প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করলে ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আন্তরিক থাকবেন’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ‘মানবিকতা’ চেয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করার পর দিন এ কথা বললেন সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।

গতকাল শনিবার ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।এ সময় রাষ্ট্র খালেদা জিয়ার বিষয়ে আন্তরিক জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া জেলখানায় আছেন, উনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সংবিধানের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান সুযোগ পাবেন,

বেগম জিয়া যেহেতু একটি দলের প্রধান এবং উনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার ব্যাপারে রাষ্ট্র অত্যন্ত আন্তরিক।’ এ সময় আইনের বিধির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ সময় ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিক জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেটুকু সুযোগ আছে, সীমাবদ্ধতা এবং সুযোগ সবই আমার মনে হয় রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য যেমনি আন্তরিক, খালেদা জিয়ার বেলায়ও সেখানে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য আন্তরিক থাকবেন। কিন্তু সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার যত সুযোগ আছে সেই সুযোগের বেশি তো আর দেয়া যায় না।’

আরো পড়ুন… মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার মু’ক্তি দাবি বিএনপির !! আবারও মানবিক কারণে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করবো, মানবিক কারণে জনগণের দাবিকে সম্মান করে সরকার অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মু’ক্তি দেবে।’ শনিবার(১৫ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে আয়োজিত বি’ক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মু’ক্তির দাবিতে বেলা ২ টায় নয়াপল্টন থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বি’ক্ষোভ মিছিল করার কথা ছিল বিএনপির। কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করতে না পেরে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বি’ক্ষোভ সমাবেশে করেন। এর আগে শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং গত ১১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামও সম্পূর্ণ মানবিক

কারণে তাকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। আজ ২ বছর ৭ মাস তাকে বিনা অপরাধে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি খুব অসু’স্থ। আমরা বারবার তার মু’ক্তি দাবি করেছি। জামিন চেয়েছি। তার চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি। আমরা সরকারের কাছে থেকে কোনও সাড়া পাইনি।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকের বেআইনি সরকার দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করার জন্য নির্যাতন-নি’পীড়নকে বেছে নিয়েছে। আমাদের অসংখ্যা নেতাকর্মীকে তারা খুন, গুম করেছে।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষো’ভ সমাবেশ ছিল আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। পুলিশ সকাল থেকেই এই অঞ্চলে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রে’ফতার করেছে।

কার্যালয়ের সামনে বাধা দিয়েছে। ফজলুল হক মিলনসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফ’তার করেছে।’ সমাবেশে শেষে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কোনও সুযোগ দিতে চাই না। দয়া করে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে যাবেন। আর পরবর্তী কর্মসূচি পরে ঘোষণা করবো।’ শিগ’গিরই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আশা প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজ নেতাকর্মীদের মধ্যে যে সাহস দেখেছি, এভাবে যদি আপনারা রাস্তায় থাকেন, তাহলে অচিরেই তাকে মুক্ত’ করতে পারবো।’ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের বুকে সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গু’লি, গু’ম, হ’ত্যা করে প্রতিবাদ দমানো যাবে না। যেকোনও প্রক্রিয়া নেতাকর্মীরা সফল হবেন। এবার খালেদা জিয়াকে মু’ক্ত করেই ছাড়বো।’

সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে খালেদা জিয়ার ন্যায পাওয়ানা জামিনকে বাধা’গ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। তিনি বলেন, ‘তাকে মু’ক্ত করে আমরা আবারও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো।’ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান হোসেল প্রমুখ।