যে কারণে খালি হাতে ফিরলেন সাড়ে ৫ হাজার প্রবাসী!

সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসেই বাধ্য হয়ে ফিরে আসছেন শত শত প্রবাসী। বলা যায় তাঁদের এক ধরনের জো’র করেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশটি থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেরত আসার সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলছে।এখন আর বৈধ বা অ’বৈধ কোনো বাছবিচার নেই, সৌদি পু’লিশ অ’ভিযানে যাঁকে পাচ্ছে তাঁকেই ধরে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ দেশটি থেকে আরো ১৪৫ বাংলাদেশিকে

ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (এসভি-৮০২) তাঁরা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ৪৬ দিনে সৌদি থেকে খালি হাতে ফিরলেন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি।প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় বিগত দিনগুলোর মতো শনিবারও ফেরত আসাদের ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার ফেরত আসা কুমিল্লার শহিদুল ইসলাম মাত্র তিন মাস আগে তিন লাখ টাকা খরচ করে ড্রাইভিং ভিসায় গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকেও দেশে ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে।আক্ষেপভরা কণ্ঠে শহিদুল বলেন, ‘ধারদেনা করে সৌদি গিয়ে চেয়েছিলাম সংসারের সচ্ছলতা আনতে, কিন্তু কপাল খারাপ, খালি হাতেই ফিরতে হলো। এখন ঋণের বোঝা নিয়ে যুদ্ধ করতে করতেই পার করতে হবে বাকি জীবন।’

মাত্র আট মাসের মাথায় নরসিংদীর শিবপুরের একই গ্রামের দুই যুবক বিজয় মিয়া ও নাজির উদ্দিনও দেশে ফিরেছেন। বিজয় মিয়া বলেন, ‘তিন লাখ টাকা খরচ করে ড্রাইভিং ভিসাতে সৌদিতে যাওয়ার পর নিয়োগকর্তা আমাকে আকামা করে দেননি।যাঁর মাধ্যমে বিদেশে গেলাম তিনিও কিছুই করলেন না। আকামার জন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার সময় পুলিশ আটক করে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

আরো পড়ুন…প্রবাস এতো কষ্ট করে দেশের এয়ারপোর্টে এসেও মাথায় বোঝা নিয়ে হাঁটতে হয় প্রবাসীদের। পরিবারের সুখ ও আর্থিক সচ্ছলতার জন্য নিজের মা- বাবা , ভাই- বোন , ছেলে – মেয়ে ও স্ত্রী এবং আত্মীয় স্বজন রেখে যখন একজন প্রবাসী বিদেশে আসেন। তখন নিজের সুখ ও বিলাসি জীবন পরিত্যাগ করে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দিনরাত কাজ করে দেশে টাকা পাঠান। আর এতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয় প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো টাকায়।

আর এই প্রবাসীরা যখন বিদেশে রক্ত ঘাম ঝরিয়ে দেশে আসে একটু শান্তির জন্য, নিজেদের পরিবারের সাথে কিছু দিন, কিছু মুহূর্ত তাদের পাশে থেকে কাটাবে সেই আশা বুকে নিয়ে । তখন এখানে এসেও পরিবারের সদস্যদের জন্য আনা জিনিসপত্রের বোঝাটা মাথায় নিয়ে হেঁটে এয়ারপোর্ট এলাকা পার হতে হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদেরকে । এর চেয়ে দুঃখ আর কিসে??

আমাদের দেশে এয়ারপোর্টের বাহিরে বাস বা ট্রেন পর্যন্ত যেতে নির্দিষ্ট কোন বাহনের ব্যবস্থা নেই। এতে যেমন প্রবাসীরা, সিএনজি, কার (লাইটেস) সহ বিভিন্ন পরিবহনের চালকদের দ্বারা প্রতিনিয়ত হয়রানি হচ্ছেন। তেমনিভাবে ছিনতাই কারীরাদের খপ্পরে পড়ে অনেকে সবকিছু খোওয়াতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে আবার অনেকে পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে নির্দিষ্ট বাস স্টেশনে।

দেশের মাটিতে পা রেখে এমন কষ্টে অনেকের চোখের পানি চলে আসে। কিন্তু বিশ্বের প্রায় অনেক দেশেই এয়ারপোর্টে বাস বা ট্রেন স্টেশন আছে। এতে বিমান বন্দরে থেকে একজন যাত্রী অতি সহজে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। যেমন ফ্রান্স: এখানে এয়ারপোর্ট গুলোতে বাস সার্ভিস ও ট্রেন স্টেশন রয়েছে । একজন যাত্রী বিমান বন্দরের নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে বের হয়ে খুবই সহজে

ট্রেন বা বাস উঠে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। সম্প্রতি একজন সৌদি আরব প্রবাসী দেশে আসেন ছুটি কাটাতে। তিনি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাস স্টেশনের যাওয়ার জন্য বাহিরে বের হয়ে নির্দিষ্ট কোন বাহন পাননি। তাই নিরুপায় হয়ে নিজে মাথায় করে দেশে আত্মীয় স্বজনের জন্য আনা জিনিসপত্রের বোঝা নিয়ে হাঁটতে থাকেন। তখন একজন পথচারী ছবি তুলে

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম Facebook কে পোস্ট করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাই সরকার এ দিকে একটু নজর দিলে
কোন প্রবাসীকে হয়তো আর এরকম কষ্টের সম্মুখীন হতে হতো না!! প্রবাসীরা খুবই সহজে বিমানবন্দরে ত্যাগ করে তাদের প্রিয়জনদের কাছে যেতে পারবে। প্রবাসীদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই দাবি – দেশের মাঠিতে পা রেখে যেন একজন প্রবাসীকে এরকম বোঝা মাথায় নিয়ে হাঁটতে না হয়।