মালয়েশিয়ায় আজহারী: এদিকে তাকে নিয়ে যা বললেন হাফিজুর রহমান

সময়ের আলোচিত বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সকল মাহফিল স্থগিত করে পাড়ি জমিয়েছেন। তার বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পেছনে আরেক আলোচিত ইসলামিক বক্তা হাফিজুর রহমানের ইন্ধন রয়েছে, এমন বাকবিতন্ডা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
উভয়ের ভক্তকুলের এমন হাজারো প্রশ্নের অবসান ঘটায় হাফিজুর রহমান নিজেই।রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)

অনলাইন চেঞ্জ টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মিজানুর রহমান আজহারী বিদেশে পাড়ি জমানোর পেছনে আমার হাত! প্রশ্নই আসে না। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে দিল থেকে অনেক মহব্বত করি। হাফিজুর রহমান বলেন, আজহারীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছুই বলিনি, এবং তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেও আমি সমর্থন করি না।

আমি আমার গতিতে চলছি। আমার লক্ষ্য মানুষকে দ্বীনের পথে সামিল করানো। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমি প্রতিটি আলোচনায় সকল মুসল্লিদের বিশেষ করে যুবকদের উদ্দেশ্যে বলে থাকি ওলামায়ে কেরাম যে লাইনের হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলবেন না এবং লিখবেনও না। যদি তাদের বিশেষ কোনো সমস্যা থাকে তাহেলে ওলামায়ে কেরামরা বসে সমাধান করে নিবেন।

আরো পড়ুন… এবার সিলেটে যে কারণে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর সব ওয়াজ নি;ষিদ্ধ(ভিডিও-সহ)
সময়ের আলোচিত বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর সব ওয়াজ মাহফিল নিষিদ্ধ করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়া হয়।বৈঠকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ছাড়াও আলেম, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ২০ জানুয়ারি সিলেট কানাইঘাটের মুকিগঞ্জ বাজার জামেয়া মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে আজহারীকে প্রধান অতিথি করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে প্রশাসন কানাইঘাটে আজহারীর আগমন স্থগিত করে দেয়। ওই দিন দরবস্তের হাজারী সেনাগ্রাম মাঠ, ওসমানীনগরসহ ৩টি মাহফিলে বয়ান করার কথা ছিল মাওলানা আজহারীর।

এমন খবরে কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় চাপা উত্তেজনা দেখা দিলে বুধবার বৈঠক ডেকে আজহারীর আগমন স্থগিত করে দেয় প্রশাসন।বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মিজানুর রহমান আজহারীর বিভিন্ন বিতর্কিত ওয়াজ নিয়ে আলোচনা করা হয়।এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু আজহারীর বয়ান বিতর্ক তৈরি করছে,

সুতরাং সিলেটে আজহারীর অনুষ্ঠিতব্য সব মাহফিলে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে সিলেটে কোনো ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,

সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আলীম উদ্দিন দুর্লভপুরী, হরিপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ,হেমু দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জিল্লুর রহমান, দরবস্ত মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, জৈন্তাপুর লাম্নিগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম আবদুল জব্বার, হরিপুর মাদ্রাসার শায়খুল হাদিছ মাওলানা নজরুল ইসলাম,

জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ! উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর, উপ-দফতর সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, কানাইঘাট উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ শাকের, কানাইঘাট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন,

ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ।কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারিউল করিম বলেন, আজহারীর ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে এই বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে আজহারীর সিলেট আগমন স্থগিত করা হয়।এর আগে গত মঙ্গলবার কানাইঘাট দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসায় সভা করে আজহারীকে ‘ইসলামবিরোধী ফতোয়াবাজ’ আখ্যা দিয়ে কানাইঘাটে তাকে প্রতিরোধের ডাক দেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কানাইঘাট দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস। বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আল্লামা আলিমুদ্দীন শায়খে দুর্লভপুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জামাল উদ্দীন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল্লাহ শাকির,

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএইচ আবদুল্লাহ, আল্লামা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরীসহ সিলেটের কয়েকজন শীর্ষ আলেম।অপরদিকে কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ একটি প্রতিনিধি দল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান ও থানার ওসি শামসুদ্দোহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা কানাইঘাটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন