দেশকে এগিয়ে নিতে কী কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তা আমি জানি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কী কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তা আমি জানি। সব ব্যাথা বুখে চেপে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।মঙ্গলার একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও অধিবেশনের সমাপ্তি ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

বাংলাদেশ যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এটা শুধু আমরা বলছি না, বিশ্বের বড় বড় গবেষকরাও তা স্বীকার করছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে বিনিয়োগের নির্ভরযোগ্য জায়গা। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ থেকে অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে রয়েছি।
জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীতে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

আমরা ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপন করবো। জাতির পিতার নাম এক সময় ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল, ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দিতে সারাজীবন কষ্ট করে গেছেন জাতির পিতা। তার নেতৃত্বেই আমরা দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। অথচ বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা’কারীদের বিচার না করে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

খালেদা জিয়া ভোটচুরি করে বঙ্গবন্ধুর খু’নি ফারুক-রশীদকে সংসদে বসিয়েছেন, বি’রোধী দলের নেতা পর্যন্ত বানিয়েছেন। জেনারেল এরশাদও ফ্রিডম পার্টি গঠন করে বঙ্গবন্ধুর আরেক খু’নিকে রাষ্ট্রপতির প্রার্থী করেছিলেন। এ সময় আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে কী কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে তা আমি জানি। সব ব্যাথা বুখে চেপে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। একটাই কারণ, আমার বাবা জাতির পিতা দেশের মানুষের জন্য সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে,

তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সমস্ত জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি নিজের সুখের কথা চিন্তা না করে দেশের মানুষ যেন ভাল থাকে, তারা যেন সুখের মুখ দেখে। দেশটা যেন এগিয়ে যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। শুধু চাই দেশের মানুষ যেন সুন্দর জীবন পায়, বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে।’ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বর্ষব্যাপী আয়োজন মুজিববর্ষকে সামনে রেখে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন