মৃ’ত ঘোষণার পর হঠাৎ জেগে উঠলো চুমকি হিজড়া

কুমিল্লার লাকসামে সোলেমান হোসেন চুমকি (৩০) নামক এক হিজড়া বি’ষপানে আ’ত্মহ’ত্যা চেষ্টার পরপরই তাকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত সহকারী নার্স আবুল খায়ের (৪৯) তাকে দেখেই মৃ’ত ঘোষণা করেন। ওই হিজড়াকে হাসপাতালে নিয়ে আসা অন্যান্যরা তা মানতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত তাকে ওয়াশ করতে গেলেই হঠাৎ জেগে উঠে নার্স কর্তৃক মৃ’ত ঘোষণা করা হিজড়া চুমকি!

এ সময় ক্ষু’ব্ধ চুমকি ও অন্যানরা ওই সহকারী নার্সকে মা’রধর করেই ক্ষা’ন্ত হয়নি, হা’মলা চালিয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার এই ঘটনায় লাকসাম থানায় মা’মলা হয়েছে।
চুমকি ও সঙ্গীয়রা জানান, চুমকিকে না জানিয়ে তার ছোট ভাইকে বিয়ে এবং টুনি নামক এক হিজ’ড়া হঠাৎ তাকে ছেড়ে লাকসাম থেকে ঢাকা

চলে যাওয়ার অভি’মানে সোমবার বিকেলে তিনি লাকসামের ভোজপাড়ার বাসায় বি’ষপান করেন। এ সময় অন্যান্য হিজ’ড়ারা বাসায় ছিল না। খবর পেয়ে দ্রুত ২/৩ জন ছুটে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। এ সময় জরুরি বিভাগে থাকা সহকারী নার্স আবুল খায়ের তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন বলে চুমকি ও তার সাথে হাসপাতালে আসা সঙ্গীদের অভিযোগ।

তারা চুমকির মৃ’ত্যুর বিষয়টি বিশ্বাস না করায় একপর্যায়ে আবুল খায়েরকে ওয়াশ করতে বাধ্য করেন। ওই নার্স পাইপ দিয়ে তাকে ওয়াশ শুরু করেন। এ সময় নলের আঘা’তে হঠাৎ রোগী চুমকি জেগে উঠে নার্স আবুল খায়েরের ওপর হা’মলা চালায়। তার সাথে অন্য হিজড়ারাও হাম’লায় অংশ নেয়। এ সময় তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী নার্স আবুল খায়ের তার ওপর হামলা ও হাসপাতালে ভা’ঙচুরের বিষয়ে লাকসাম থানায় লি’খিত অভি’যোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বি’ষ সে’বনকারী চুমকিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরই তাকে কুমিল্লা কুচাইতলী হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় তারা তাকে চিকিৎসা করানোর জন্য বাধ্য করেন।

এ সময় তিনি জরুরি বিভাগের বিছানায় চুমকিকে শুইয়ে নাকে ও মুখে পাইপ দিয়ে ওয়াশের চেষ্টা করলে সে শোয়া অবস্থা থেকে উঠে অন্যান্যদের সহযোগিতায় তার ওপর হা’মলা চালায় এবং জামা কাপড় খুলে ফেলে। হিজড়ারা জরুরি বিভাগের টেবিলের, প্লাস্টিকের চেয়ার ও অন্যান্য জিনিষপত্র ভাঙচুর করে ৩/৪ হাজার টাকার ক্ষ’তি সাধন করে। তিনি হিজড়াদের অভি’যোগ অ’স্বীকার করে বলেন, আমি তাকে মৃ’ত ঘোষণা করিনি।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল আলী বলেন, হিজ’ড়ারা সহকারী নার্স আবুল খায়েরকে মা’রধর ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভা’ঙচুর চালিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভি’যোগ দেওয়া হয়েছে। লাকসাম থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে সহকারী নার্স আবুল খায়ের থানায় লি’খিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় মা’মলা হয়েছে। দো’ষীদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।