শাজাহান খানের ভাড়াটে শ্রমিকরা এবার মাঠে নামলে খবর আছে: ভিপি নুর

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।নিরাপদ সড়ক চাই–নিসচার চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের করা ওই মামলা প্রত্যাহার না করলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ার দিয়েছেন তারা। তবে শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের শ্রমিকদের এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে

সরব হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন কোটা আন্দোলনের এ নেতা।নুর বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন মামলা না তুললে শাজাহান খানের জন্য নাকি ৭০ লাখ শ্রমিক মাঠে নামবে!– ওরে বাটপার!’ শ্রমিকদের হুশিয়ার করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকারীরা এবার রাস্তায় নামলে তোমাগো খবর আছে।

তোমরা রাস্তায় নামো ভাড়ায় আর ইলিয়াস কাঞ্চন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামে দেশপ্রেমের টানে, গণমানুষের কল্যাণে।’‘সুতরাং বাটপারির হু মকি-ধমকি বাদ দিয়ে লাইনে এসো, দেশের জন্য কাজ করো, তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের ভাড়ায় খাটা বাদ দাও।’প্রসঙ্গত গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এ মামলা করা হয়।ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিযোগ, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর শাজাহান খান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে অসত্য, বানোয়াট ও উদ্ভট তথ্য দিয়েছেন।সেদিন শাজাহান খান বলেছিলেন– ‘ইলিয়াস কাঞ্চন কোথা থেকে কত টাকা পান, কী উদ্দেশ্যে পান, সেখান থেকে কত টাকা নিজে নেন, পুত্রের নামে নেন, পুত্রবধূর নামে নেন, সেই হিসাবটা আমি জনসম্মুখে তুলে ধরব’, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

আরো পড়ুন… দেশকে এগিয়ে নিতে কী কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তা আমি জানি: প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কী কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তা আমি জানি। সব ব্যাথা বুখে চেপে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।মঙ্গলার একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও অধিবেশনের সমাপ্তি ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

বাংলাদেশ যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এটা শুধু আমরা বলছি না, বিশ্বের বড় বড় গবেষকরাও তা স্বীকার করছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে বিনিয়োগের নির্ভরযোগ্য জায়গা। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ থেকে অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে রয়েছি।
জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীতে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

আমরা ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপন করবো। জাতির পিতার নাম এক সময় ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল, ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দিতে সারাজীবন কষ্ট করে গেছেন জাতির পিতা। তার নেতৃত্বেই আমরা দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। অথচ বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা’কারীদের বিচার না করে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

খালেদা জিয়া ভোটচুরি করে বঙ্গবন্ধুর খু’নি ফারুক-রশীদকে সংসদে বসিয়েছেন, বি’রোধী দলের নেতা পর্যন্ত বানিয়েছেন। জেনারেল এরশাদও ফ্রিডম পার্টি গঠন করে বঙ্গবন্ধুর আরেক খু’নিকে রাষ্ট্রপতির প্রার্থী করেছিলেন। এ সময় আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে কী কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তা আমি জানি। সব ব্যাথা বুখে চেপে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। একটাই কারণ, আমার বাবা জাতির পিতা দেশের মানুষের জন্য সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে,

তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সমস্ত জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি নিজের সুখের কথা চিন্তা না করে দেশের মানুষ যেন ভাল থাকে, তারা যেন সুখের মুখ দেখে। দেশটা যেন এগিয়ে যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। শুধু চাই দেশের মানুষ যেন সুন্দর জীবন পায়, বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে।’ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বর্ষব্যাপী আয়োজন মুজিববর্ষকে সামনে রেখে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন