যেসব প্রভাবশালীদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও পাপিয়ার কাছে

দেশের সবচেয়ে আ’লোচিত নাম এখন শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। রাজনীতির আড়ালে মা’দক ও নারী বাণিজ্য করেন তিনি। রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোতে আয়োজন করতেন পার্টির। সাপ্লাই দিতেন নারী। এসকর্ট সার্ভিস। সুন্দরী তরুণীদের চাকরি দেয়ার নামে নরসিংদী থেকে ঢাকায় নিয়ে আসতেন। তারপর তাদের জি’ম্মি করে দিনের পর দিন করাতেন দেহ ব্যবসা। নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাাদক

পাপিয়ার আমলনামা প্রকাশের পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে। তার আগেই তার অ’পকর্ম ফাঁ’স হয়ে যায়।জানা গেছে, শুধু গত এক মাসেই এই নারী রাজধানীর অ’ভিজাত এক পাঁচ তারকা হোটেলে বিশাল অঙ্কের বিল পরিশোধ করেছেন। আর এ অর্থ খরচের কারণেই গোয়েন্দাদের চোখ পড়ে পাপিয়ার ওপর। একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে তার সব অ’পকর্মের কাহিনি।

গ্রে’প্তার করা হয় স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন, সাবিক্ষর খন্দকার (২৯), শেখ তায়্যিবাসহ (২২) আরও দুজনকে। শুরুতে পাপিয়া প্রথমে নিজের দাপুটে অবস্থানের পরিচয় দেন। তবে কোনো কিছুতে গুরুত্ব না দিয়ে পাপিয়ার কাছ থেকে র‌্যা’ব কর্মক’র্তারা উ’দ্ধার করতে থাকেন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।তথ্য মতে, নারী ও মা’দক ব্যবসাই তার আয়ের মূল উৎস। দেশের অ’ভিজাত কিছু মানুষ ও বিদেশিরাই এর গ্রাহক।

ইন্টারনেটে স্কট সার্ভিস খুলে বসে খদ্দেরদের কাছে তাদের চাহিদামতো সুন্দরী তরুণী পাঠাতেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করতেন। একপর্যায়ে তাদেরকে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করতেন পাপিয়া। এরইমধ্যে পাপিয়ার কাছ থেকে গো’পন ক্যামেরায় ধারণকৃত অনেক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ উ’দ্ধার করেছেন র‌্যা’ব কর্মক’র্তারা।

গো’পন ক্যামেরায় মেয়েদের ছবি ধারণ করে তাদের নিয়মিতভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন তিনি। পাপিয়ার কাছ থেকে উ’দ্ধারকৃত একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়- পাপিয়া বসে আছেন বাইজিবাড়ির সর্দারনির মতো। তার হাতে মোটা একটি বেতের লা’ঠি। তার কব্জায় থাকা মেয়েরা কথা না শুনলে পে’টাতেন। পাপিয়া একাধিক অ’ভিজাত হোটেলের রুম ভাড়া নিতেন নামে-বেনামে। এসব হোটেলে বিভিন্ন মেয়েকে পাপিয়া নিজেই নিয়ে যেতেন।

তাদেরকে দিয়ে করাতেন অ’বৈধ দেহব্যবসা। এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছুই কবুল করেছেন পাপিয়া। পাপিয়ার স্বামী সুমন চৌধুরী বেশির ভাগ সময় থাইল্যান্ডে অবস্থান করলেও গত থার্টিফার্স্ট নাইটে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করেন। ওই রাতে তার কক্ষেও চার-পাঁচ জন সুন্দরী নারী ছিল বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। পাপিয়ার সব কর্মকা’ন্ডের অন্যতম অংশীদার তার স্বামী সুমন।

একসময় নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন সুমন। পরে ছিলেন নরসিংদীর প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমানের বডিগার্ড। প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের স’ম্পর্কের পর পাপিয়াকে বিয়ে করেন সুমন। লোকমান হ’ত্যাকা’ন্ডের পর বর্তমান মেয়র কাম’রুজ্জামানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। মেয়রের ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার ৩ বছর পর পাপিয়ার ওপর স’ন্ত্রাসী হা’মলা হয়। ওই সময় পাপিয়াকে গু’লি করে স’ন্ত্রাসীরা। এরপর তারা নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান।