বাবাকে জবাই করে মাথা নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে থানায় গিয়ে নিজেই জিডি করল ছেলে কিন্তু কেন?

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে পারিবারিক বিরো’ধের জেরে পিতাকে গলা কে’টে হ’ত্যার পর মাথা নদীতে ফেলে দেয় পুত্র ও তার সহযোগীরা। পরে নিজেই পিতা নি’খোঁজ উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরবর্তীতে ছেলের অ’স্বাভাবিক আচর’ণের সূত্র ধরে ঘটনার রহ’স্য উদঘা’টন করে পুলিশ। ছ’দ্মবেশে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ থেকে আ’টক করা হয় ভাড়াটে খু’নি মনির আহমেদ ও হ’ত্যাকা’ণ্ডে জড়িত তার শ্বাশুড়ি সুফিয়া খাতুনকে।

আজ বুধবার বিকেলে তারা আদালতে স্বী’কারোক্তিমূলক জবা’নব’ন্দি দিয়েছে। বুধবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।গ্রেফতা’রকৃতদের স্বীকারো’ক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সিলেট এমসি কলেজে অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত

কাউসার আহমেদ তার বাবা উমর আলী নি’খোঁজ হয়েছেন বলে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে উমর আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে ত’দন্তকারী কর্মকর্তা আজমিরীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু হানিফ বিভিন্ন সময় ছদ্মবেশে গিয়ে জানতে পারেন সাধারণ ডায়েরির পর থেকেই উমর আলীর ছেলে কাউসার বাড়িতে থাকা গরু বিক্রি করতে থাকে।

এছাড়া জায়গা-সম্পত্তির কাগজপত্র হাতিয়ে নেয় সে। এদিকে গত ২৩ জানুয়ারি উমর আলী’র ভাই নায়েব আলী বাদী হয়ে উমর আলীর ছেলে কাউসার আহমেদ (২০), কাউছারের মা পিপি বেগম (৫৫), মেয়ে মমতা বেগম (৩০), অপর ছেলে আল-আমিন (২৫) ও ভাতিজা সাদেক মিয়া (৪৫)কে আ’সামি করে আদালতে একটি অপহ’রণ মাম’লা দায়ের করেন। মা’মলাটি থানার আসার পর পুরো উ’দ্যোমে শুরু হয় তদ’ন্ত।

গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ নিশ্চিত হয়, উমর আলী নি’খোঁজের পর থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভার নয়াগ্রাম এলাকার এমাদ উদ্দিনের ছেলে মনির আহমেদ (৩০) এর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে উমর আলীর ছেলে কাউসার। এর পর থেকেই মনিরকে গ্রেফ’তারে অভি’যান শুরু করে পুলিশ। ছদ্ম’বেশ ধারণ করে কয়েকদিনের চেষ্টায় গত মঙ্গলবার জকিগঞ্জের

সী’মান্ত এলাকা থেকে গ্রে’ফতার করা হয় মনিরকে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সিলেটে তার সাথে কাউসারের পরিচয় হয়। সেখানেই উমর আলীকে হ’ত্যার পরি’কল্পনা করে তারা। চু’ক্তি হয় ৫ হাজার টাকায়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হাজী উমর আলীর ২য় বিয়ে থেকে। ২য় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকায় ১ম স্ত্রী কাউসারের মা পিপি বেগম বাদী হয়ে উমর আলীর বিরু’দ্ধে মা’মলা করেন।

পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৩১ জানুয়ারি মোবাইল ফোনে মাম’লা আপো’ষের কথা বলে বাড়ি থেকে উমর আলীকে নিয়ে যায় সিলেটে। সেখান থেকে নেয়া হয় বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইছড়া গ্রামে মনির আহমেদের শ্বশুর বাড়ির পাশে একটি টিলায় নিয়ে যায় উমর আলীকে। সেখানে মনিরসহ অন্যান্য ঘা’তকরা উমর আলীকে জ’বাই করে তার দে’হ থেকে মা’থা বি’চ্ছিন্ন করে তারা।

পরে পরিচয় যাতে সনা’ক্ত না হয় সেজন্য মাথাটি পার্শ্ববর্তী সোনাই নদীতে ফে’লে দেয়া হয় আর লা’শ পড়ে থাকে টিলায়। মনিরের এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের স’হায়তায় ঘটনাস্থলে যান তদ’ন্তকারী কর্মকর্তা। গত ২১ জানুয়ারি ওই টিলা থেকে লা’শের ক’ঙ্গাল উ’দ্ধার করেছিল পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ১টি লুঙ্গি ও ১টি কালো জ্যা’কেট জ’ব্দ করা হয়।

পরে ডিএনএ সংর’ক্ষণ করে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের সহায়তায় অজ্ঞা’তনামা হিসেবে করা হয় দা’ফন। মঙ্গলবার লুঙ্গি ও জ্যাকেট নি’হত উমর আলীর বলে সনা’ক্ত করে ঘা’তক মনির। এ ঘটনায় মনিরকে সহযোগিতার অভিযো’গে তার শ্বাশুড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইউড়া গ্রামের মৃ’ত জুবেদ আলীর স্ত্রী সুফিয়া খাতুনকে গ্রে’ফতার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার জানান,

ঘাতক ছেলে কাউসারকে গ্রেফতারে অ’ভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার ৫ আসা’মিসহ ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কি না এ ব্যাপারে ত’দন্ত চলছে। তবে তদ’ন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু বলা হচ্ছে না।সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোঃ সেলিম, আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু হানিফসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।