কে সত্য কথা বলছেন, কাদের না ফখরুল?

হঠাৎ রাজনীতি মাঠে আলোচনায় উঠে এসেছে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ ওবায়দুল কাদেরের সাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের আলমগীরের ফোনালাপ। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে খালেদার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে পর্দার আড়ালে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে (১৪ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, খালেদা জিয়ার প্যারোলের মুক্তির বিষয়ে তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমার সঙ্গে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের টেলিফোনে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন,

আমি যেন প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে বলি। এরপর থেকেই এনিয়ে সংবাদপত্র, টিভি টকশোতে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এসব নিয়ে এতোদিন ফখরুল ছিলেন নিশ্চুপ। অথচ ৪ দিনের মাথায় কাদেরের সঙ্গে প্যারোলের বিষয়ে কথা হয়নি বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার পরিবার চাইলে প্যারোল চাইতে পারে।

কিন্তু দল কখনো প্যারোলের কথা বলেনি।অন্যদিকে ফখরুল প্যারোল নিয়ে ফোনালাপের কথা অস্বীকার করার ২ ঘণ্টা না যেতেই এবার ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তিনি (ফখরুল) আমাকে ফোন করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে অনুরোধ করেছেন, যার প্রমাণ আছে, চাইলেই দিতে পারি। রাজনীতিতে এতো নীচে নামতে চাই না।

তিনি বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে নতুন নতুন ইস্যু খুঁজছে। খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন নাটক করছে।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যতটা না ব্যস্ত তার থেকে এটা নিয়ে রাজনীতি করতে ব্যস্ত বিএনপি।

খালেদা জিয়ার শারীরিক বিষয়টা নিয়ে নতুন নতুন নাটক করছে। খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলা তার জামিনের বিষয় আদালতের। তারা এখনও প্যারোলের আবেদনই করেনি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্যারোলের বিষয়ে কাদের সঙ্গে কথা বলে দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের চাপে আছেন ফখরুল। জোটের মধ্যেও এনিয়ে চলছে বিতর্ক। তাই হয়তো চাপ এড়াতে প্যারোলের বিষয়টি অস্বীকার করছেন।