে কাজ করতে। তাদের পরিবারের কী’’ ব্যাকগ্রাউন্ড, কী’’ আছে কী’’ নেই, তা নিয়ে মাথা ঘামায় না এখানকার মেয়েরা। তারা যদি দেখে ছেলে পরিশ্রমী আর দায়িত্বশীল, তাহলেই বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত ভাবনা ভাবতে পারে এরা।বাংলাদেশ জোহর কমিউনিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্ম’দ ফাহিমও বিয়ে করেছেন মালয় মেয়েকে। তার বক্তব্যও অনেকটা একই সূত্রে গাঁথা। তার মতে, এখানকার মেয়েরা সংসারটা বোঝে।

স্বামীর পেছনে অযথা লেগে থাকে না। বউ হিসেবে এদের তুলনা নেই। বালাকঙের সফল ব্যবসায়ী নাজমূল ইস’লাম বাবুলও বেশ ভক্ত মালয় বউয়ের। হোটেলের কাউন্টারে কর্মব্যস্ত বউকে দেখিয়ে বলেন, ওরা কাজ পাগল। বাংলাদেশের ছেলেরা মু’সলিম হওয়ায় জামাই বাছাইয়ে তাদেরই এগিয়ে রাখে।বিয়ের পর প্রথমেই এখানে ৩ মাসের ডিপেনডেন্ট ভিসা জোটে বরের। তারপর সেই ভিসা বেড়ে পর‌্যায়ক্রমে ৬ মাস, ১ বছর, ৫ বছর- এভাবে বাড়তেই থাকে।

তবে পরিবর্তিত কিছু আইন-কানুনে এখন ওয়ার্কারদের বিয়ে করার সুযোগটা কমে গেছে। কিন্তু পেশাজীবী, ব্যবসায়ী আর স্যোসাল ভিজিটে ছাত্রদের মালয় মেয়ে বিয়ে করার সুযোগটা ঠিকই আছে।এখানে বিয়ে করার প্রক্রিয়াগুলোও বেশ ছকে বাঁ’ধা। ছেলেমেয়ে নিজেরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমেই প্রয়োজন পড়বে মেয়ে পক্ষের অ’ভিভাবকের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। সাধারণত মেয়ের বাবা বা বড় ভাই এই পত্র দিয়ে থাকেন।

বিপরীতে ছেলে পক্ষের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেবে স্থানীয় হাইকমিশন। এরপর বিয়ের ফর্মে ই’মাম চিঠি দিলেই ব্যবস্থা পাকা। তবে মেয়ের অ’ভিভাবক রাজি না হলে কোর্ট ম্যারেজেরও সুযোগ আছে। যদিও এক্ষেত্রে জরিমানা গুণতে হবে নগদ হাজার রিঙ্গিত। তবে এরপর ডিপেনডেন্ট ভিসা আর মেয়ের স্পন্সরশিপ পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।মালয়েশিয়ায় ছেলে অনুপাতে মেয়ের সংখ্যা বেশি

হওয়াতেই মূলত বাংলাদেশি পাত্রদের এখানে বিয়ে করে স্থায়ী হওয়ার এমন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কুয়ালালামপুর বা জোহর বাহরুর চেয়ে মালয় অধ্যুষিত কেলানটান আর তেরেনগনু রাজ্যে বাংলাদেশি জামাইয়ের সংখ্যা বেশি। সব মিলিয়ে দেশটিতে নিয়মিতই যোগ হচ্ছে নতুন-নতুন বাংলাদেশি জামাইয়ের নাম। আসছে ১২ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুরে বিয়ে হচ্ছে আব্দুল্লা রাজিব নামে কুমিল্লা থেকে পড়াশোনা করতে আসা এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের।

তবে বাংলাদেশি মানুষদের খুব বিশ্বা’স করে মালয়েশিয়ারা। এছাড়া মালেশিয়ায় অনেক বাংলাদেশি সেখানে সফলতার সাথে ব্যবসায় করছেন। এর মাধ্যমে বহি:বিশ্বে বাংলাদেশ অনেক সুনাম বয়ে আনছেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পাচ্ছে অনেক রেমিটেন্স। দেশের অনেক বেকার যুবক সে দেশে যেয়ে উপার্জন করতে পারছেন। তবে একটি বিষয় সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে তা হলো দালালের খপ্পরে পরে কেউ যেন মালেশিয়া জেন না যায়। নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান করেছে সরকার।