কুয়েতে মানবপাচারে যুক্ত লক্ষ্মীপুরের এমপি শহিদ! ফাঁস হলো গোপন তথ্য…

কুয়েতে মানবপাচারে যুক্ত বাংলাদেশের তিন পাচারকারীর একজন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল।এই চক্রটি অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাঠিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছে বলে দাবি কুয়েত সিআইডির। তবে দেশটিতে গ্রেফতারর অভিযান শুরুর আগেই এমপি দেশে চলে এসেছেন বলে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় পত্রিকা এ খবর দিয়েছে।

গত বুধবার কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস ও আরব টাইমস সংসদ সদস্যসহ বাংলাদেশের মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।কুয়েতের গণমাধ্যমগুলো অভিযুক্ত এমপির নাম প্রচার করেনি। তবে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে খোঁজ নিয়ে বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিক জানিয়েছে, অভিযুক্ত এমপির নাম কাজী শহিদ ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ।আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,

তিন বাংলাদেশির একজন গ্রেফতার হয়েছেন। বাকি দুজন কুয়েত ছেড়ে পালিয়ে যান। চক্রটি ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে কুয়েতে এনে অন্তত ৫ কোটি কুয়েতি দিনার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা আয় করেছে। ওই চক্রের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশের একজন এমপি। যিনি নিয়মিতভাবে ঢাকা–কুয়েত আসা–যাওয়া করেন। তিনি কখনও কুয়েতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকেন না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানবপাচারের বিরুদ্ধে কুয়েতের সিআইডির অভিযানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এক সপ্তাহ আগে এমপি কুয়েত ছেড়ে যান। কুয়েতে তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ মাস ধরে কর্মীদের বেতন দিচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আরব টাইমসের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতে জনশক্তি রফতানির জন্য সরকারি কার্যাদেশ পেতে ঘুষ হিসেবে সেখানকার সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি দিয়েছেন ওই এমপি।

সংসদ সদস্য তার সম্পদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে সেখানকার এক নাগরিকের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ব্যবসা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে জানতে কুয়েত সিআইডির সঙ্গে দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তদন্ত চলমান বলে সিআইডি দূতাবাসকে এ মুহূর্তে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা জানিয়েছে।

তবে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দূতাবাসের অন্য একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানতে সিআইডিতে যোগাযোগ করা হয়। বিস্তারিত কিছু না জানালেও আটক একজন বাংলাদেশির মাধ্যমে ওই অপরাধী চক্রের মানব পাচারে যুক্ততার বিষয়টি সিআইডি দূতাবাসকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কারণে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি এ ধরনের কোনো অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত নই। আমি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি।’