অন্যের কবর খুঁড়তে গিয়ে নিজেই মা’রা গেলেন সেই কবরে

কবর খুঁড়ার সিদ্ধহাত ছিল চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী চৌধুরী বাড়ীর আবদুর রসিদ চৌধুরীরের। তাই কোথাও মানুষ মা’রা গেলে ডাক পড়তো তার। খুশী মনে ছুটে যেতেন কাছে কিংবা দূরের কোথাও। মনের মত করে কবর খুঁড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন । এ পর্যন্ত খুঁড়েছেন শতাধিক কবর। ১৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ীর পাশে ডাঃ হারুনের বাড়ীতে জনৈক নুর-নাহার নামের এক মহিলার মৃ’ত্যুর খবর শুনে নিজের চায়ের দোকান বন্ধ করে ছুটে গিয়েছিলেন কবরস্থানে।

প্রায় ৭০ বছর বয়সে জোয়ানের মত হাতে তুলে নিলেন কোদাল। কোদাল চালানোর এক পর্যায়ে হঠাৎ কবরের ভেতর নিজেই ঢলে পড়লেন। বিধাতার কি অমোঘ নিয়ম! অন্যের খবর খুঁড়তে গিয়ে নিজেই অন্যের হাতে খোঁড়া কবরে শা’য়িত তিনি। নি’হত আবদুর রসিদ চৌধুরী চট্টগ্রামবোয়ালখালীর পশ্চিম সারোয়াতলীর মৃ’ত ইউসুপ আহমদ চৌধুরীর পুত্র। তিনি ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ের জনক।

আজকের আলোচিত খবর…মাত্র কয়েকদিন আগে একটি ভিন্নরকম বিষয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থা*নার ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) আশিকুর রহমান, পিপিএম। দৌলতদিয়া যৌ’নপল্লীর এক যৌ’নকর্মীর জানাজা-দাফন ও কুলখানি করে বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় আসেন তিনি। বড় বড় আন্তর্জাতিক মিডিয়া এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে; কারণ ওই যৌ’নপল্লীর যৌ’নকর্মীদের কখনো দাফন-কাফন করা হতো না।

এবার তিনি নিজ কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছেন। চলতি মুজিববর্ষে পু’লিশের স্লোগান ছিল, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পু’লিশ হবে জনতার’। আশিকুর রহমান যেন বিষয়টিকে বাস্তবে পরিণত করলেন। গোয়ালন্দঘাট থা*নার ফেসবুক আইডিতে নিজের অফিস কক্ষের দরজার সামনে টাঙানো একটি ব্যানারের ছবি পোস্ট করেন ওসি আশিকুর। যাতে লেখা রয়েছে,

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পু’লিশ হবে জনতার। ইহা একজন গণকর্মচারীর অফিস। যে কোনো প্রয়োজনে এ অফিসে ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন নেই। সরাসরি রুমে ঢুকুন। ওসি’কে স্যার বলার দরকার নাই।’ এ বিষয়ে ওসি আশিকুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমি তো বলব এটাই হওয়া উচিত। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়। সুতরাং, জনগনকে সেবা করাই আমাদের কাজ।’

এদিকে আশিকুর রহমানের পোস্ট করা সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। আজকের যুগে পু’লিশের প্রতি মানুষের যে বিরূপ একটি মনোভাব রয়েছে, তা আশিকুর রহমানের মতো কর্মক’র্তাদের জন্য অনেকটাই দূর হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তারা এমন একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আশিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।